The Kitáb-i-Aqdas - Notes

1. আমার পোশাকের মধুর সুঘ্রাণ আস্বাদন। ¶4
এটি কোরআন ও পুরাতন নিয়মে বর্ণিত ইউসুফের কাহিনীর প্রতি একটি পরোক্ষ উল্লেখ, এতে ইউসুফের ভ্রাতাগণ কর্তৃক তাদের পিতা ইয়াকুবের কাছে আনীত ইউসুফের পোশাক ইয়াকুবকে তাঁর দীর্ঘকাল পূর্বে হারানো পুত্র সনাক্ত করতে সমর্থ করেছিল। সুরভিত “পোশাক”-এর রূপক উপমাটি ঈশ্বরের প্রকাশ ও তাঁর প্রত্যাদেশের স্বীকৃতি উল্লেখের জন্য বাহা’ই লিখনাবলীতে বারংবার ব্যবহৃত হয়েছে।
  	বাহা’উল্লাহ তাঁর ফলকলিপিসমূহের একটিতে নিজেকে “স্বর্গীয় ইউসুফ” রূপে বর্ণনা করেন যাকে অমনোযোগীদের দ্বারা “অতি নগণ্য মূল্যে” বিনিময় করা হয়েছে। ক্বায়ুমুল আসমায় বা’ব, বাহা’উল্লাহকে “প্রকৃত ইউসুফ” রূপে সনাক্ত করেন এবং সেই কঠোর পরীক্ষাসমূহের ভবিষ্যদ্বাণী করেন যা তিনি তাঁর বিশ্বাসঘাতক ভ্রাতার হাতে ভোগ করবেন (টীকা 190 দ্রষ্টব্য)। অনুরূপভাবে, আব্দুল বাহা’র প্রসিদ্ধি তাঁর বৈমাত্রেয় ভ্রাতা মির্জা মুহাম্মদ আলীর মধ্যে যে তীব্র হিংসা জাগ্রত করেছিল, এবং ঐ মারাত্মক ঈর্ষা “যা ইউসুফের অধিকতর উৎকর্ষ তাঁর ভ্রাতাদের হৃদয়ে প্রজ্বলিত করেছিল” এতদুভয়ের মধ্যে শৌগী এফেন্দী একটি সমান্তরাল রেখা এঁকেছেন।

2. শক্তি ও পরাক্রমের অঙ্গুলীসমূহ দ্বারা সর্বোৎকৃষ্ট মদিরার সিলমোহর ভাঙ্গিয়াছি ¶5
কিতাব-ই-আক্বদাস-এ মদ ও অন্যান্য নেশা উদ্রেককর বস্তুসমূহের ব্যবহার নিষিদ্ধ (টীকা 144 টীকা 170 দ্রষ্টব্য)।
  “মদিরা” ব্যবহার করার উল্লেখ একটি রূপকার্থক অনুভূতি ¬ যেমন আধ্যাত্মিক পরমানন্দ লাভের কারণ - কেবল বাহা’উল্লাহর প্রত্যাদেশে-ই নয়, বাইবেলে, কোরআনে, এবং প্রাচীন হিন্দু শ্রুতিশাস্ত্রেও দৃষ্ট হয়।
  দৃষ্টান্তস্বরূপ, কোরআনে ধার্মিকদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, তাদেরকে “সর্বোৎকৃষ্ট সিলমোহরযুক্ত মদিরা” পান করতে দেওয়া হবে। বাহা’উল্লাহ তাঁর ফলকলিপিসমূহে “সর্বোৎকৃষ্ট মদিরা”কে তাঁর প্রত্যাদেশের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত করেছেন যার “কস্তুরীযুক্ত সুঘ্রাণ” “সমস্ত সৃষ্ট বস্তুর” উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি এই “মদিরার সিলমোহর ভাঙ্গিয়াছেন”, তদ্বারা সেই সব আধ্যাত্মিক সত্যসমূহ প্রকাশ করেছেন যেগুলো অদ্যাবধি অজ্ঞাত ছিল এবং যারা এর থেকে আকণ্ঠ পান করে, তাদেরকে “ঐশী একতার আলোর দীপ্তিসমূহ উপলব্ধি করিতে” এবং “ঈশ্বরের ধর্মগ্রন্থসমূহে অন্তর্নিহিত অপরিহার্য উদ্দেশ্য অনুধাবন করিতে” সমর্থ করেছেন।
  বাহা’উল্লাহ তাঁর ধ্যানসমূহের একটিতে বিশ্বাসীদের প্রতি “তাঁর করুণার সর্বোৎকৃষ্ট মদিরা” প্রদানের জন্য ঈশ্বরের নিকট সনির্বন্ধ মিনতি করেন, “যেন ইহা তাহাদিগকে তোমা ব্যতীত অপর সকলের প্রতি বিস্মৃতিশীল হইতে, এবং তোমার ধর্মের সেবা করিতে উত্থিত হইতে, এবং তোমার প্রতি তাহাদের প্রেমে অটল রাখিতে পারে।”
  আমরা তোমাদের প্রতি শ্লোকসমূহের অবতীর্ণকারী, ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে দ্বিপ্রহরে ও প্রভাতে এবং সন্ধ্যায় নয় রাকাত বাধ্যতামূলক প্রার্থনা নিবেদনের জন্য আদেশ প্রদান করিয়াছি ।

3. আমরা তোমাদের প্রতি......বাধ্যতামূলক প্রার্থনা নিবেদনের জন্যক আদেশ প্রদান করিয়াছি ¶6
  আরবী ভাষায় প্রার্থনার জন্য কয়েকটি শব্দ রয়েছে। “সালাত” শব্দটি যা এখানে মূলগ্রন্থে দেখা যায় তা প্রার্থনাসমূহের একটি বিশেষ শ্রেণীকে নির্দেশ করে, যা বিশ্বাসীদেরকে দিনের নির্দিষ্ট সময়গুলোতে আবৃত্তি করার জন্য আদেশ করা হয়েছে। অন্যান্য প্রকারের প্রার্থনা থেকে এই শ্রেণীকে পৃথক করার জন্য শব্দটিকে “বাধ্যতামূলক প্রার্থনা” রূপে অনুবাদ করা হয়েছে।
  বাহা’উল্লাহ বর্ণনা দিয়েছেন যে, “বাধ্যতামূলক প্রার্থনা ও উপবাস ঈশ্বরের দৃষ্টিতে একটি মহিমান্বিত মর্যাদা লাভ করেছে” ( প্রশ্ন ও উত্তর 93)। আব্দুল-বাহা দৃঢ়রূপে ঘোষণা করেন যে, এইরূপ প্রার্থনাসমূহ “বিনম্রতা ও আনুগত্যে, ঈশ্বরের প্রতি কারো মুখমন্ডল স্থাপনে ও তাঁর প্রতি ভক্তি প্রকাশে সহায়ক” এবং এই প্রার্থনাসমূহের মাধ্যমে “মানুষ ঈশ্বরের সাথে কথোপকথন করে, তাঁর নৈকট্য লাভে চেষ্টা করে, তাঁর হৃদয়ের প্রকৃত প্রিয়তমের সাথে কথাবার্তা বলে এবং আধ্যাত্মিক মর্যাদাসমূহ অর্জন করে”।
  এই শ্লোকে উল্লেখিত বাধ্যতামূলক প্রার্থনাটি (টীকা 9 দ্রষ্টব্য) বাহা’উল্লাহ কর্তৃক পরবর্তীকালে প্রকাশিত তিনটি প্রার্থনা (প্রশ্ন ও উত্তর 63) দ্বারা রদ করা হয়েছে। এই গ্রন্থে বর্তমানে প্রচলিত তিনটি প্রার্থনার মূলপাঠসমূহ, এইগুলোর আবৃত্তি সংক্রান্ত নির্দেশনাবলীসহ, কিতাব-ই-আক্বদাস-এর সম্পূরক কতিপয় রচনাবলীতে পাওয়া যাবে।
  প্রশ্ন ও উত্তরসমূহের কিছুসংখ্যক বিষয়, এই নতুন তিনটি বাধ্যতামূলক প্রার্থনার বিভিন্ন দিক আলোচনা করেছে। বাহা’উল্লাহ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই তিনটি প্রার্থনার মধ্যে যে কোন একটি একজন লোক বেছে নিতে অনুমতিপ্রাপ্ত (প্রশ্ন ও উত্তর 65)। অন্যান্য অনুবিধিসমূহ প্রশ্ন-উত্তরসমূহের প্রশ্ন-উত্তর 66, প্রশ্ন-উত্তর 67, প্রশ্ন-উত্তর 81, এবং প্রশ্ন-উত্তর 82 নম্বরে বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
  বাধ্যতামূলক প্রার্থনা সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন দিক সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সংহিতার ওঠ.অ. 1-17 অধ্যায়ে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে।

4. নয় রাকাত ¶6 
একটি রাকাত হচ্ছে, উপাসনাকালে জানু দ্বারা ভূমি স্পর্শ করা ও একপ্রস্ত নির্দিষ্ট বিচলনের সাথে সুনির্দিষ্টভাবে অবতীর্ণ শ্লোকসমূহের আবৃত্তি।
  বাহা’উল্লাহ কর্তৃক তাঁর অনুসারীদের প্রতি আদিষ্ট বাধ্যতামূলক প্রার্থনা মূলতঃ নয় রাকাত নিয়ে গঠিত ছিল। এই প্রার্থনাটির যথার্থ প্রকৃতি এবং ইহার আবৃত্তির নির্দিষ্ট নির্দেশনাসমূহ অজ্ঞাত, কারণ প্রার্থনাটি হারিয়ে যায়। (টীকা 9 দ্রষ্টব্য)
  বর্তমানে অবশ্যপালনীয় বাধ্যতামূলক প্রার্থনা সম্বন্ধে মন্তব্যকারী একটি ফলকলিপিতে আব্দুল-বাহা প্রকাশ করেন যে, “বাধ্যতামূলক প্রার্থনাটির প্রতিটি শব্দে ও বিচলনে পরোক্ষ উল্লেখসমূহ, রহস্যাবলী ও একটি বিজ্ঞতা রয়েছে, যা মানুষ হৃদয়ঙ্গম করতে অক্ষম, লিপিসমূহ ও পত্রাবলীও তা ধারণ করতে পারে না।”
  শৌগী এফেন্দী ব্যাখ্যা করেন যে, বাহা’উল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত নির্দিষ্ট প্রার্থনাসমূহের আবৃত্তির জন্য অল্প কিছু সহজ নির্দেশনাসমূহের যে কেবল একটি আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে তাই নয়, বরং এগুলো ব্যক্তিকে “প্রার্থনা ও ধ্যানকালীন সম্পূর্ণরূপে মনোযোগ নিবদ্ধ করতে” সাহায্য করে।

5. দ্বি-প্রহরে ও প্রভাতে এবং সন্ধ্যায় ¶6
“প্রভাত”, “দ্বিপ্রহর” ও “সন্ধ্যা” শব্দগুলির সংজ্ঞা সম্বন্ধে, যে সময়গুলিতে বর্তমানে অবশ্যপালনীয় মধ্যম বাধ্যতামূলক প্রার্থনা আবৃত্তি করতে হবে, বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেন যে, এইগুলি “সূর্যোদয়, মধ্যাহ্ন ও সূর্যাস্তের”(প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 83) সাথে যুগপৎ। তিনি বিশদভাবে বর্ণনা করেন যে, “বাধ্যতামূলক প্রার্থনাগুলির আবৃত্তির অনুমোদনযোগ্য সময়গুলি হচ্ছে প্রভাত থেকে মধ্যাহ্ন পর্যন্ত, মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, এবং সূর্যাস্ত থেকে দুই ঘণ্টা পর পর্যন্ত”। এ ছাড়াও, আব্দুল-বাহা বিবৃত করেন যে, প্রাভাতিক বাধ্যতামূলক প্রার্থনাটি উষালগ্নের মতো প্রাথমিক সময়ে আবৃত্তি করা যেতে পারে।

6. আমরা তোমাদিগকে একটি বৃহত্তর সংখ্যা হইতে অব্যাহতি দিয়াছি ¶6
বা’বী ও ইসলামী ধর্মবিধানে নির্ধারিত বাধ্যতামূলক প্রার্থনার সম্পাদন, 
কিতাব-ই-আক্বদাস-এ নির্দিষ্ট করে দেওয়া নয় রাকাত বিশিষ্ট বাধ্যতামূলক প্রার্থনার সম্পাদন অপেক্ষা অধিকতর কঠিন ছিল। (টীকা 4 দ্রষ্টব্য)
  বায়ান-এ বা’ব ঊনিশ রাকাতবিশিষ্ট একটি বাধ্যতামূলক প্রার্থনার বিধান দেন যা একদিনের মধ্যাহ্ন থেকে পরবর্তী মধ্যাহ্ন পর্যন্ত চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে একবার সম্পাদন করতে হতো। 
  মুসলিম প্রার্থনা এক দিনে পাঁচ বার আবৃত্তি করা হয়, যেমন, অতি-প্রত্যুষে, মধ্যাহ্নে, অপরাহ্ণে, এবং সন্ধ্যায়, এবং রাত্রে। আবৃত্তির সময়ানুসারে রাকাতের সংখ্যা বিভিন্ন হয়ে থাকে। এক দিনে মোট সতের রাকাত প্রার্থনা করা হয়।

7. যখন তোমরা এই প্রার্থনা সম্পাদন করিতে ইচ্ছা করিবে, তখন তোমরা আমার পরম পবিত্র উপস্থিতির প্রাঙ্গণের দিকে মুখ ফিরাইবে, এই পবিত্র স্থান যাহাকে ঈশ্বর ........অমরত্বের নগরসমূহের অধিবাসীদের উপাসনার কেন্দ্রবিন্দু হইবার জন্য আদেশ করিয়াছেন ¶6
“উপাসনার কেন্দ্রবিন্দু”টি সেই স্থান, যার প্রতি একজন উপাসক বাধ্যতামূলক প্রার্থনা সম্পাদনকালে মুখ ফিরাবে, যাকে কিব্লাহ্ বলা হয়। কিব্লাহ্-র ধারণা পূর্বেকার ধর্মসমূহে বিদ্যমান ছিল। এই উদ্দেশ্যের জন্য অতীতে জেরুজালেমকে নির্ধারণ করা হয়েছিল। মুহম্মদ উক্ত কিব্লাহ্ মক্কার দিকে পরিবর্তন করেন।
  আরবী ভাষার বায়ান-এ বা’ব-এর নির্দেশ ছিল:
“প্রকৃতপক্ষে তিনিই কিব্লাহ্ যাহাকে ঈশ্বর প্রকাশ করিবেন, যখনই তিনি স্থানান্তরিত হইবেন, ইহা স্থানান্তরিত হইবে, যতক্ষণ না তিনি স্থির হইবেন।’’ 
  বাহা’উল্লাহ কর্তৃক এই রচনাংশটি কিতাব-ই-আক্বদাস-এ উদ্ধৃত হয়েছে (টীকা 137) এবং উপরে উল্লেখিত শ্লোকটি অনুমোদিত হয়েছে। তিনি অধিকন্তু প্রকাশ করেছেন যে, “বাধ্যতামূলক প্রার্থনা আবৃত্তিকালীন কিব্লাহ্মুখী হওয়া একটি অপরিহার্য শর্ত” (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 14 ও প্রশ্ন-উত্তর 67)। কিন্তু অন্যান্য প্রার্থনা ও উপাসনার জন্য কোন লোক যে কোন দিকে মুখ ফেরাতে পারে।

8. যখন সত্য ও উচ্চারণের সূর্য অস্তমিত হইবে, তখন তোমাদের মুখমন্ডল ঐ স্থানের দিকে ফিরাইবে যাহা আমরা তোমাদের জন্য আদেশ করিয়াছি ¶6
বাহা’উল্লাহ্, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর বিশ্রামস্থলকে কিব্লাহ্ রূপে আদেশ করেছেন। পরম পবিত্র সমাধিটি আক্কার বাহ্জীতে অবস্থিত। আব্দুল-বাহা ঐ স্থানকে “উজ্জ্বল সমাধি” রূপে, “যে স্থানে চতুর্দিকে ঊর্ধ্বস্থিত জনতা প্রদক্ষিণ করে” রূপে বর্ণনা করেছেন ।
  তাঁর পক্ষ থেকে লেখা একটি পত্রে শৌগী এফেন্দী কিব্লাহ্র দিকে মুখ ফেরানোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করার জন্য সূর্যের দিকে উদ্ভিদের মুখ ফিরানোর উপমা দিয়েছেন:
  .... ঠিক উদ্ভিদ যেরূপ সূর্যালোকের দিকে প্রসারিত হয় - তা থেকে ইহা জীবন ও ক্রমবিকাশ লাভ করে - তদ্রƒপ যখন আমরা প্রার্থনা করি আমাদের হৃদয়সমূহকে আমরা ঈশ্বরের প্রকাশ, বাহা’উল্লাহর দিকে  ফিরাই; ... আভ্যন্তরিক ক্রিয়ার একটি নিদর্শনস্বরূপ আমরা আমাদের মুখমন্ডল সেই স্থানের দিকে ফিরাই, যেখানে এই পৃথিবীতে তাঁর ধূলি বিদ্যমান রয়েছে।

9. আমরা অন্য একটি ফলকলিপিতে বাধ্যতামূলক প্রার্থনার বিশদ বর্ণনা প্রদান করিয়াছি ¶8
“বিজ্ঞতাবশতঃ” বাহা’উল্লাহ কর্তৃক একটি পৃথক ফলকলিপিতে (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 63) মূল বাধ্যতামূলক প্রার্থনাটি প্রকাশিত হয়েছিল। এটি তাঁর জীবদ্দশায় বিশ্বাসীদের প্রতি দেওয়া হয়নি যা বর্তমানে প্রচলিত তিনটি বাধ্যতামূলক প্রার্থনার দ্বারা রদ করা হয়েছিল।
  বাহা’উল্লাহর স্বর্গারোহণের পর পরই এই প্রার্থনাটির মূলপাঠ, কিছুসংখ্যক অন্যান্য ফলকলিপিসহ, তাঁর চুক্তিপত্রের প্রধান ভঙ্গকারী, মুহম্মদ আলী কর্তৃক চুরি হয়েছিল।

10. মৃতদের জন্য প্রার্থনা ¶8
মৃতদের জন্য প্রার্থনাটিই (দ্রষ্টব্যঃ কিতাব-ই-আক্বদাস-এর সম্পূরক কতিপয় পবিত্র রচনাবলী) একমাত্র বাহা’ই বাধ্যতামূলক প্রার্থনা যা সংঘবদ্ধভাবে আবৃত্তি করতে হবে; উপস্থিত সবাই নীরবে দাঁড়ানো অবস্থায় একজন বিশ্বাসীকে এটি আবৃত্তি করতে হবে (টীকা 19 দ্রষ্টব্য)। বাহা’উল্লাহ স্পষ্টরূপে ব্যাখ্যা করেছেন যে, মৃতদের জন্য প্রার্থনাটি প্রয়োজন হয় শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য (প্রশ্ন-উত্তর 70), এবং মৃত ব্যক্তিটিকে সমাধিস্থ করার পূর্বে আবৃত্তি করতে হবে, এবং এ ক্ষেত্রে কিব্লাহ্মুখী হওয়ার প্রয়োজন নেই (প্রশ্ন-উত্তর 85)।
  মৃতদের জন্য প্রার্থনা বিষয়ক অধিক বর্ণনা সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সংহিতা, ভাগ চার. ক. 13-14-তে সংক্ষিপ্ত আকারে দেওয়া হয়েছে।

11. শ্লোকসমূহের অবতীর্ণকারী, ঈশ্বর কর্তৃক নির্দিষ্ট ছয়টি অনুচ্ছেদ অবতীর্ণ করা হইয়াছে ¶8
যে অনুচ্ছেদগুলি মৃতদের জন্য প্রার্থনার অংশ গঠন করে ছয় বার অভিনন্দন জ্ঞাপক “আল্লাহু-আব্হা” (ঈশ্বর সর্বগৌরবময়) উক্তির আবৃত্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রতিবারের পর সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশিত ছয়টি শ্লোকের মধ্যে একটি আবৃত্তি করতে হবে। এই শ্লোকগুলি বায়ান-এ বা’ব কর্তৃক মৃতদের জন্য প্রকাশিত প্রার্থনার শ্লোকগুলির অনুরূপ। বাহা’উল্লাহ এই অনুচ্ছেদগুলির পূর্বে একটি বিনীত প্রার্থনা যুক্ত করেছেন।

12. চুল তোমাদের প্রার্থনাকে অসিদ্ধ করে না, অথবা যাহা হইতে আত্মা বিচ্ছিন্ন হইয়াছে, যেমন অস্থিসমূহ এবং অনুরূপ কোন কিছু। তোমরা নকুল জাতীয় জন্তু যেমন বীবর, কাঠবিড়ালী এবং অন্যান্য প্রাণীর পশমের পোশাক পরিধান করিতে স্বাধীন ¶9
পূর্বের কোন কোন ধর্মবিধানে নির্দিষ্ট প্রাণীসমূহের পশম পরিধানকরণ, অথবা নির্দিষ্ট অন্যান্য বস্তু কারো দেহে ধারণ করা তাঁর প্রার্থনাকে অসিদ্ধ করে বলে গণ্য করা হতো। এখানে বাহা’উল্লাহ আরবী বায়ান গ্রন্থে বা’ব-এর ঘোষণাকে অনুমোদন করেছেন যে এইরূপ বস্তুসমূহ কারো প্রার্থনা অসিদ্ধ করে না।

13. আমরা তোমাদের বয়ঃপ্রাপ্তির শুরু হইতেই প্রার্থনা ও উপবাস ব্রত পালনের জন্য আদেশ দিয়াছি ¶10
বাহা’উল্লাহ “ধর্মীয় কর্তব্য পালনে পূর্ণ বয়স প্রাপ্তি সম্বন্ধে” “নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য পূর্ণ বয়স হইতেছে পনেরো” নির্ধারণ করেছেন (প্রশ্ন-উত্তর 20)। উপবাসের কালের বি¯তৃত বিবরণের জন্য টীকা 25 দ্রষ্টব্য।

14. । তিনি ... ইহা হইতে তাহাদিগকে অব্যাহতি দিয়াছেন যাহারা অসুস্থতা অথবা বার্ধক্যের কারণে দুর্বল ¶10
যারা অসুস্থতা অথবা বার্ধক্যের কারণে দুর্বল তাদের বাধ্যতামূলক প্রার্থনা সম্পাদন ও উপবাস ব্রত পালন করা থেকে অব্যাহতি দান সম্বন্ধে প্রশ্ন ও উত্তরসমূহে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বাহা’উল্লাহ নির্দেশ দেন ‘‘শারীরিক অসুস্থতার সময় এই অবশ্যকরণীয় বিধানগুলির পালন অনুমোদনীয় নহে” (প্রশ্ন-উত্তর 93)। এই সম্বন্ধে তিনি সত্তর বৎসর বয়সকে বার্ধক্যরূপে সংজ্ঞা দিয়েছেন (প্রশ্ন ও উত্তর 74)। একটি প্রশ্নের জবাবে শৌগী এফেন্দী স্পষ্ট করেছেন যে, লোকেরা যারা 70 বৎসর বয়স প্রাপ্ত হয় তারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত, তারা দুর্বল হোক বা না-হোক।
  সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সংহিতায় তালিকাভুক্ত অন্যান্য নির্দিষ্ট শ্রেণীর লোকদেরকেও উপবাস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে (চার. খ.5)। অতিরিক্ত আলোচনার জন্য টীকা 20, টীকা 30 এবং 31 টীকা দ্রষ্টব্য।

15. ঈশ্বর তোমাদের পরিষ্কার-পরিছন্ন যে কোন কিছুর উপর প্রণতিপাতের অনুমতি প্রদান করিয়াছেন, কারণ, এই স¤পর্কে ধর্মগ্রন্থে যে সীমা প্রদান করা হইয়াছিল, তাহা আমরা অপসারণ করিয়াছি ¶10
পূর্ববর্তী ধর্মবিধানসমূহে প্রার্থনাসমূহের প্রয়োজনসমূহের মধ্যে প্রায়ই প্রণতিপাত যুক্ত হতো। আরবী বায়ান-এ বা’ব বিশ্বাসীদেরকে প্রণতিপাত কালে স্ফটিকের উপরিভাগে তাদের ললাট স্থাপন করতে আহ্বান করেছিলেন। একইভাবে, ইসলাম ধর্মে যে সকল বস্তুর উপরিভাগে প্রণতিপাত করার জন্য মুসলিমগণ অনুমতিপ্রাপ্ত সেগুলো সম্বন্ধে কিছু নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়। বাহা’উল্লাহ এইরূপ সীমাবদ্ধতাগুলি রদ করেন, এবং কেবল তদস্থলে “পরিষ্কার যে কোন কিছুর উপরিভাগ” নির্দিষ্ট করেন।

16. অভিসিঞ্চনের জন্য কেহ জল না পাইলে সে পাঁচবার “পরমপবিত্র, পরমপবিত্র ঈশ্বরের নামে’’ এই বাক্যসমূহ পুনরাবৃত্তি করিবে এবং তাঁহার উপাসনা শুরু করিবে ¶10
বাধ্যতামূলক প্রার্থনার প্রস্তুতিতে বিশ্বাসীদের অভিসিঞ্চন করতে হবে। এগুলো হস্তদ্বয় ও মুখমন্ডল ধৌতকরণের অন্তর্ভুক্ত। যদি জল না পাওয়া যায়, তাহলে সুনির্দিষ্টভাবে অবতীর্ণ শ্লোকের পাঁচবার আবৃত্তির বিধান দেওয়া হয়েছে। অভিসিঞ্চনের সাধারণ আলোচনার জন্য টীকা 34 দ্রষ্টব্য।
  জল পাওয়া না গেলে পূর্ববর্তী ধর্মবিধানসমূহের অনুসৃত বিকল্প নিয়মাবলী কোরআন ও আরবী বায়ানে দেখতে পাওয়া যায়।

17. যেই সকল অঞ্চলে দিবস ও রাত্রিসমূহ দীর্ঘ হয়, সেইখানে ঘড়ি ও অনুরূপ যন্ত্রাদি, যাহা সময়ের অতিক্রমকে চিহ্নিত করে তদ্বারা প্রার্থনার সময় নির্ধারিত হইবে ¶10
এই জনপদ উত্তর অথবা দক্ষিণের শেষ সীমায় অবস্থিত অঞ্চলসমূহকে নির্দেশ করছে, যেখানে দিনগুলির ও রাতগুলির স্থিতিকাল লক্ষণীয়ভাবে পার্থক্যপূর্ণ হয় (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 64 ও প্রশ্ন-উত্তর 103)। 
  এই অনুবিধি উপবাসের প্রতিও প্রযোজ্য হয়।

18. আমরা তোমাদিগকে লক্ষণসমূহের জন্য প্রার্থনার প্রয়োজনীয়তা হইতে অব্যাহতি দিয়াছি ¶11
লক্ষণসমূহে প্রার্থনা মুসলিম বাধ্যতামূলক প্রার্থনার একটি বিশেষ আকার, যা প্রাকৃতিক ঘটনাবলী সংঘটনের সময় পড়ার জন্য নিরূপিত ছিল। এগুলো হচ্ছে ভূমিকম্প, চন্দ্র-সূর্যাদির গ্রহণ, এবং অন্যান্য যেগুলি ভীতির উদ্রেক করতে পারে এবং ঈশ্বরের লক্ষণাদি বা কার্যাবলীরূপে গণ্য হয়। এই প্রার্থনা সম্পাদনের প্রয়োজন রহিত করা হয়েছে। তদস্থলে একজন বাহা’ই আবৃত্তি করতে পারে “আধিপত্য ঈশ্বরের, যিনি দৃশ্যমান ও অদৃশ্যের পরম প্রভু, সৃজনকুলের পরম প্রভু।’’ তবে এটা বাধ্যতামূলক নয় (প্রশ্ন-উত্তর 52)।

19. মৃতদের জন্য প্রার্থনা ব্যতীত, সংঘবদ্ধ প্রার্থনার রীতি রহিত করা হইয়াছে ¶12
সংঘবদ্ধ প্রার্থনা আনুষ্ঠানিক অর্থে বাধ্যতামূলক প্রার্থনার, যা একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার অনুসারে আবৃত্তি করতে হবে, যেমন, দৃষ্টান্তস্বরূপ, ইসলাম ধর্মের রীতি অনুসারে শুক্রবারের প্রার্থনা মসজিদে একজন ইমাম দ্বারা পরিচালিত হয়, বাহা’ই ধর্মবিধানে রদ করা হয়েছে। বাহা’ই আইনে মৃতদের জন্য প্রার্থনাটি-ই একমাত্র সংঘবদ্ধ প্রার্থনা (টীকা 10 দ্রষ্টব্য)। উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে একজন এটি আবৃত্তি করবে, অংশগ্রহণকারীদের অন্যান্য সবাই নীরবে দাঁড়িয়ে থাকবে ; আবৃত্তিকারীর বিশেষ কোন মর্যাদা নেই। সমবেত লোকদের কিব্লাহ্মুখী হওয়ার প্রয়োজন নেই (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 85)।
  তিনটি দৈনিক বাধ্যতামূলক প্রার্থনা একাকী আবৃত্তি করতে হবে, সংঘবদ্ধভাবে নয়।
  অন্য অনেক বাহা’ই প্রার্থনার আবৃত্তির জন্য কোন নির্দিষ্ট করে দেওয়া পদ্ধতি নেই, এবং এইরূপ অ-বাধ্যতামূলক প্রার্থনাসমূহ সমাবেশগুলিতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তাদের ইচ্ছানুযায়ী আবৃত্তি করতে সবাই স্বাধীন। এ বিষয়ে শৌগী এফেন্দী বিবৃত করেন যে:
   .... যদিও বন্ধুদের নিজেদের ইচ্ছা অনুসরণ করার জন্য এইভাবে ছাড় দেওয়া হয়েছে .... তবুও তাদেরকে অত্যধিক যতœশীল হতে হবে যেন তারা যে কোন পদ্ধতির অনুশীলন করুক না কেন, তা যেন অত্যধিক কঠোর একটি বৈশিষ্ট্য লাভ না করে, এবং এইভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের রূপ ধারণ না করে। এটি একটি বিষয় যা বন্ধুদেরকে সর্বদাই মনে রাখতে হবে, যেন তারা শিক্ষাবলীর সুস্পষ্টভাবে নির্দেশিত পথ থেকে বিপথগামী না হয়।

20. ঈশ্বর ঋতুমতী নারীদের বাধ্যতামূলক প্রার্থনা ও উপবাস ব্রত পালন হইতে অব্যাহতি দিয়াছেন ¶13
বাধ্যতামূলক প্রার্থনা ও উপবাস থেকে সেই সব নারীদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে যাদের ঋতুস্রাব হচ্ছে; প্রার্থনা ও উপবাসের পরিবর্তে তারা অভিসিঞ্চন করবে (টীকা 34 দ্রষ্টব্য) এবং এক মধ্যাহ্ন থেকে ও পরবর্তী মধ্যাহ্নের মধ্যে দৈনিক 95 বার “প্রভা ও সুষমার পরম প্রভু - ঈশ্বর মহিমান্বিত হউন’’ - শ্লোকটি আবৃত্তি করবে। আরবী বায়ান-এ এই অনুবিধির দৃষ্টান্ত আছে - যেখানে অনুরূপ বিধান দেওয়া হয়েছিল। 
  পূর্ববর্তী কতিপয় ধর্মীয় বিধানসমূহে, ঋতুমতী নারীদের প্রথাগতভাবে অপবিত্র বিবেচনা করা হতো এবং প্রার্থনা ও উপবাস ব্রত পালন করা নিষিদ্ধ ছিল। বাহা’উল্লাহ কর্তৃক উক্ত প্রথাগত অপবিত্রতার ধারণা রহিত করা হয়েছে (টীকা 106 দ্রষ্টব্য)।
  সার্বজনীন বিচারালয় ব্যাখ্যা করছেন যে, নির্দিষ্ট কর্তব্যসমূহ ও দায়িত্বসমূহ থেকে অব্যাহতি দানকারী কিতাব-ই-আক্বদাস-এ প্রকাশিত অনুবিধি হচ্ছে, কথাটির অভিব্যক্তি মতে, অব্যাহতি এবং নিষিদ্ধ নয়। এমতাবস্থায় যে কোন বিশ্বাসী একটি প্রযোজ্য অব্যাহতির সুযোগ গ্রহণ করার ব্যাপারে স্বাধীন, যদি সে, পুরুষ বা নারী, ঐরূপ ইচ্ছা করে। তবে বিচারালয় উপদেশ দিচ্ছেন যে, এই অব্যাহতি গ্রহণ করা বা না করা স্থির করার ক্ষেত্রে বিশ্বাসীকে বিজ্ঞতা প্রয়োগ করতে হবে এবং উপলব্ধি করতে হবে যে, বাহা’উল্লাহ উপযুক্ত কারণে এই অব্যাহতিসমূহ অনুমোদন করেছেন।
  বাধ্যতামূলক প্রার্থনা থেকে এই নির্দিষ্ট অব্যাহতি মূলতঃ নয় রাকাত বিশিষ্ট বাধ্যতামূলক প্রার্থনার জন্য দেওয়া হয়েছিল। এখন যে তিনটি বাধ্যতামূলক প্রার্থনা তার স্থান নিয়েছে, তার জন্যও প্রযোজ্য।

21. ভ্রমণকালীন তোমরা কোন নিরাপদ স্থানে পৌঁছাইলে এবং বিশ্রাম গ্রহণ করিলে প্রত্যেক অস¤পাদিত বাধ্যতামূলক প্রার্থনার পরিবর্তে  নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে - একটি মাত্র প্রণতিপাত করিবে ¶14
বাধ্যতামূলক প্রার্থনা থেকে অব্যাহতি তাদেরকে দেওয়া হয়েছে, যারা নিজেদেরকে এমন এক নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দেখতে পায় যে বাধ্যতামূলক প্রার্থনাসমূহের সম্পাদন সম্ভব নয়। একজন লোক ভ্রমণরত হোক বা গৃহে অবস্থান করুক এই অব্যাহতি উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং এই অব্যাহতি একটি উপায় প্রদান করে যদ্বারা এইসব অ-নিরাপদ অবস্থার কারণে বাদপড়া বাধ্যতামূলক প্রার্থনাসমূহের ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে।
বাহা’উল্লাহ এই বিষয়টিকে পরিষ্কার করেছেন যে, “ভ্রমণকালে বাধ্যতামূলক প্রার্থনা স্থগিত নয়” যদি কেউ একটি “নিরাপদ স্থান” খুঁজে পায় যেখানে সে এটা সম্পাদন করতে পারে (প্রশ্ন ও উত্তর 58)।
  প্রশ্ন ও উত্তরসমূহে প্রশ্ন-উত্তর 21, প্রশ্ন-উত্তর 58, প্রশ্ন-উত্তর 59, প্রশ্ন-উত্তর 60 এবং প্রশ্ন-উত্তর 61 নম্বর এই বিধানের বিশদ ব্যাখ্যা করছে।

22. তোমাদের প্রণতিপাতসমূহ সমাপনের পর - নারী-পুরুষ নির্বিশেষে - তোমরা পদযুগল আড়াআড়ি করিয়া উপবিষ্ট হও ¶14
আরবী অভিব্যক্তি “হায়কলুৎ তওহীদ”, এখানে “পা আড়াআড়ি” রূপে অনূদিত, “ঐক্যের আসনে”র অর্থ প্রকাশ করছে। ঐতিহ্যগতভাবে ইহা পা আড়াআড়ি অবস্থানের অর্থ বুঝিয়েছে।

23. বলঃ ঈশ্বর আমার নিহিত প্রেমকে ধনাগারের চাবিস্বরূপ করিয়াছেন ¶15
ঈশ্বর ও তাঁর সৃষ্টি সম্বন্ধে ইসলামের একটি সুবিদিত হাদিস রয়েছে ঃ
আমি একটি গুপ্তধন ছিলাম। আমি প্রকাশিত হইতে ইচ্ছা করিলাম এবং অতএব আমি বিশ্বব্রহ্মা- সৃষ্টি করিলাম যাহাতে আমি পরিচিত হইতে পারি।
  এই হাদিসের প্রসঙ্গ ও পরোক্ষ উল্লেখসমূহ বাহা’ই লিখনাবলীর সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায়। দৃষ্টান্তস্বরূপ, তাঁর প্রার্থনাসমূহের একটিতে বাহা’উল্লাহ প্রকাশ করেছেন:
  তোমার নাম উচ্চপ্রশংসিত হউক, হে পরম প্রভু আমার ঈশ্বর! আমি সাক্ষ্য প্রদান করিতেছি যে, তোমার স্মরণাতীত সত্তার মধ্যে তুমি একটি আবৃত গুপ্তধন ছিলে এবং তোমার নিজের অস্তিত্বের মধ্যে সুরক্ষিত একটি দুর্ভেদ্য রহস্য ছিল। নিজেকে প্রকাশ করিবার ইচ্ছায় তুমি বৃহত্তর ও ক্ষুদ্রতর জগৎসমূহ সৃষ্টি করিয়াছিলে, এবং তোমার সমস্ত সৃষ্ট জীবকুলের উপর মানুষকে মনোনীত করিয়াছিলে, এবং তাহাকে এই উভয় জগতের একটি নিদর্শন করিয়াছিলে, হে তুমি, যিনি, আমাদের পরম প্রভু, পরম করুণাময় । 
  তোমার সৃষ্টির সমস্ত লোকের সম্মুখে তোমার সিংহাসন অধিকার করিবার জন্য তুমি তাহাকে ঊর্ধ্বে উত্তোলন করিয়াছিলে। তোমার রহস্যাবলী প্রকাশ করিতে, এবং তোমার অনুপ্রেরণা ও তোমার প্রত্যাদেশের আলোকসমূহ দ্বারা উজ্জ্বল হইতে, এবং তোমার নামাবলী ও তোমার গুণাবলী প্রকাশ করিতে তুমি তাহাকে সমর্থ করিয়াছিলে। তাহার মাধ্যমে তুমি তোমার সৃষ্টির গ্রন্থের প্রস্তাবনা সজ্জিত করিয়াছিলে, হে তুমি যিনি বিশ্বব্রহ্মা-ের শাসনকর্তা যাহা তুমি গঠন করিয়াছ। (প্রেয়ারস্ এন্ড মেডিটেশনস্ বাহা’উল্লাহ্, ঢঢঢঠওওও)
অনুরূপভাবে, নিহিত বাক্যাবলীতে তিনি বিবৃত করেনঃ
  হে মানব সন্তান! তোমার সৃষ্টি আমার প্রিয় ছিল। সুতরাং আমি তোমাকে সৃষ্টি করিলাম। অতএব, তুমি আমাকে ভালবাস, যেন আমি তোমাকে স্মরণ করিতে; এবং তোমাকে আধ্যাত্মিক জীবনে সুনিশ্চিত করিতে পারি।
আব্দুল-বাহা উপরোল্লেখিত হাদিসটি সম্বন্ধে তাঁর ভাষ্যে লিখেছেন:
হে প্রিয়তমের পথের পথিক! জানিয়া রাখ যে, এই পবিত্র হাদিসের প্রধান উদ্দেশ্য হইতেছে সত্যের মূর্তপ্রতীকগণের মধ্যে, যাঁহারা তাঁহার সর্বগৌরবময় সত্তার উদয়স্থল, ঈশ্বরের গোপনীয়তা ও প্রকাশের পর্যায়গুলির উল্লেখ করা। দৃষ্টান্তস্বরূপ, অবিনশ্বর অগ্নির শিখাটি প্রজ্বলিত ও প্রকাশিত হইবার পূর্বে, ইহা সার্বজনীন প্রকাশগণের মধ্যে নিহিত একত্বে নিজ দ্বারাই নিজের মধ্যেই অস্তিত্ববান ছিল এবং ইহাই ‘গুপ্তধন’-এর পর্যায়। এবং যখন আশীষপূতঃ বৃক্ষটি নিজ দ্বারা নিজের মধ্যেই প্রজ্বলিত হয় এবং স্বর্গীয় অগ্নি ইহার সত্তা দ্বারা ইহার সত্তার মধ্যে প্রজ্বলিত হয়, তখন ইহাই ‘আমি প্রকাশিত হইতে ইচ্ছা করিয়াছিলাম’-এর পর্যায়। এবং যখন ইহা বিশ্বব্রহ্মা-ের দিগন্তের উপর হইতে অসীম স্বর্গীয় নামাবলী ও গুণাবলী সহকারে দৈব ও স্থানহীন জগৎসমূহের উপর কিরণ বর্ষণ করে, তখন ইহা একটি নতুন ও বিস্ময়কর সৃষ্টির উদ্ভব ঘটায় যে সৃষ্টি ‘আমি বিশ্বব্রহ্মা- সৃষ্টি করিলাম’-এর পর্যায়ের অনুরূপ হয়। এবং যখন পবিত্রীকৃত আত্মাসমূহ সমস্ত পার্থিব আসক্তিসমূহ ও জাগতিক অবস্থাসমূহের পর্দাগুলি বিদীর্ণ করে, এবং স্বর্গীয় উপস্থিতির সুষমার উপর স্থির দৃষ্টি নিবদ্ধ করিবার সোপানের প্রতি দ্রুত ধাবিত হয়, এবং ঐশী প্রকাশকে স্বীকৃতির দ্বারা সম্মানিত হয় এবং তাহাদের হৃদয়ে ঈশ্বরের পরম মহান নিদর্শনের দীপ্তি স্বচক্ষে দর্শন করিতে সক্ষম হয়, তখন সৃষ্টির উদ্দেশ্য, যাহা তাঁহারই জ্ঞান, যিনি চিরন্তন সত্য, প্রকাশিত হয়।

24. হে সর্বোচ্চের লেখনী ¶16
“সর্বোচ্চের লেখনী” “সর্বোচ্চ লেখনী” এবং “পরম মহিমান্বিত লেখনী” ঈশ্বরের বাক্যের প্রকাশকারীরূপে তাঁর দায়িত্বের উদাহরণস্বরূপ বাহা’উল্লাহর প্রতি নির্দেশ করে ।

25. আমরা তোমাদের উপর একটি সংক্ষিপ্ত কালব্যাপী উপবাস ব্রত পালনের আদেশ প্রদান করিয়াছি ¶16
উপবাস ও বাধ্যতামূলক প্রার্থনা দুইটি স্তম্ভ গঠন করে, যা ঈশ্বরের প্রকাশিত আইনকে পরিপুষ্ট করে। বাহা’উল্লাহ তাঁর একটি ফলকলিপিতে দৃঢ়রূপে বলেছেন যে, তিনি বাধ্যতামূলক প্রার্থনা ও উপবাসের আইনসমূহ প্রকাশ করেছেন যাতে এগুলির মাধ্যমে বিশ্বাসীগণ ঈশ্বরের নৈকট্য লাভ করতে পারে।
শৌগী এফেন্দী প্রকাশ করেছেন যে, উপবাস কাল, যা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে পূর্ণ নিবৃত্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে, তা হচ্ছে
....ধ্যানের ও প্রার্থনার, আত্মিক শক্তি পুনরুদ্ধারের অপরিহার্যরূপে একটি সময়-বিভাগ, যে সময়ে বিশ্বাসী তার আভ্যন্তরিক জীবনে অত্যাবশ্যক পুনঃসমন্বয় সাধন করতে, এবং তার আত্মার মধ্যে সুপ্ত আধ্যাত্মিক শক্তিসমূহকে সতেজ ও বলশালী করার জন্য অবশ্য কঠোর চেষ্টা করবে। অতএব, ইহার তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য, মৌলিকভাবে আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্যে পূর্ণ। উপবাস হচ্ছে প্রতীক, এবং স্বার্থপরতা ও কামলালসা থেকে সংযমের একটি স্মারক।
15 বৎসর বয়ঃপ্রাপ্ত হলে এবং 70 বৎসর বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত সমস্ত বিশ্বাসীদেরকে উপবাস পালন করতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।
  উপবাসের ও নির্দিষ্ট শ্রেণীর লোকদেরকে প্রদত্ত অব্যাহতি সংক্রান্ত আইনের বিস্তারিত শর্তাবলীর একটি সারাংশ সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সংহিতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, বিভাগ 4. খ. 1-6; উপবাস থেকে অব্যাহতি সম্বন্ধে আলোচনার জন্য টীকা 14, টীকা 20, টীকা 30 ও টীকা 31 দ্রষ্টব্য।
  উপবাসের 19 দিন সময়কাল বাহা’ই আ’লা মাসের সমকালীন হয় সচরাচর 2-20শে মার্চ, মলমাসের দিনগুলির অব্যবহিত পরে শুরু হয় এবং ইহার সমাপ্তিতে (টীকা 27 ও টীকা 147 দ্রষ্টব্য) নওরোজ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

26. ইহার সমাপ্তিতে নওরোজকে তোমাদের জন্য একটি উৎসব রূপে নির্দিষ্ট করিয়াছি ¶16
বা’ব একটি নতুন পঞ্জিকা প্রবর্তন করেছিলেন, যা এখন বা’দী বা বাহা’ই পঞ্জিকারূপে পরিচিত। এই পঞ্জিকা অনুসারে, এক দিনের ব্যাপ্তিকাল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত । বায়ানে বা’ব আ’লা মাসকে উপবাসের মাসরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, বিধান দিয়েছিলেন যে নওরোজের দিনটি ঐ ব্যাপ্তিকাল সমাপ্তি দ্বারা চিহ্নিত হবে, এবং নওরোজকে ঈশ্বরের দিনরূপে আখ্যায়িত করেন। বাহা’উল্লাহ বা’দী পঞ্জিকা অনুমোদন করেন যার মধ্যে নওরোজকে একটি উৎসবরূপে আখ্যায়িত করেন।
  নওরোজ হচ্ছে নববর্ষের প্রথম দিন। ইহা উত্তর গোলার্ধে মহাবিষুবের সাথে সমকালীন হয়, যা সচরাচর 21শে মার্চ ঘটে। বাহা’উল্লাহ ব্যাখ্যা করেন যে, এই উৎসব দিবসকে উদ্যাপন করতে হবে যে-দিনই সূর্য মেষ রাশির নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে (অর্থাৎ মহাবিষুব), তাই সূর্যাস্তের এক মিনিট পূর্বে ঘটলেও (প্রশ্ন ও উত্তর 35)। এই কারণে মহাবিষুবের সময়ের উপর নির্ভর করে নওরোজ 20, 21, অথবা 22শে মার্চে পড়তে পারে। 
  বাহা’উল্লাহ বহু আইনের পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে স্পষ্ট বর্ণনা পূরণ করার ভার সার্বজনীন বিচারালয়ের উপর ন্যস্ত করেছেন। এইগুলির মধ্যে রয়েছে বাহা’ই পঞ্জিকা সংশ্লিষ্ট কিছুসংখ্যক বিষয়। অভিভাবক বিবৃত করেছেন যে, বিশ্বব্যাপী নওরোজের সময় নির্ধারণ সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ কার্যকর করার জন্য পৃথিবীতে একটি নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচনের প্রয়োজন হবে, যা মহাবিষুবের সময় স্থির করার মানরূপে কাজ করবে। তিনি আরও প্রকাশ করেন যে, এই স্থান নির্বাচনের ভার সার্বজনীন বিচারালয়ের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

27. মাসগুলির অতিরিক্ত দিনগুলি উপবাস মাসের পূর্বে সন্নিবেশিত করা হউক ¶16 
বা’দী পঞ্জিকা 365 দিন, 5 ঘণ্টা, এবং 50 অসম মিনিটের সৌরবর্ষের উপর ভিত্তিশীল। অতিরিক্ত 4 দিন (অধিবর্ষে- 5 দিন) সংযোজনসহ প্রতি 19 দিনের 19 মাস নিয়ে বৎসর গঠিত (অর্থাৎ 361 দিন)। বা’ব নতুন দিনপঞ্জিতে মলমাসের দিনগুলির জন্য নির্দিষ্টরূপে স্থান নির্ধারণ করেননি। কিতাব-ই-আক্বদাস দিনপঞ্জিতে উপবাস মাস “আ’লা”-র অব্যবহিত পূর্বে অতিরিক্ত দিনগুলিকে একটি স্থিরীকৃত অবস্থানে সন্নিবেশ করে আলোচ্য বিষয়টির সমাধান করেছে। আরও বিস্তারিত বিবরণের জন্য, বাহা’ই ওয়ার্ল্ড-ভলিউম ঢঠওওও-এ বাহা’ই পঞ্জিকা বিভাগ দ্রষ্টব্য।

28. আমরা আদেশ দিয়াছি যে, ইহারা ..... মধ্যে ‘হা’ বর্ণের প্রকাশস্বরূপ হইবে ¶16
আইয়্যাম-ই-হা (হা-র দিনগুলি) রূপে পরিচিত মলমাসের দিনগুলি “হা” বর্ণের সাথে যুক্ত হওয়ার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আবজাদের গণনায় এই আরবী অক্ষরটির সংখ্যাসূচক মান হচ্ছে পাঁচ, যা মলমাসের দিনগুলির প্রচ্ছন্ন সংখ্যার অনুরূপ।
  পবিত্র লিখনাবলীতে “হা” অক্ষরটিকে কতিপয় আধ্যাত্মিক অর্থ দেওয়া হয়েছে, যেগুলির মধ্যে রয়েছে ঈশ্বরের সত্তার একটি নিদর্শন।

29. দান করার এই দিনগুলি যাহা আত্মসংযম কালের পূর্ববর্তী  হইয়াছে ¶16
বাহা’উল্লাহ তাঁর অনুসারীদের এই দিনগুলিকে ভোজ দানে, আনন্দিতকরণে ও দাতব্যকাজে নিবেদন করতে আদেশ দিয়েছেন। শৌগী এফেন্দীর পক্ষ থেকে লিখিত একটি পত্রে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে,     “মলমাসের দিনগুলিকে অতিথি সৎকার ও উপহারসমূহ প্রদান, ইত্যাদির জন্য বিশেষভাবে আলাদা করে রাখা হয়েছে ”।

30. ভ্রমণকারী.....উপবাস ব্রত পালনে বাধ্য নহে ¶16
কোন যাত্রার সর্বনিম্ন স্থায়িত্বকাল, যা উপবাস থেকে বিশ্বাসীকে অব্যাহতি দেয়, তা বাহা’উল্লাহ যথাযথভাবে সীমানির্দেশ করে দিয়েছেন (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 22 ও প্রশ্ন-উত্তর 75)। এই অনুবিধির পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সংহিতায় দেওয়া হয়েছে, অধ্যায় 4.খ.5.ক-ঝ।
  শৌগী এফেন্দী ব্যাখ্যা করেছেন যে, যখন ভ্রমণকারীদের উপবাস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তখন তারা উপবাস করায় স্বাধীন, যদি তারা ইচ্ছা করে। তিনি আরও প্রকাশ করেছেন যে, অব্যাহতি কোন লোকের ভ্রমণের সম্পূর্ণ সময়ব্যাপী প্রযোজ্য হয়, ঠিক এই সময় না যখন কেউ ট্রেনে অথবা মোটর গাড়ি ইত্যাদিতে অবস্থান করে।

31. ভ্রমণকারী, পীড়িত, যাহারা গর্ভবতী বা স্তন্যদুগ্ধদায়িনী, উপবাস ব্রত পালনে বাধ্য নহে; ঈশ্বরের অনুগ্রহের নিদর্শনস্বরূপ তাহাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হইয়াছে ¶16
উপবাস থেকে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে যারা পীড়িত অথবা বার্ধক্যে উপনীত (টীকা 14 দ্রষ্টব্য), ঋতুমতী (টীকা 20 দ্রষ্টব্য), ভ্রমণকারী (টীকা 30 দ্রষ্টব্য), গর্ভবতী, এবং বুকের দুধ পান করাচ্ছে। এই অব্যাহতি অধিকন্তু সেই সমস্ত লোকদের প্রতি সম্প্রসারিত করা হয়েছে যারা কঠোর পরিশ্রমে লিপ্ত একই সময় তাদেরকে “পরিমিত ভাবে ও নির্জনে খাদ্যগ্রহণ করার মাধ্যমে” “ঈশ্বরের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ও উপবাসের মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য” উপদেশ দেওয়া হয়েছে (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 76)। শৌগী এফেন্দী নির্দেশ করেছেন যে, যে-ধরনের কাজ উপবাস থেকে লোকদের অব্যাহতি দেবে তা সার্বজনীন বিচারালয় যথাযথভাবে নির্ধারণ করবেন।

32. সূর্যোদয় হইতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার হইতে বিরত থাক ¶17
ইহা উপবাসের ব্যাপ্তিকালের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাঁর ফলকলিপিসমূহের একটিতে, খাদ্য ও পানীয় থেকে নিবৃত্তি উপবাসের অন্তর্ভুক্ত, এই কথা বিবৃত করার পর আব্দুল বাহা আরও প্রকাশ করেন যে, ধূমপান “পান করা”র একটি ধরন। আরবীতে “পান করা” ক্রিয়াপদটি সমানভাবে ধূমপানের প্রতি প্রযোজ্য।

33. আদেশ করা হইয়াছে যে, ....ঈশ্বরে বিশ্বাস স্থাপনকারী প্রত্যেকে, প্রতিদিন, .....পঁচানব্বই বার “আল্লাহু-আব্হা’’ আবৃত্তি করিবে ¶18
“আল্লা-হু-আব্হা” একটি আরবী বাক্যাংশ। ইহা ঈশ্বরের মহত্তম নামের একটি আকার (টীকা 137 দ্রষ্টব্য)। ইসলাম ধর্মে একটি হাদিস আছে যে, ঈশ্বরের বহু নামের মধ্যে একটি ছিল মহত্তম; কিন্তু এই মহত্তম নামের পরিচিতি নিহিত ছিল। বাহা’উল্লাহ দৃঢ়তা সহকারে প্রতিপন্ন করেছেন যে মহত্তম নামটি হচ্ছে “বাহা”।
  “বাহা” শব্দের বহুবিধ প্রত্যয়সিদ্ধ শব্দসমূহও মহত্তম নামরূপে বিবেচিত। শৌগী এফেন্দীর সেক্রেটারী তাঁর পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা করেন যে:
  মহত্তম নাম হচ্ছে বাহা’উল্লাহর নাম। “ইয়া বাহা’উল-আবহা” হচ্ছে একটি মিনতিপূর্ণ আহ্বান যার অর্থ: “হে তুমি জ্যোতিসমূহের জ্যোতি!” “আল্লা-হু-আব্হা” একটি অভিবাদন, যার অর্থ: “ঈশ্বর সর্বজ্যোতির্ময়”। উভয়-ই বাহা’উল্লাহ্কে নির্দেশ করছে। সর্বোত্তম নাম এই অর্থ প্রকাশ করে যে, বাহা’উল্লাহ ঈশ্বরের মহত্তম নামে আবির্ভূত হয়েছেন, অন্য কথায়, তিনিই ঈশ্বরের সর্বোচ্চ প্রকাশ।
  আল্লা-হু-আব্হা অভিবাদনটি আদ্রিয়ানাপোলে বাহা’উল্লাহর নির্বাসন কালে গৃহীত হয়েছিল।
  পঁচানব্বই বার “আল্লা-হু-আব্হা” আবৃত্তির পূর্বে অভিসিঞ্চন সম্পাদন করতে হবে। (টীকা 34 দ্রষ্টব্য)

34. তোমরা বাধ্যতামূলক প্রার্থনার জন্য অভিসিঞ্চন স¤পাদন কর ¶18
অভিসিঞ্চন নির্দিষ্ট প্রার্থনাসমূহের সাথে বিশেষরূপে যুক্ত। তিনটি বাধ্যতামূলক প্রার্থনা নিবেদনের পূর্বে, দৈনিক 95 বার আল্লাহু-আব্হা আবৃত্তি করার পূর্বে, নারীদের ঋতুমতী হওয়াকালীন বাধ্যতামূলক প্রার্থনা ও উপবাসের বিকল্পস্বরূপ নির্দিষ্ট করে দেওয়া শ্লোকের আবৃত্তির পূর্বে অপরিহার্যভাবে অভিসিঞ্চন করতে হবে (টীকা 20 দ্রষ্টব্য)।
  প্রার্থনার প্রস্তুতিকল্পে, হস্তদ্বয় ও মুখমন্ডল ধৌতকরণ নির্দেশিত অভিসিঞ্চন অন্তর্ভুক্ত। মধ্যম বাধ্যতামূলক প্রার্থনার ক্ষেত্রে এই অভিসিঞ্চন নির্দিষ্ট শ্লোকের আবৃত্তি সহযোগে সম্পন্ন হয় (বাহা’উল্লাহ কর্তৃক প্রকাশিত কিতাব-ই-আক্বদাস-এর সম্পূরক কতিপয় লিখনাবলী দ্রষ্টব্য)।
  ধৌতাবস্থাকে ছাড়িয়েও যে অভিসিঞ্চনের একটা বিশেষ তাৎপর্য আছে তা এই বিষয়টি দেখা যেতে পারে যে, একজন লোক ¯œান করে থাকলেও বাধ্যতামূলক প্রার্থনার অব্যবহিত পূর্বেই অভিসিঞ্চন সম্পাদন করার প্রয়োজন হবে (প্রশ্ন ও উত্তর, 18)।
  অভিসিঞ্চনের জন্য যখন কোন জল পাওয়া যায় না বা যাবে না, তখন একটি নির্দিষ্ট করে দেওয়া শ্লোক 5 বার আবৃত্তি করতে হবে (টীকা 16 দ্রষ্টব্য), এবং এই বিধান তাদের প্রতি প্রযোজ্য যাদের কাছে জলের ব্যবহার শারীরিকভাবে ক্ষতিকর হবে (প্রশ্ন-উত্তর, 51 দ্রষ্টব্য)।
  অভিসিঞ্চন সংক্রান্ত আইনের বিস্তারিত অনুবিধিসমূহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সংহিতার অধ্যায়সমূহ যথা 4.ক, 11.ক-ছ, ও প্রশ্ন ও উত্তরে নম্বর প্রশ্ন-উত্তর 51, প্রশ্ন-উত্তর 62, প্রশ্ন-উত্তর 66, প্রশ্ন-উত্তর 77 ও প্রশ্ন-উত্তর 86 তে প্রকাশিত হয়েছে।

35. তোমাদিগকে মানবহত্যা ........ লিপ্ত হইতে নিষেধ করা হইয়াছে ¶19
কারো জীবন হরণ করার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কিতাব-ই-আক্বদাস-এর অনুচ্ছেদ 73-এ বাহা’উল্লাহ কর্তৃক বারংবার উল্লেখিত হয়েছে। পূর্ব-পরিকল্পিত খুনের জন্য দেয় জরিমানাসমূহ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে (টীকা 86 দ্রষ্টব্য)। অনিচ্ছাকৃত নরহত্যার ব্যাপারে মৃত ব্যক্তিটির পরিবারে একটি নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ করা অত্যাবশ্যক (কিতাব-ই-আক্বদাস ¶188 দ্রষ্টব্য)।

36. ব্যভিচার ¶19
আরবী শব্দ “জিনা”, এখানে “ব্যভিচার” রূপে অনূদিত হয়েছে, অবিবাহিত অবস্থায় যৌন সহবাস ও ব্যভিচার উভয় অর্থই প্রকাশ করে। ইহা শুধুমাত্র একজন বিবাহিত ব্যক্তি ও এমন একজন যে তার স্বামী বা স্ত্রী নয় এইরূপ দুই জনের মধ্যে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, এছাড়াও সাধারণভাবে বিবাহ-বন্ধনের বহির্ভূত যৌন সহবাসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। “জিনা”র অপর একটি ধরন হচ্ছে ধর্ষণ। যারা অবিবাহিত অবস্থায় যৌন সহবাসের অপরাধ করে শুধুমাত্র তাদের জন্য বাহা’উল্লাহ কর্তৃক শাস্তি ধার্য করা হয়েছে (টীকা 77 দ্রষ্টব্য); অন্যান্য প্রকার যৌন অপরাধের জন্য শাস্তিসমূহ নির্ধারণ করার ভার সার্বজনীন বিচারালয়ের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

37. পরনিন্দা বা মিথ্যা অপবাদ ¶19
পরনিন্দা, অপবাদ এবং অন্যের দোষ-ত্রুটি নিয়ে ব্যস্ত থাকা বাহা’উল্লাহ কর্তৃক বারংবার নিন্দিত হয়েছে। তাঁর নিহিত বাক্যাবলীতে, তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় বিবৃত করেন; ‘‘হে অস্তিত্বের সন্তান! কিরূপে তুমি তোমার নিজের দোষ বিস্মৃত হইয়াছ, এবং আমার সেবকদের দোষকীর্তনে নিজেকে নিযুক্ত করিয়া রাখিয়াছ? যে কেহ এইরূপ করে, তাহার উপর আমার অভিসম্পাত’’। এবং পুনরায়; ‘‘হে মানব সন্তান! যতদিন তুমি স্বয়ং পাপ কর্মে রত থাকিবে, ততদিন তুমি অপরের দোষকীর্তন করিও না। যদি তুমি আমার এই আদেশের বিপরীত কার্য কর, তবে অভিশপ্ত তুমি এবং আমি স্বয়ং এই বিষয়ের সাক্ষী।” এই কড়া সতর্কীকরণের পুনরুক্তি তাঁর শেষ রচনা “আমার চুক্তিপত্রের গ্রন্থে” করা হয়; “সত্য সত্যই, আমি বলিতেছি, যাহা কিছু উত্তম তাহা উল্লেখ করিবার জন্যই রসনা, ইহাকে অশোভন কথাবার্তার দ্বারা কলুষিত করিও না। যাহা অতীত হইয়াছে ঈশ্বর তাহা ক্ষমা করিবেন। এখন হইতে প্রত্যেকেই তাহাই উচ্চারণ করিবে যাহা উপযুক্ত ও যথাযথ, এবং মিথ্যা অপবাদ রটনা, গালিগালাজ হইতে ও যাহা কিছু মানুষের মধ্যে বিষণœতা সৃষ্টি করে তাহা হইতে বিরত থাকিবে।”

38. আমরা উত্তরাধিকারকে সাত শ্রেণীতে বিভক্ত করিয়াছি ¶20
বাহা’ই উত্তরাধিকারের আইনসমূহ শুধুমাত্র ইষ্টিপত্র না করে মারা যাওয়ার পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হয়, অর্থাৎ যখন কোন লোক ইষ্টিপত্র না রেখে মারা যায়। কিতাব-ই-আক্বদাস-এ (¶109), বাহা’উল্লাহ প্রত্যেক বিশ্বাসীকে একটি ইষ্টিপত্র রচনা করতে আদেশ দিয়েছেন। তিনি অন্যত্র সুস্পষ্টরূপে বিবৃত করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট লোকটির তার সম্পত্তির উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব রয়েছে এবং কি প্রকারে তার (নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে) সম্পত্তি ভাগ করা হবে এবং ইষ্টিপত্রে তাদের নাম উল্লেখ করতে স্বাধীন, যারা উত্তরাধিকার সূত্রে অংশ লাভ করবে, তা তারা বাহা’ই হোক বা অ-বাহা’ই হোক (প্রশ্ন-উত্তর 69)। এই বিষয়ে, শৌগী এফেন্দীর তরফ থেকে লিখিত একটি পত্র ব্যাখ্যা করছে যে ঃ
... যদিও একজন বাহা’ই তার ইষ্টিপত্রে সে যেভাবে ইচ্ছা করে সেভাবে তার সম্পদ বণ্টন করতে অনুমতিপ্রাপ্ত, তবুও সে ইষ্টিপত্র রচনাকালে সম্পদের সামাজিক ভূমিকা সম্বন্ধে বাহা’উল্লাহর নীতিকে তুলে ধরার অত্যাবশ্যকতা এবং অল্পসংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সমষ্টির মধ্যে ইহার অত্যধিক পুঞ্জীভূত ও কেন্দ্রীভূতকরণ পরিণতি পরিহার করার আবশ্যকতার বিষয়টি নৈতিকতা ও সচেতনতার সাথে সর্বদা মনে রাখতে বাধ্য। 
  আক্বদাস-এর এই শ্লোকটি একটি দীর্ঘ অনুচ্ছেদ উপস্থাপিত করেছে, যার মধ্যে বাহা’উল্লাহ উত্তরাধিকার আইন বিশদ করেছেন। এই অনুচ্ছেদ পড়ার সময় মনে রাখতে হবে যে, আইন বিধিবদ্ধ করা হয় এই প্রাক-অনুমান সহকারে যে, মৃত একজন পুরুষ; ইহার অনুবিধিসমূহ, সঁঃধঃরং সঁঃধহফরং, মৃত একজন নারী হলেও একইভাবে প্রযোজ্য।
  উত্তরাধিকারের পদ্ধতি যা সাত শ্রেণীর (সন্তানদের, স্ত্রী/স্বামী, পিতা, মাতা, ভ্রাতাদের, ভগিনীদের ও শিক্ষকদের) মধ্যে ব্যক্তিটির সম্পত্তি বিলি-বণ্টনের ব্যবস্থা করে, তা বায়ানে বা’ব কর্তৃক প্রকাশিত অনুবিধিসমূহের উপর ভিত্তিশীল। মৃত ব্যক্তি ইষ্টিপত্র না করে মারা গেলে বাহা’ই উত্তরাধিকার আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি এইরূপ:
1। যদি মৃত ব্যক্তিটি একজন পিতা হয় এবং একটি ব্যক্তিগত বাসগৃহ তার সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে এইরূপ বাসগৃহ জ্যেষ্ঠপুত্রের অধিকারভুক্ত হবে (প্রশ্ন ও উত্তর 34)।
2। যদি মৃত ব্যক্তিটির কোন পুরুষ বংশধর না থাকে, তাহলে বাসগৃহটির দুই-তৃতীয়াংশ তার নারী বংশধরদের মালিকানাভুক্ত হবে এবং বাকি তৃতীয় অংশ বিচারালয়ের অধিকারভুক্ত হবে (প্রশ্ন ও উত্তর 41, 72)। যে বিচারালয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি এই আইন প্রযোজ্য তার স্তর প্রসঙ্গে টীকা 42 দ্রষ্টব্য (টীকা 44ও দ্রষ্টব্য)।
3। সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ সাত শ্রেণীর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। প্রতি শ্রেণীর প্রাপ্য অংশসমূহের সংখ্যার বিস্তারিত বিবরণের জন্য প্রশ্ন ও উত্তরের 5 এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সংহিতার অধ্যায় 4.গ. 3.ক দ্রষ্টব্য।
4। যদি কোন শ্রেণীভুক্ত একের বেশি উত্তরাধিকারী থাকে, তাহলে এই শ্রেণীর জন্য ধার্য করা অংশ সমানভাবে তাদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে- তারা পুরুষ বা নারী হোক না কেন।
5। কোন সন্তান নেই - এরূপ অবস্থায় সন্তানদের অংশ বিচারালয়ের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে (প্রশ্ন ও উত্তর 7, 41 দ্রষ্টব্য)।
6। কেউ সন্তান রেখে গেলে, এবং অন্য যে কোন পক্ষের অথবা আর সব শ্রেণীর উত্তরাধিকারী বিদ্যমান না থাকলে, তাদের দুই-তৃতীয়াংশ উক্ত সন্তানের অধিকারভুক্ত হবে এবং এক-তৃতীয়াংশ বিচারালয়ের অধিকারভুক্ত হবে (প্রশ্ন ও উত্তর 7)।
7। যদি বিধিবর্ণিত নির্দিষ্ট শ্রেণীসমূহের কেউ বিদ্যমান না থাকে, তাহলে সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ মৃত ব্যক্তিটির ভ্রাতুষ্পুত্র, ভ্রাতুষ্পুত্রী এবং ভাগিনেয়, ভাগিনেয়ীগণ পাবে। যদি এরাও বিদ্যমান না থাকে, তাহলে ঐ একই অংশ পিতা-মাতার ভাই-বোন লাভ করবে; এদেরও অস্তিত্ব না থাকলে এদের পুত্র-কন্যারা লাভ করবে। যা ঘটুক না কেন অবশিষ্ট তৃতীয়াংশ বিচারালয়ের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে।
8। কোন লোক পূর্ববর্ণিত উত্তরাধিকারীদের কাউকে না রেখে গেলে সমুদয় সম্পত্তি বিচারালয়ে প্রত্যাবর্তন করবে।
9। বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেছেন যে, অ-বাহা’ইদের তাদের বাহা’ই পিতা-মাতা অথবা আত্মীয়দের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি লাভ করার কোন অধিকার নেই (প্রশ্ন ও উত্তর 34)। শৌগী এফেন্দী তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত একটি পত্রে প্রকাশ করেন যে, এই বাধা “শুধুমাত্র এইরূপ অবস্থায় প্রযোজ্য হয়, যখন একজন বাহা’ই ইষ্টিপত্র না রেখে মৃত্যুবরণ করে এবং এমতাবস্থায়, কিতাব-ই-আক্বদাস-এ ঘোষিত নিয়মাবলী অনুসারে তার সম্পত্তি বণ্টন করতে হবে। অন্যথায় একজন বাহা’ই, ধর্ম-নির্বিচারে যে কোন লোককে তার সম্পত্তি দান করতে স্বাধীন যদি সে তার ইচ্ছাসমূহকে সুনির্দিষ্ট করে একটি ইষ্টিপত্র রেখে যায়”। অতএব একটি ইষ্টিপত্র করে রেখে গেলে, একজন বাহা’ই-এর পক্ষে তার অ-বাহা’ই অংশীদার পুত্র-কন্যা অথবা আত্মীয়স্বজনকে সম্পত্তি দান করা সর্বদাই সম্ভব।
  উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনের বিস্তারিত অনুবিধিসমূহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সংহিতার অধ্যায়সমূহ 4.গ.3.ক-ণ। দ্রষ্টব্য।
প্রশ্ন-উত্তর 7 প্রশ্ন-উত্তর 34 প্রশ্ন-উত্তর 41 প্রশ্ন-উত্তর 69 প্রশ্ন-উত্তর 72

39. ভ্রাতাগণের ......পাঁচ ভাগ; ভগিনীগণের ....... চার ভাগ ¶20
প্রশ্ন ও উত্তরসমূহ মৃত ব্যক্তিটির ভ্রাতা-ভগ্নিদের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া উত্তরলব্ধি সংশ্লিষ্ট আইনের অনুবিধিসমূহ ও শর্তাবলী সম্প্রসারিত করেছে। যদি ভ্রাতাটি অথবা ভগিনীটি মৃত ব্যক্তিটির ন্যায় একই পিতা থেকে হয়, তাহলে সে তার জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া পূর্ণ অংশ উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করবে। কিন্তু যদি ভ্রাতাটি অথবা ভগিনীটি অন্য পিতা থেকে হয়ে থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট করে দেওয়া অংশের মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ সে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করবে, অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ বিচারালয়ে প্রত্যাবর্তন করবে (প্রশ্ন ও উত্তর 6)। অধিকন্তু, এইরূপ ক্ষেত্রে, যেখানে, মৃত ব্যক্তিটির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে তার আপন ভ্রাতা-ভগিনীরা বিদ্যমান, সেখানে মায়ের পক্ষের বৈমাত্রেয় ভ্রাতা-ভগিনীরা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি লাভ করবে না (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 53)। বৈমাত্রেয় ভ্রাতা-ভগিনীরা অবশ্য তাদের নিজেদের পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভের উপযুক্ত হবে।

40. শিক্ষকগণের ¶20
একটি ফলকলিপিতে আব্দুল-বাহা শিশুর আধ্যাত্মিক শিক্ষার সাথে জড়িত শিক্ষকদেরকে “আধ্যাত্মিক পিতার” সাথে তুলনা করেছেন যে পিতা “তার শিশুকে চিরস্থায়ী জীবন দ্বারা ভূষিত করেন”। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, ইহা-ই কারণ যে “ঈশ্বরের আইনে শিক্ষকগণ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে তালিকাভুক্ত হইয়াছে”।
বাহা’উল্লাহ সেইসব শর্তাবলী নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যে সব শর্তাবলী অনুযায়ী শিক্ষকটি (নারী বা পুরুষ) উত্তরাধিকার সূত্রে অংশ লাভ করবে (প্রশ্ন ও উত্তর 33)।

41. যখন আমরা এখনও জন্মগ্রহণ করে নাই এমন শিশুদের চিৎকার শ্রবণ করিলাম, তখন আমরা তাহাদের অংশকে দ্বিগুণ করিলাম এবং অন্যদের অংশ হ্রাস করিলাম ¶20
বা’ব-এর উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তিটির শিশুদের জন্য 540 অংশের অন্তর্ভুক্ত নয় অংশের বণ্টন ধার্য করা হয়। এই বণ্টন সম্পূর্ণ সম্পত্তির  এক-চতুর্থাংশেরও কম ছিল। বাহা’উল্লাহ তাদের অংশকে দ্বিগুণ করে 1,080 তে উন্নীত করেন এবং অন্য ছয় শ্রেণীর উত্তরাধিকারীদের জন্য ধার্যকৃত অংশ হ্রাস করেন। অধিকন্তু তিনি এই শ্লোকের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এবং উত্তরাধিকারের অংশ বণ্টনের ক্ষেত্রে ইহার নিহিতার্থের রূপরেখাও প্রদান করেন (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 5)।

42. বিচারালয় ¶21
কিতাব-ই-আক্বদাস-এ বিচারালয়ের উল্লেখে বাহা’উল্লাহ সার্বজনীন বিচারালয় ও স্থানীয় বিচারালয়ের মধ্যে সব সময় সুস্পষ্টভাবে পার্থক্য করেন না, উভয় প্রতিষ্ঠানই ঐ কিতাবে প্রতিষ্ঠিত। সমগ্র প্রতিষ্ঠানের স্তর বা স্তরসমূহ যাদের প্রতি প্রতিটি আইন প্রযোজ্য হবে তা পরে বিশদ- করণের জন্য উন্মুক্ত রেখে তিনি সচরাচর কেবল “বিচারালয়” উল্লেখ করেন।
  স্থানীয় কোষাগারের বার্ষিক আয়ের খাতসমূহ উল্লেখকারী একটি ফলকলিপিতে আব্দুল-বাহা ঐ সব উত্তরলব্ধি অন্তর্ভুক্ত করেন যার কোন উত্তরাধিকারী নেই, এই প্রকারে প্রকাশ পাচ্ছে যে, উত্তরলব্ধি সম্পর্কীয় আক্বদাস-এর এইসব অনুচ্ছেদে উল্লেখিত বিচারালয় হচ্ছে স্থানীয় বিচারালয়।

43. মৃত ব্যক্তি যদি সন্তান রাখিয়া যায়, কিন্তু অন্যান্য শ্রেণীর উত্তরাধিকারীগণের কেহ না থাকে ¶22
বাহা’উল্লাহ ব্যাখ্যা করেছেন যে,“এই বিধানের সাধারণ ও সুনির্দিষ্ট - উভয় প্রয়োগ রহিয়াছে, যাহা ব্যাখ্যা করে যে, যখনই উত্তরাধিকারীদের এই শেষোক্ত শ্রেণীর কোন বর্গ অবিদ্যমান থাকে, তখন তাহাদের উত্তরলব্ধির দুই-তৃতীয়াংশ সন্তানদের হস্তগত হয় এবং অবশিষ্ট তৃতীয়াংশ বিচারালয়ে প্রত্যাবর্তন করে” (প্রশ্ন-উত্তর 7)।

44. আমরা মৃত ব্যক্তির বাসগৃহ ও ব্যক্তিগত পোশাক-পরিচ্ছদ পুরুষ সন্তানদের প্রতি নির্দিষ্ট করিয়া দিয়াছি, নারী সন্তান অথবা অন্য উত্তরাধিকারীদের প্রতি নহে ¶25
একটি ফলকলিপিতে আব্দুল-বাহা প্রকাশ করেন যে, একজন মৃত ব্যক্তির বাসগৃহ ও ব্যক্তিগত পোশাক-পরিচ্ছদ পুরুষ বংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এগুলি বড় ছেলের অধিকারভুক্ত হয় এবং বড় ছেলের অবিদ্যমানতায়, এগুলি দ্বিতীয় বড় ছেলের উপর বর্তায় এবং এইভাবে চলতে থাকে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এই শর্ত জ্যেষ্ঠত্বের আইনের একটি প্রকাশ, যা ঈশ্বরের আইন দ্বারা অপরিবর্তনীয়ভাবে সমর্থিত হয়েছে। পারস্যে বাহা’ই ধর্মের একজন অনুসারীর কাছে একটি ফলকলিপিতে তিনি লিখেছিলেন: “সমস্ত স্বর্গীয় ধর্মবিধানে জ্যেষ্ঠপুত্রকে অসাধারণ মর্যাদা দেওয়া হইয়াছে। এমনকি বার্তাবাহকের মর্যাদায় তাহার জন্মগত অধিকার রহিয়াছে”। জ্যেষ্ঠ পুত্রটিকে প্রদত্ত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মর্যাদার সাথে আনুষঙ্গিক কর্তব্যসমূহের পালন অনুসরণ করছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ, ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে, তাঁর নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে তাঁর মায়ের যতœ নেওয়া ও অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনসমূহকে বিবেচনা করা।
  বাহা’উল্লাহ উত্তরাধিকার আইনের এই অংশটির বিভিন্ন দিকের বিশদ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বিশেষরূপে বিশদ করেছেন যে, যদি একাধিক বাসগৃহ থাকে, তাহলে প্রধানটি ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণটি পুত্র সন্তানটির অধিকারভুক্ত হবে। বাকি বাসগৃহগুলি মৃত ব্যক্তিটির অন্যান্য মালামালসহ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 34) এবং তিনি প্রকাশ করেন যে, পুত্র সন্তানের অবিদ্যমানতায় মৃত পিতার প্রধান বাসগৃহটির ও ব্যক্তিগত পোশাক-পরিচ্ছদের দুই-তৃতীয়াংশ কন্যা সন্তানের অধিকারে যাবে ও এক-তৃতীয়াংশ বিচারালয়ের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 72)। অধিকন্তু, বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেন যে, যখন মৃত ব্যক্তিটি একজন নারী, তখন তার সব ব্যবহৃত পোশাক-পরিচ্ছদ তার কন্যাদের মধ্যে সমানভাগে বণ্টন করে দিতে হবে। তার অব্যবহৃত পোশাক-পরিচ্ছদ, অলংকার এবং সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে এবং তার পরিহিত পোশাক-পরিচ্ছদও, যদি সে কোন কন্যা না রেখে গিয়ে থাকে (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 37)।

45. মৃত ব্যক্তির জীবদ্দশায় তাহার পুত্র মৃত্যুবরণ করিলে এবং সন্তান রাখিয়া গেলে, ঈশ্বরের গ্রন্থের বিধানানুযায়ী তাহারা তাহাদের পিতার অংশের উত্তরাধিকার লাভ করিবে ¶26
আইনের এই দিকটা শুধুমাত্র ঐ পুত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যে পুত্র তার পিতা অথবা মাতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করে। যদি মৃত ব্যক্তিটি কন্যা হয় এবং সন্তান রেখে যায়, তাহলে তার অংশ পরম পবিত্র গ্রন্থে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া সাত শ্রেণী অনুসারে ভাগ করে দিতে হবে (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 54)।

46. মৃত ব্যক্তি অপরিণত বয়সের সন্তান রাখিয়া গেলে তাহাদের উত্তরলব্ধির অংশ অবশ্যই একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি অথবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে বিশ্বাসভরে অর্পণ করিতে হইবে ¶27
এই অনুচ্ছেদে “বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি” ও “অছি” রূপে অনূদিত “আমিন” শব্দটি আরবীতে প্রধানতঃ বিশ্বাসভাজনতার ধারণার সাথে যুক্ত অর্থসমূহের এক প্রশস্ত পরিসর বহন করে। তবে এই শব্দটি এইরূপ গুণাবলীও প্রকাশ করে যেমন বিশ্বাসযোগ্যতা, আনুগত্য, বিশ্বস্ততা , ন্যায়পরায়ণতা, সততা, এবং এইরূপ আরও অনেক। “আমিন”-এর আইন সম্বন্ধীয় কথনে ব্যবহৃত অন্যগুলোর মধ্যে, একজন অছি, জামিনদার, তত্ত্বাবধায়ক অভিভাবক এবং একজন রক্ষককে নির্দেশ করে।

47. হুকুকুল্লাহ্ প্রদান, কোন ঋণ থাকিলে তাহা পরিশোধ, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও মৃতদেহ সমাহিতকরণের ব্যয় নির্বাহ ........................ পারে কেবল তখনই বিষয়-স¤পত্তির বিভক্তিকরণ হইবে ¶28
বাহা’উল্লাহ সুস্পষ্ট করেছেন যে, এইসব ব্যয় মেটানোর অগ্রগণ্যতার ক্রম অনুসারে প্রথমটি হচ্ছে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও সমাধিস্থকরণের ব্যয়, তারপর মৃত ব্যক্তিটির ঋণসমূহ পরিশোধ, তারপর হুকুকুল্লাহ্ পরিশোধ (টীকা 125 দ্রষ্টব্য) (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 9)। তিনি আরও সুস্পষ্ট করেছেন যে, এইসব পরিশোধে যখন সম্পত্তি ব্যবহার করা হবে সর্বপ্রথম অবশ্যই সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ থেকে অর্থ প্রদান করতে হবে, তারপর, এটা যদি অপর্যাপ্ত হয়, তাহলে মৃত ব্যক্তিটির বাসভবন ও ব্যক্তিগত পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে প্রদান করতে হবে (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 80)।

48. ইহা সেই নিহিত জ্ঞান, যাহা কখনও পরিবর্তিত হইবে না, যেহেতু ইহার শুরু নয় দ্বারা ¶29
আরবী বায়ান-এ বা’ব তাঁর উত্তরাধিকার আইনকে “ঈশ্বরের গ্রন্থে একটি নিহিত জ্ঞান অনুসারে রচনা করিয়াছেন- যে জ্ঞান কখনও পরিবর্তিত হইবে না অথবা প্রতিস্থাপিত হইবে না” বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি আরও বিবৃত করেন যে, যে সংখ্যাগুলি দ্বারা উত্তরাধিকারের বিভাজনকে প্রকাশ করা হয়েছিল সেই সংখ্যাগুলিকে ঈশ্বর যাকে প্রকাশ করবেন, তাকে স্বীকারকরণে সাহায্য করার অভিপ্রেত অন্তর্নিহিত তাৎপর্য দ্বারা ভূষিত করা হয়েছিল ¶
এখানে উল্লেখিত “নয়” সংখ্যাটি আরবী মূল পাঠে “তা” অক্ষরের প্রতীকরূপে ব্যবহার করা হয়েছে, যা আবজাদ-এর গণনায় ইহার সমান (পুস্তকের শব্দকোষ দ্রষ্টব্য)। ইহাই বা’ব-এর উত্তরাধিকার বণ্টনের প্রথম উপাদান, যেখানে তিনি শিশুদের অংশস্বরূপ “নয় অংশ” মনোনীত করেন। এই শ্লোকের পরবর্তী অংশে পরোক্ষভাবে উল্লেখিত “গুপ্ত এবং সুস্পষ্ট, পবিত্র ও অনভিগম্য মহিমান্বিত নাম” রূপে “নয়”-এর অন্তর্নিহিত অর্থ সর্বমহান নাম “বাহা”র সংখ্যাসূচক সমান হওয়ার মধ্যে নিহিত রয়েছে (টীকা প্রশ্ন-উত্তর 33 দ্রষ্টব্য)।

49. পরম প্রভু আদেশ দিয়াছেন যে, প্রতিটি নগরে একটি করিয়া বিচারালয় প্রতিষ্ঠিত করা হইবে ¶30
বিচারালয়ের প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত পরিষদসমূহ নিয়ে গঠিত যেগুলো সমাজের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্য সম্পাদন করে। বাহা’উল্লাহ কিতাব-ই-আক্বদাস-এ সার্বজনীন বিচারালয় ও স্থানীয় বিচারালয় উভয়ের আদেশ দিয়াছেন। আব্দুল-বাহা, তাঁর ইষ্টিপত্রে, দ্বিতীয় পর্যায়ের (জাতীয় বা আঞ্চলিক) বিচারালয়সমূহ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং সার্বজনীন বিচারালয়ের নির্বাচনের জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতির ব্যাখ্যা করেছেন।
উপরে উল্লেখিত শ্লোক স্থানীয় বিচারালয়কে নির্দেশ করছে। এটি একটি প্রতিষ্ঠান যা একটি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে যখনই সেখানে নয় বা নয়-এর অধিক সংখ্যক বসবাসকারী বয়স্ক বাহা’ই রয়েছে। এই উদ্দেশ্যে বয়স্কের সংজ্ঞা অভিভাবক কর্তৃক সাময়িকভাবে 21 বৎসর নির্ধারিত হয়েছিল, তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে সার্বজনীন বিচারালয় কর্তৃক এর পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত রাখা হলো।
স্থানীয় ও দ্বিতীয় পর্যায়ভুক্ত বিচারালয়গুলি আপাতত স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ ও জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ রূপে পরিচিত। শৌগী এফেন্দী প্রকাশ করেছেন যে, এটি একটি “অস্থায়ী নাম” যা
...... বাহা’ই ধর্মের অবস্থান ও লক্ষ্যসমূহ যত অধিক উত্তমরূপে উপলব্ধি করা হবে ও অধিকতর পূর্ণভাবে স্বীকৃত হবে, ক্রমান্বয়ে ইহা বিচারালয়ের জন্য অধিকতর উপযুক্ত ও স্থায়ী পদবী দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে। বর্তমান দিনের আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহ ভবিষ্যতে শুধুমাত্র ভিন্ন রূপেই অভিহিত হবে না, বরং এই পরিষদগুলি ইহাদের বর্তমান ক্রিয়াকলাপের সাথে বাহা’উল্লাহর ধর্মের স্বীকৃত ঐ সব শক্তিসমূহ ও কর্তব্যসমূহও এবং অত্যাবশ্যক বিশেষ ক্ষমতাসমূহ যুক্ত করতে সমর্থ হবে কেবলমাত্র পৃথিবীর স্বীকৃত ধর্মীয় পদ্ধতিসমূহের মধ্যে একটি রূপে নয় বরং একটি স্বাধীন সার্বভৌম শক্তির রাষ্ট্রীয় ধর্মরূপে।

50. বাহা’র সংখ্যক ¶30
“বাহা”-র আবজাদ সংখ্যা সূচক মান হচ্ছে নয়। সার্বজনীন বিচারালয় এবং জাতীয় ও স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহের প্রত্যেকটিতে বর্তমানে নয় জন সদস্য আছে এটিই বাহা’উল্লাহ কর্তৃক অনুমোদিত সর্বনিম্ন সংখ্যা।

51. তাহাদের নিজেদেরকে মানবমন্ডলীর মধ্যে পরম করুণাময়ের বিশ্বস্ত ব্যক্তিবর্গ...ঈশ্বর নিযুক্ত অভিভাবকবৃন্দরূপে গণ্য করা উপযুক্ত হইবে ¶30
সার্বজনীন বিচারালয়ের, জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহের ও স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহের সাধারণ ক্ষমতা ও করণীয় কর্তব্যসমূহ সম্বন্ধে এবং সদস্য হওয়ার যোগ্যতাসমূহ বাহা’উল্লাহ ও আব্দুল বাহা’র লিখনাবলীতে, শৌগী এফেন্দীর পত্রসমূহে, এবং সার্বজনীন বিচারালয়ের বিশদীকরণের মধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলির প্রধান কার্যাবলী সার্বজনীন বিচারালয়ের সংবিধানে এবং জাতীয় ও স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহের সংবিধানে বিশদ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

52. একত্রে পরামর্শ গ্রহণ করা ¶30
বাহা’উল্লাহ তাঁর ধর্মের মৌলিক নীতিমালাসমূহের মধ্যে পরামর্শকে অন্যতমরূপে প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং “সর্ব বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করিতে” তাঁর অনুসারীদের উপদেশ দিয়েছেন। তিনি পরামর্শকে “পথ নির্দেশনার আলো” রূপে এবং “বুদ্ধিবৃত্তি দানকারী” রূপে বর্ণনা করেছেন। শৌগী এফেন্দী বিবৃত করেন যে, “পরামর্শের নীতি” বাহা’ই প্রশাসনিক নিয়মতন্ত্রের “মৌলিক আইনসমূহের একটি গঠন করে”।
  প্রশ্ন-উত্তর 99 নম্বর প্রশ্ন ও উত্তরে বাহা’উল্লাহ পরামর্শের প্রক্রিয়া সম্বন্ধে বিশেষ ব্যাখ্যা দিয়েছেন, এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঐকমত্যে পৌঁছানোর গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন, এতে ব্যর্থ হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মত অবশ্যই প্রাধান্য পাবে। সার্বজনীন বিচারালয় বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, পরামর্শ সংশ্লিষ্ট এই নির্দেশনা আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি হয়েছিল পরামর্শ সম্বন্ধে বাহা’ই শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ সম্বন্ধে একটি প্রশ্নের উত্তরে। সার্বজনীন বিচারালয় দৃঢ়রূপে ঘোষণা করেন যে, আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহের উদ্ভব, যার প্রতি বন্ধুরা সাহায্যের জন্য সর্বদাই মুখ ফেরাতে পারে, প্রশ্ন ও উত্তরসমূহে বর্ণিত কার্যপ্রণালী অনুসরণ করা থেকে কোন অবস্থায় তাদেরকে নিষেধ করে না। ইচ্ছা করলে বন্ধুদের দ্বারা এই প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হতে পারে, যখন তারা তাদের নিজস্ব সমস্যাবলীতে পরামর্শ করতে ইচ্ছা করে।

53. দেশসমূহের সর্বত্র তোমরা.... উপাসনালয়সমূহ নির্মাণ কর ¶31
বাহা’ই উপাসনালয় ঈশ্বরের প্রশংসাকীর্তনের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। উপাসনালয়টি মাশ্রিকুল-আয্কারের (ঈশ্বরের প্রশংসার প্রাভাতিক স্থান) কেন্দ্রীয় অট্টালিকা গঠন করে, বিভিন্ন অংশ নিয়ে গঠিত একটি স্থাপত্য যা ভবিষ্যতে বি¯তৃতি প্রাপ্তির পরিসর অনুসারে উক্ত উপাসনালয়টি ছাড়াও-সামাজিক, মানবহিতৈষী, শিক্ষামূলক এবং বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান অনুসরণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত কিছুসংখ্যক অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করবে। আব্দুল-বাহা মাশ্রিকুল-আয্কারকে “পৃথিবীতে সর্বাপেক্ষা অত্যাবশ্যক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে অন্যতম” রূপে বর্ণনা করেছেন, এবং শৌগী এফেন্দী প্রকাশ করেন যে, ইহা “বাহা’ই উপাসনা ও সেবার” বিভিন্ন অংশের একত্রীকরণকে সুস্পষ্ট আকারে দৃষ্টান্ত দ্বারা প্রদর্শন করে। এই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ ক্রমবিকাশ পূর্বাহ্ণেই উপলব্ধি করে, শৌগী এফেন্দী বিবেচনা করেন যে, এই উপাসনালয় ও ইহার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলি “দুঃখ-কষ্ট ভোগরত ব্যক্তিদের যন্ত্রণা লাঘব করবে, দরিদ্রদের জীবন রক্ষার উপায় যোগাবে, পথিকদের আশ্রয় দেবে, প্রিয়জন বিয়োগে বিধুর ব্যক্তিদের সান্ত¡না যোগাবে, এবং অজ্ঞদের শিক্ষাদান করবে”। ভবিষ্যতে, বাহা’ই উপাসনালয়গুলি প্রতিটি শহরে ও গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হবে।

54. পরম প্রভু আদেশ দিয়াছেন যে, তোমাদের মধ্যে যাহারা সমর্থ, তাহারা পবিত্র গৃহটিতে তীর্থযাত্রা করিবে ¶32
এই অধ্যাদেশের অন্তর্ভুক্ত দুইটি পবিত্র গৃহ শিরাজে বা’ব-এর গৃহ এবং বাগদাদে বাহা’উল্লাহর গৃহ। বাহা’উল্লাহ সবিস্তারে পরিষ্কার বর্ণনা করেছেন যে, এই দুইটি গৃহের যে কোনটিতে তীর্থযাত্রা এই অনুচ্ছেদের প্রয়োজন পূর্ণ করবে (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 25, প্রশ্ন-উত্তর 29)। সুরা-ই-হজ্জ্ব নামে পরিচিত দুইটি পৃথক ফলকলিপিতে (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 10), বাহা’উল্লাহ এই তীর্থযাত্রার দুইটির প্রতিটির জন্য নির্দিষ্ট আচার-অনুষ্ঠানের বিধান দিয়েছেন। এই অর্থে, একটি তীর্থযাত্রার সম্পাদন এই দুইটি গৃহ সাধারণভাবে দর্শন অপেক্ষা অনেক অধিক।
  বাহা’উল্লাহর মৃত্যুর পর আব্দুল-বাহা বাহ্জীতে অবস্থিত বাহা’উল্লাহর সমাধিমন্দিরকে একটি তীর্থস্থানরূপে আখ্যায়িত করেন। একটি ফলকলিপিতে তিনি প্রকাশ করেন যে, “পরম পবিত্র সমাধিমন্দির, বাগদাদে অবস্থিত পবিত্র গৃহ এবং শিরাজে অবস্থিত বা’ব-এর শ্রদ্ধাস্পদ গৃহ তীর্থযাত্রার জন্য উৎসর্গীকৃত হইয়াছে”-এবং এই স্থান দুইটি দর্শন করা “বাধ্যতামূলক”, “যদি কাহারো সামর্থ্য থাকে এবং সক্ষম হয়, এবং কারুর পথে যদি কোন বাধা-বিঘœ না থাকে”। পরম পবিত্র সমাধিমন্দিরে তীর্থ- যাত্রার জন্য কোন আচার-অনুষ্ঠানের বিধান দেওয়া হয়নি।

55. এবং তিনি তাঁহার পক্ষ হইতে করুণাস্বরূপ নারীগণকে ইহা হইতে অব্যাহতি দিয়াছেন ¶32
বায়ান-এ বা’ব তাঁর ঐ সব অনুসারীদেরকে জীবনে একবার তীর্থযাত্রার জন্য আদেশ করেছিলেন, যারা ঐ যাত্রা করার জন্য আর্থিকভাবে সমর্থ ছিল। তিনি বিবৃত করেছিলেন, ভ্রমণের কঠোরতা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার জন্য এই ধর্মীয় কর্তব্য নারীদের জন্য অবশ্যপালনীয় নয়।
  অনুরূপভাবে বাহা’উল্লাহ তাঁর তীর্থস্থানে যাত্রার প্রয়োজন থেকে নারীদের অব্যাহতি দেন। সার্বজনীন বিচারালয় বিশদ করেছেন যে, এই অব্যাহতি একটি নিষেধাজ্ঞা নয়, নারীরা তীর্থযাত্রা করায় স্বাধীন।

56. কোন প্রকার পেশায় নিযুক্ত হওয়া ¶33
একটি ব্যবসায় বা পেশায় নিযুক্ত হওয়া নারী-পুরুষদের জন্য বাধ্যতামূলক। বাহা’উল্লাহ “এইরূপ কর্মে নিযুক্তিকে” ঈশ্বরের “আরাধনার পর্যায়ে” উন্নীত করেছেন। এই আইনের আধ্যাত্মিক ও ব্যবহারিক তাৎপর্য, এবং ইহার বাস্তবায়নের জন্য ব্যক্তি ও সমাজের পারস্পরিক দায়িত্ব সম্বন্ধে শৌগী এফেন্দীর পক্ষ থেকে লিখিত একটি পত্রে ব্যাখ্যা করা হয়েছে :
  বিশ্বাসীদের যে কোন প্রকার পেশায় নিযুক্তি সম্বন্ধে বাহা’উল্লাহর আদেশ সম্পর্কে ঃ এ বিষয়ে বাহা’ই শিক্ষা অত্যধিক জোরালো - বিশেষরূপে এই মর্মে আক্বদাস-এ বিবৃতিটি - যা সুস্পষ্টরূপে প্রকাশ করে যে, যে সমস্ত লোকেরা কর্মবিমুখ - অর্থাৎ কাজ করতে অনিচ্ছুক, নব বিশ্ব-নিয়মতন্ত্রে তাদের কোন স্থান নেই। এই নীতির একটি অনুসিদ্ধান্তরূপে বাহা’উল্লাহ আরও বিবৃত করেন যে, ভিক্ষাবৃত্তিকে শুধুমাত্র নিরুৎসাহিত করলেই চলবে না, এটাকে সমাজের মুখমন্ডল থেকে সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলতে হবে। সামাজিক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কর্তব্য হচ্ছে প্রত্যেক ব্যক্তিকে কোন প্রকার পেশায় অত্যাবশ্যক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ প্রদান করা, এবং এইরূপ একটি দক্ষতা কাজে লাগানোর উপায় দান করা, যাতে সে তার জীবিকার জন্য অর্থ-সম্পদ অর্জন করতে পারে। যতই প্রতিবন্ধী অথবা সীমাবদ্ধ হোক না কেন, প্রত্যেক ব্যক্তি কোন না কোন কাজে বা পেশায় নিযুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতার অধীন, কারণ কাজ, বিশেষরূপে যখন সেবার উদ্দীপনায় সম্পাদিত হয়, তখন তাহা, বাহা’উল্লাহর শিক্ষা অনুযায়ী, উপাসনার রূপ লাভ করে। ইহার যে শুধুমাত্র একটি উপযোগবাদী উদ্দেশ্য রয়েছে তাই নয়, ইহার সত্তার মধ্যেই একটি মূল্য রয়েছে, কারণ ইহা আমাদেরকে ঈশ্বরের নিকটতর করে, এবং ইহজগতে আমাদের জন্য তাঁর উদ্দেশ্যকে উত্তমরূপে উপলব্ধি করতে আমাদের সমর্থ করে। অতএব এটা সুস্পষ্ট যে, সম্পদের উত্তরাধিকার কাউকে দৈনিক কাজ থেকে মুক্তি দিতে পারে না।
তাঁর ফলকলিপিসমূহের একটিতে আব্দুল-বাহা ইহা বিবৃত করেন যে “যদি একজন লোক জীবিকা অর্জনে অসমর্থ হয়, নিদারুণ দারিদ্র্যে পীড়িত হয় অথবা অসহায় হয়ে পড়ে, তাহলে ধনবানদের অথবা প্রতিনিধিদের অপরিহার্য কর্তব্য হচ্ছে এই লোকের জীবন-ধারণের জন্য একটি মাসিক ভাতা বরাদ্দ করা.. “প্রতিনিধিদের” দ্বারা লোকদের প্রতিনিধি বোঝাচ্ছে, অর্থাৎ বিচারালয়ের সদস্যদের বোঝাচ্ছে”। (ভিক্ষাবৃত্তি সম্বন্ধে টীকা 162 দ্রষ্টব্য)।
  বাহা’উল্লাহর নির্দেশ কি স্বামীর পাশাপাশি স্ত্রী ও মাতাকেও জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করতে বলে, এই বিষয়ে একটি প্রশ্নের উত্তরে সার্বজনীন বিচারালয় ব্যাখ্যা করেছেন যে, বন্ধুদের জন্য বাহা’উল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে একটি পেশায় নিযুক্ত হওয়া - যা তাদের নিজেদেরকে ও অন্যদেরকে উপকার করবে, এবং সংসারের পরিচর্যা সমাজের কাছে একটি অত্যধিক সম্মানজনক ও দায়িত্বপূর্ণ মৌলিক গুরুত্বের কাজ।
  নির্দিষ্ট বয়সে উপনীত লোকদের জন্য কাজ থেকে অবসর গ্রহণ সম্বন্ধে শৌগী এফেন্দী, তাঁর পক্ষে লিখিত একটি পত্রে, বিবৃত করেছিলেন যে “এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারালয়কে আইন প্রণয়ন করতে হবে, কারণ এ বিষয়ে আক্বদাস-এ কোন অনুবিধি নেই”।

57. গ্রন্থে হস্তচুম্বন নিষিদ্ধ করা হইয়াছে ¶34
পূববর্তী কিছুসংখ্যক ধর্মবিধানে ও নির্দিষ্ট সংস্কৃতিতে একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব অথবা একজন খ্যাতনামা ব্যক্তির হস্তচুম্বন এইরূপ ব্যক্তিদের কাছে শ্রদ্ধা ও ভক্তির একটি চিহ্নস্বরূপ ও তাদের কর্তৃত্বের কাছে বশ্যতার নিদর্শনস্বরূপ আশা করা হতো। বাহা’উল্লাহ হস্তচুম্বন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন, এবং তাঁর ফলকলিপিতে তিনি অধিকন্তু একজন লোককে অন্য একজনের সামনে ভূমিগত প্রণতিপাত করার ন্যায় এইরূপ প্রথাসমূহ এবং অন্যপ্রকারের আচরণকেও নিন্দা করেন - যে আচরণ একজন লোককে অপরের কাছে হীনপদস্থ করে (টীকা 58 দ্রষ্টব্য)।

58. অপর কোন আত্মা হইতে পাপের ক্ষমা প্রার্থনা করিবার অনুমতি কাহাকেও দেওয়া হয় নাই ¶34
বাহা’উল্লাহ কোন ব্যক্তির নিকট পাপ স্বীকার এবং একজন মানুষের কাছ থেকে কারো পাপের ক্ষমা প্রার্থনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এর পরিবর্তে ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করতে হবে। বিশারৎ-এর ফলকলিপিতে তিনি বিবৃত করেছেন যে “লোকদের সামনে এইরূপ পাপ স্বীকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবমাননা ও মর্যাদাহানিতে পরিণত হয়,” এবং তিনি দৃঢ়রূপে বলেন যে, ঈশ্বর “তাঁর ভৃত্যদের অবমাননা কামনা করেন না”।
  শৌগী এফেন্দীর পক্ষ থেকে তাঁর সচিব লিখেছেন যে, ক্যাথলিক খ্রিষ্টানরা যেরূপ তাদের পুরোহিতদের কাছে তাদের পাপ স্বীকার করে, এইরূপ আমাদেরকে কোন লোকের কাছে প্রকাশ্য পাপ ও দোষ-ত্রুটি স্বীকার করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু যদি আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকার করতে ইচ্ছা করি যে আমরা কোন কিছুতে অন্যায় করে ফেলেছি, অথবা মনে করি যে আমাদের নৈতিক চরিত্রে কিছু দোষ-ত্রুটি আছে, এবং অন্য লোকের কাছে ক্ষমা বা মার্জনা ভিক্ষা করি, তাহলে এইরূপ করতে আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীন।
  সার্বজনীন বিচারালয়ও বিশদ ব্যাখ্যা করেছেন যে, পাপ স্বীকার সংক্রান্ত বাহা’উল্লাহর নিষেধাজ্ঞা বাহা’ই প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুষ্ঠিত পরামর্শ সভায় নিজের ভুল স্বীকার করা থেকে নিবৃত্ত করে না। অনুরূপভাবে, এইরূপ বিষয়-ব্যাপারে একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বা একজন পেশাদার উপদেষ্টার কাছ থেকেও উপদেশ গ্রহণের সম্ভাবনাকে নাকচ করে না।

59. জনমন্ডলীর মধ্যে ঐ ব্যক্তি রহিয়াছে যে দরজার পাশে পাদুকাগুলির মধ্যে বসিয়া থাকে, পক্ষান্তরে তাহার হৃদয় সম্মানের আসনের জন্য লালায়িত ¶36
ঐতিহ্যগতভাবে প্রাচ্যে একটি জনসভায় প্রবেশের পূর্বে জুতা খোলার প্রথা বহাল হয়ে এসেছে। প্রবেশ পথ থেকে কক্ষের দূরবর্তী অংশটি কক্ষটির প্রধান অংশ ও সম্মানের একটি স্থান রূপে বিবেচিত হয়। এই স্থানে উপস্থিত লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা খ্যাতনামা ব্যক্তিগণ উপবিষ্ট হয়। অন্যান্য লোকেরা মর্যাদার ক্রম অনুসারে দরজার দিকে বসে যেখানে জুতা ও পাদুকা রাখা হয় সেখানে নিু শ্রেণীর লোকেরা বসে।

60. এবং জনমন্ডলীর মধ্যে ঐ ব্যক্তি রহিয়াছে, যে নিগূঢ় জ্ঞানের ...দাবি করে ¶36
এটি ঐ সমস্ত লোকের প্রতি ইঙ্গিত করে যারা গূঢ় জ্ঞান উপলব্ধি করার ক্ষমতা দাবি করে এবং এইরূপ জ্ঞানের সাথে তাদের সংযুক্তি ঈশ্বরের প্রকাশের প্রত্যাদেশ থেকে তাদেরকে পর্দাবৃত করে। অন্যত্র বাহা’উল্লাহ দৃঢ়রূপে বলেন ঃ ‘‘যাহারা তাহাদের কল্পনাসমূহের সৃষ্ট প্রতিমার পূজারী, এবং ইহাকে অন্তরতর সত্যরূপে অভিহিত করে, এইরূপ লোকেরা প্রকৃতপক্ষে পৌত্তলিকদের মধ্যে গণ্য’’।

61. ভারতের ভূ-খ-সমূহের কত না লোক নিজেকে সমাজ হইতে বিচ্ছিন্ন করিয়াছে, ঈশ্বর যেসব বস্তুকে বৈধ বলিয়া আদেশ করিয়াছেন সেইগুলি হইতে নিজেকে বঞ্চিত করিয়াছে, তাহারা নিজের উপর ইন্দ্রিয়নিগ্রহ ও কঠোর সংযম চাপাইয়া দিয়াছে ¶36
এই শ্লোকগুলি সন্ন্যাস জীবনের ও কঠোর সংযমের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, সংক্ষিপ্তবিবরণ ও সংহিতা, অধ্যায় 4.ঘ.ঠ.ম.3 দ্রষ্টব্য। স্বর্গের বাণীতে বাহা’উল্লাহ এই অনুবিধিগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। তিনি বিবৃত করেন ঃ “নির্জন বাস অথবা কঠোর সংযম চর্চা ঈশ্বরের সমক্ষে গ্রহণযোগ্য নহে,” এবং যারা এতে বিজড়িত তাদেরকে “যাহা কিছু আনন্দ ও উজ্জ্বলতা ঘটাইবে তাহা পালন করিতে” আহ্বান করেন, যারা “পাহাড়-পর্বত-গুহায়” তাদের গৃহ স্থাপন করেছে, অথবা যারা “রাত্রে কবরস্থানে গমন করে”, তাদেরকে এইসব প্রথা পরিত্যাগ করতে এবং মানবজাতির জন্য ঈশ্বর কর্তৃক সৃষ্ট এই জগতের “দানসমূহ” থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত না করতে আদেশ করেন। এবং বিশারতের ফলকলিপিতে সন্ন্যাসীদের ও পুরোহিতদের “সৎ কার্যাবলী’’ প্রতি স্বীকৃতিপূর্বক, বাহা’উল্লাহ তাদেরকে “নির্জন জীবনযাপন পরিত্যাগ করিতে এবং মুক্ত পৃথিবীতে তাহাদের পদক্ষেপগুলি পরিচালনা করিতে এবং যাহা কিছু তাহাদেরকে ও অন্যদের উপকার করিবে তাহা নিয়া তাহাদেরকে ব্যস্ত রাখিতে আহ্বান করেন”। অধিকন্তু তিনি তাঁদের অনুমতি দেন “বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হইতে যাহাতে এমন কাহাকে জন্ম দিতে পারে যে ঈশ্বরের নাম উল্লেখ করিবে”।

62. যে কেহ একটি পূর্ণ সহস্র বর্ষ অতিক্রান্ত হইবার পূর্বে ঈশ্বর হইতে সরাসরি একটি প্রত্যাদেশের দাবি করে ¶37
ঈশ্বরের পরবর্তী প্রকাশ আবির্ভূত না হওয়া পর্যন্ত বাহা’উল্লাহর ধর্মবিধান স্থায়ী থাকবে, যার আগমন “পূর্ণ এক হাজার বৎসর” অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সংঘটিত হবে না। বাহা’উল্লাহ “এই শ্লোকের” প্রতি ইহার “সুস্পষ্ট অর্থ” ব্যতীত অন্য কোন কিছু আরোপ না করতে সতর্ক করে দেন, এবং তাঁর একটি ফলকলিপিতে তিনি সবিস্তারে বর্ণনা করেন যে, এই হাজার বৎসর ব্যাপ্তিকালের “প্রতি বৎসর কোরআন অনুসারে বার মাস নিয়ে গঠিত এবং বায়ান অনুসারে প্রতি 19 দিনের 19 মাস নিয়ে গঠিত”।
  1852 সালের অক্টোবর মাসে, তেহরানের সিয়াহ্চাল কারাগারে বাহা’উল্লাহর প্রতি তাঁর প্রত্যাদেশের ইঙ্গিত, তাঁর দৌত্যের জন্মকে চিহ্নিত করে, এই সময় থেকেই শুরু করে ঈশ্বরের পরবর্তী প্রকাশের পূর্বে এক হাজার বৎসর অথবা এর বেশি অবশ্যই অতিবাহিত হবে।

63. যাহা সম্বন্ধে ইরাকে আমাদের বসবাসকালে এবং অতঃপর রহস্যময় দেশে তোমাদিগকে পূর্ব হইতে সতর্ক করিয়াছিলাম এবং এখন এই দীপ্তিশীল স্থান হইতে সতর্ক করিতেছি ¶37
“রহস্যময় দেশ” আদ্রিয়ানাপোলকে নির্দেশ করছে, এবং “এই দীপ্তিশীল স্থান’’ আক্কা-কে নির্দেশ করছে।

64. জনমন্ডলীর মধ্যে সেই ব্যক্তি যাহার জ্ঞান তাহাকে গর্বিত করিয়াছে .....সে যখন তাহার পশ্চাতে অনুসরণকারী পাদুকার শব্দ শ্রবণ করে, তখন সে .... শ্রেষ্ঠতর ভাব গ্রহণ করে ¶41
প্রাচ্যদেশে একজন ধর্মীয় নেতার অনুসারীদের জন্য শ্রদ্ধা প্রদর্শনের নিমিত্ত তাঁর থেকে এক বা দুই পদক্ষেপ পিছনে হাঁটার প্রচলিত রীতি রয়েছে।।

65. নমরুদ ¶41
এই শ্লোকে উল্লেখিত নমরুদ হচ্ছে ইহুদী ও ইসলামের উভয় ধর্মের গ্রন্থে উল্লেখিত প্রখ্যাত একজন রাজা যে ইব্রাহিমকে উৎপীড়িত করেছিল এবং যার নাম অত্যধিক অহংকারের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

66. আঘ্সান ¶42
‘‘আঘ্সান’’(ঘুসন-এর বহুবচন) শাখাসমূহের আরবী প্রতিশব্দ। বাহা’উল্লাহ তাঁর পুরুষ বংশধরদের আখ্যায়িত করার জন্য এই পদ ব্যবহার করেছেন। ইহার নির্দিষ্ট সংশ্লেষ শুধুমাত্র প্রদত্ত সম্পত্তির হস্তান্তরিতকরণের জন্য নয় বরং বাহা’উল্লাহর (টীকা 145 দ্রষ্টব্য) এবং আব্দুল বাহা’র মৃত্যুর পর কর্তৃত্বের উত্তরসূরির জন্যও বটে। বাহা’উল্লাহ তাঁর চুক্তিপত্রের গ্রন্থে, তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র আব্দুল-বাহা’কে তাঁর চুক্তিপত্রের কেন্দ্রবিন্দু এবং ধর্মের প্রধান রূপে নিযুক্ত করেছেন। আব্দুল-বাহা তাঁর ইষ্টিপত্রে তাঁর দৌহিত্র শৌগী এফেন্দীকে ধর্মের অভিভাবক এবং প্রধান রূপে নিযুক্ত করেছেন।
  এমতাবস্থায়, আক্বদাস-এর এই অনুচ্ছেদটি মনোনীত আঘ্সানদের ও এইরূপে অভিভাবকত্বের উত্তরসূরি প্রত্যাশা করে এবং তাদের বংশাদির পরম্পরায় একটি বিযুক্তির সম্ভাবনা মনশ্চক্ষে কল্পনা করে। 1957 সালে শৌগী এফেন্দীর মৃত্যু, এই অনুচ্ছেদে শর্ত-আরোপিত অবস্থাটি-ই ত্বরান্বিত করে, এই অবস্থায় যে, সার্বজনীন বিচারালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে আঘ্সানদের বংশপরম্পরা শেষ হয়ে গিয়েছিল (টীকা 67 দ্রষ্টব্য)।

67. বাহা’র সেই জনমন্ডলীর নিকট প্রত্যাবর্তন করিবে ¶42
বাহা’উল্লাহ সম্ভাবনার শর্ত আরোপ করেন যে, আগসানদের বংশপরম্পরা সার্বজনীন বিচারালয়ের প্রতিষ্ঠার পূর্বে শেষ হয়ে যেতে পারে। তিনি প্রকাশ করেন যে, এমতাবস্থায় ‘দানকৃত সম্পত্তিসমূহ বাহা’র জনমন্ডলীর কাছে প্রত্যাবর্তন করবে”। “বাহা’র জনমন্ডলী” উক্তিটি বাহা’ই লিখনাবলীতে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে, ঐ লোকগুলিকে বর্ণনা করা হয়েছে তাদের মত যারা “তাঁর অনুমতি ব্যতীত কথা বলে না এবং এই ফলকলিপিতে ঈশ্বর যে বিধান দিয়েছেন সেই নিয়ম ছাড়া বিচার করে না”। 1957 সালে শৌগী এফেন্দীর মৃত্যুর পরে 1963 সালে সার্বজনীন বিচারালয়ের নির্বাচন-পূর্ব পর্যন্ত ঐশী ধর্মবাহুগণ ধর্মের বিষয়াদি পরিচালনা করেছিলেন। (টীকা 183 দ্রষ্টব্য)

68. তোমাদের মস্তকসমূহ মুন্ডন করিও না ¶44
কোন কোন ধর্মীয় প্রথায় মস্তক মু-ন বাঞ্ছনীয় বলে বিবেচিত হতো। মস্তক মুন্ডন বাহা’উল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়েছে, এবং তিনি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন যে, শিরাজে অবস্থিত পবিত্র গৃহে তীর্থযাত্রীদের জন্য মস্তকমুন্ডনের বিধান যা তাঁর সুরা-ই-হজ্জ-এ দেওয়া হয়েছিল কিতাব-ই-আক্বদাস-এর এই শ্লোক দ্বারা রদ করা হয়েছে (টীকা 183 দ্রষ্টব্য)।

69. চুলকে কর্ণের সীমা ছাড়াইয়া যাইতে দেওয়া উচিত নহে ¶44
শৌগী এফেন্দী সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা করেছেন যে, মস্তক মু-ন সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞার বিপরীত, কর্ণের নিুভাগ ছাড়িয়ে চুলের বৃদ্ধি নিষিদ্ধকারী এই আইন শুধুমাত্র পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এই আইনের প্রয়োগ সম্বন্ধে সার্বজনীন বিচারালয় কর্তৃক ব্যাখ্যাদানের প্রয়োজন হবে।

70. চোরের জন্য নির্বাসন ও কারাবাসের আইন জারি করা হইল ¶45
বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেন যে, অপরাধের গুরুত্ব অনুসারে দন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ ন্যায়বিচারের আওতাধীন থাকছে (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 49)। চুরির জন্য শাস্তিসমূহ সমাজের একটি ভবিষ্যৎ অবস্থার জন্য অভিপ্রেত, যখন সার্বজনীন বিচারালয় এইসব শাস্তির বিধান সম্পূরক ও প্রয়োগ করবেন।

71. তৃতীয়বার অপরাধের জন্য তোমরা তাহার ললাটের উপর একটি চিহ্ন প্রদান কর, এইরূপে চিহ্নিত হওয়ায়, সে যেন ঈশ্বরের নগরসমূহ এবং তাঁহার দেশসমূহে গৃহীত হইতে না পারে ¶45
চোরের ললাটের উপর অঙ্কিত চিহ্নটি তার প্রবণতাসমূহ সম্বন্ধে লোকদেরকে সতর্কীকরণের উদ্দেশ্য সাধন করবে। এই চিহ্নটির প্রকৃতি, এই চিহ্নটি কিভাবে প্রয়োগ করতে হবে, কতকাল এটি অবশ্যই ধারণ করতে হবে, কোন অবস্থাতে তা অপসারণ করা যেতে পারে, তাছাড়া চুরির বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্ব বিচার সম্পর্কে সমস্ত বিস্তারিত বিষয়সমূহ নির্ধারণ করার দায়িত্ব বাহা’উল্লাহ যখন এই আইন প্রয়োগ করা হবে সেই সময় সার্বজনীন বিচারালয়ের উপর ন্যস্ত করেছেন।

72. যে কেহ রৌপ্য ও স্বর্ণের পাত্র ব্যবহার করিতে ইচ্ছা করে সে তাহা করিতে স্বাধীন ¶46
বায়ানে বা’ব স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত পাত্রসমূহের ব্যবহার বৈধ করেন যেগুলোর ব্যবহার ইসলামে নিন্দনীয় ছিল। তা এইরূপে রদ হলো যা কোরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশ মোতাবেক নিন্দনীয় হয়নি, মুসলিম হাদিসসমূহ থেকে এর উদ্ভব হয়েছিল। এক্ষেত্রে বাহা’উল্লাহ বা’ব-এর বিধানকে অনুমোদন করেন।

73. সতর্ক হও যেন তোমরা খাদ্যগ্রহণকালে বাটি ও থালাস্থিত বস্তুর মধ্যে তোমাদের হাতগুলি ডুবাইয়া না দাও ¶46
“খাবারের মধ্যে কারো হাত ডুবিয়ে দেওয়া” সম্বন্ধে শৌগী এফেন্দী এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাখ্যা করেছিলেন। পৃথিবীর বহু অংশে প্রথানুযায়ী সবার জন্য একটি সাধারণ পাত্র থেকে হাত দিয়ে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।

74. তোমরা এইরূপ রীতির অনুসরণ কর, যাহা পরিশুদ্ধতার সহিত অত্যধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ ¶46
বিশুদ্ধতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব নির্দেশক কতিপয় অনুচ্ছেদের মধ্যে এইটিই প্রথম। এখানে “ বিশুদ্ধতা ” রূপে অনূদিত মূল আরবী “লাতাফাহ্” শব্দটির আধ্যাত্মিক ও বাহ্যিক উভয় সংশ্লেষ সহ অর্থসমূহের এক ব্যাপক পরিসর রয়েছে, যথা রুচিশীলতা, মার্জিত ভাব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ভদ্রতা, শিষ্টাচার, নম্রতা, কোমলতা ও সৌজন্যময়তা এবং তার সাথে সূক্ষ্ম, মার্জিত, পবিত্রীকৃত ও নিষ্কলুষ হওয়া। বিভিন্ন অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ অনুসারে কিতাব-ই-আক্বদাস-এ যেখানে ইহা দৃষ্ট হয়েছে, সেখানে ইহা হয় “বিশুদ্ধতা” অথবা “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা” রূপে অনূদিত হয়েছে।

75. যিনি ঈশ্বরের ধর্মের প্রাভাতিক স্থল, তাঁহার সর্বমহান অভ্রান্ততায় কোন অংশীদার নাই ¶47
ইশ্রাকাত-এর ফলকলিপিতে বাহা’উল্লাহ দৃঢ়রূপে বলেছেন যে, মহামহিম অভ্রান্ততা ঈশ্বরের প্রকাশগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
কতিপয় প্রশ্নের উত্তরে 45 অধ্যায়, আক্বদাস-এর এই শ্লোকের, আব্দুল বাহা’র একটি ব্যাখ্যার প্রতি নিয়োজিত। এই অধ্যায়ে তিনি অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, ঈশ্বরের প্রকাশগণের থেকে, অপরিহার্য “অভ্রান্ত-তায়” অবিচ্ছেদ্যতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং নিশ্চয় করে বলেন যে, “যাহা কিছু তাঁহাদের হইতে উদ্ভব হয়, তাহা সত্যের সহিত অভিন্ন, এবং বাস্তবতার অনুরূপ হয়”, এবং “সেইগুলি পূর্বের আইনসমূহের ছায়াধীন নহে”, এবং “যাহা কিছু তাঁহারা বলেন, তাহা ঈশ্বরের বাণী, এবং যাহা কিছু তাঁহারা সম্পাদন করেন, তাহা সব সৎ কাজ”।

76. প্রত্যেক পিতার প্রতি তাহার পুত্র ও কন্যাকে .....প্রশিক্ষণ দান করিতে নির্দেশ প্রদান করা হইয়াছে ¶48
আব্দুল-বাহা, তাঁর ফলকলিপিসমূহে, পিতা-মাতাকে শুধুমাত্র তাদের সকল পুত্র-কন্যাদেরকে শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলার দায়িত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেননি, বরং অধিকন্তু তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে “কন্যাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পুত্রদের অপেক্ষা অধিকতর অত্যাবশ্যক”, কারণ কন্যারা একদিন মা হবে, এবং মায়েরা নতুন প্রজন্মের প্রথম শিক্ষাদাতা। এমতাবস্থায় যদি একটি পরিবারের পক্ষে সকল পুত্র-কন্যাকে শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলা সম্ভব না হয়, তাহলে কন্যাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে, কারণ শিক্ষিতা মাতাদের মাধ্যমেই জ্ঞানের উপকারসমূহ অত্যন্ত ফলপ্রদভাবে ও দ্রুত সমাজের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত করা যেতে পারে।

77. ঈশ্বর প্রত্যেক ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীর উপর জরিমানা ধার্য করিয়াছেন, যাহা বিচারালয়ে পরিশোধ করিতে হইবে ¶49 
যদিও এখানে শব্দটি ব্যভিচার রূপে অনূদিত হয়েছে, ব্যাপকতম অর্থে ইহা বিবাহিত অথবা অবিবাহিত ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে অবৈধ যৌন সংগমকে নির্দেশ করে (শব্দটির সংজ্ঞার জন্য টীকা 36 দ্রষ্টব্য)। আব্দুল-বাহা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এখানে নির্দেশিত শাস্তি অবিবাহিত ব্যক্তিদের মধ্যে যৌন মিলনের জন্য হচ্ছে। তিনি প্রকাশ করেন যে, একজন বিবাহিত ব্যক্তির দ্বারা কৃত ব্যভিচারের জন্য শাস্তি বা জরিমানা নির্ধারণ করার দায়িত্ব সার্বজনীন বিচারালয়ের অধিকারভুক্ত থাকছে (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 49 দ্রষ্টব্য)।
  তাঁর ফলকলিপিসমূহের একটিতে আব্দুল-বাহা নৈতিকতার আইনগুলি লঙ্ঘনের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সংশ্লেষসমূহের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ করেন, এবং এখানে শাস্তি সম্বন্ধে তিনি প্রকাশ করেন যে, এই আইনের লক্ষ্য হচ্ছে সকলের কাছে স্পষ্ট করা যে, এইরূপ কর্মকা- ঈশ্বরের দৃষ্টিতে লজ্জাকর এবং এক্ষেত্রে অপরাধ প্রতিষ্ঠিত করা যেতে পারে এবং জরিমানা ধার্য হতে পারে, প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে অপরাধীদেরকে জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেওয়া যাতে তারা সমাজের চক্ষে লজ্জিত ও অপমানিত হয়। তিনি নিশ্চয় করে বলেন যে, এইরূপ প্রকাশ পাওয়াই সর্বাপেক্ষা বড় শাস্তি।
  এই শ্লোকে উল্লেখিত বিচারালয় অনুমেয়রূপে স্থানীয় বিচারালয়, যা বর্তমানে স্থানীয় আধ্যাত্মিক পরিষদ রূপে জ্ঞাত।

78. নয় মিশ্কাল স্বর্ণ, ইহা দি¦গুণ হইবে যদি তাহারা অপরাধটি পুনরায় সংঘটিত করে ¶49
মিশ্কাল হচ্ছে ওজনের একটি একক। মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত ঐতিহ্যগত মিশ্কাল 24 নাখুদের সমান। কিন্তু বাহা’ইদের দ্বারা ব্যবহৃত মিশ্কাল “বায়ান-এর বিনির্দেশ অনুসারে” 19 নাখুদের সমষ্টি (প্রশ্ন ও উত্তর 23)। এই মিশ্কালগুলির নয়-এর ওজন 32.775 গ্রাম অথবা 1.05374 ট্রয় আউন্সের সমান ।
  জরিমানা প্রয়োগ সম্বন্ধে বাহা’উল্লাহ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি পরবর্তী জরিমানা পূর্ববর্তী জরিমানাটির দ্বিগুণ (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 23); এভাবে ধার্যকৃত জরিমানা জ্যামিতিক ক্রমবৃদ্ধিতে বৃদ্ধি পায়। এই জরিমানা ধার্যকরণ সমাজের একটি ভবিষ্যৎ অবস্থার জন্য অভিপ্রেত  যে সময়ে সার্বজনীন বিচারালয় আইনটিকে সম্পূরক করবেন ও প্রয়োগ করবেন।

79. আমরা তোমাদের জন্য সঙ্গীত শ্রবণ ও গান গাওয়াকে বৈধ করিয়াছি ¶51
আব্দুল-বাহা লিখেছেন যে, “প্রাচ্যের কতিপয় জাতির মধ্যে, গান-বাজনা নিন্দনীয় বলে গণ্য ছিল”। যদিও কোরআনে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোন নির্দেশ নেই, তবুও কোন কোন মুসলমান সঙ্গীত শ্রবণ অবৈধ বলে বিবেচনা করে, পক্ষান্তরে অন্যেরা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ও নির্দিষ্ট শর্তাধীনে সঙ্গীত শ্রবণে আপত্তি করে না।
  বাহা’ই লিখনাবলীতে সঙ্গীতের প্রশংসায় কিছুসংখ্যক অনুচ্ছেদ রয়েছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ, আব্দুল-বাহা নিশ্চয় করে বলেন যে, “সঙ্গীত গাওয়া অথবা বাজানো, আত্মা ও হৃদয়ের পক্ষে আধ্যাত্মিক খাদ্য”।

80. হে তোমরা ন্যায়পরায়ণতার লোক সকল ¶52
আব্দুল-বাহা ও শৌগী এফেন্দীর লিখনাবলীতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যদিও সার্বজনীন বিচারালয়ের সদস্যপদ পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তবুও নারী-পুরুষ উভয়ই দ্বিতীয় পর্যায়ভুক্ত এবং স্থানীয় বিচারালয়সমূহে নির্বাচনের যোগ্য (বর্তমানে এগুলি স্থানীয় ও জাতীয় আধ্যাত্মিক পরিষদরূপে আখ্যায়িত)।

81. কোন লোককে আহত বা আঘাত করিবার শাস্তি আঘাতজনিত কষ্টের তীব্রতার উপর নির্ভর করে; প্রতিটি মাত্রার জন্য বিচারের পরম প্রভু একটি নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণের বিধান দিয়াছেন ¶56
যদিও বাহা’উল্লাহ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জরিমানার পরিমাণ “ক্ষতির তীব্রতার” উপর নির্ভর করে, তবে অপরাধের প্রতিটি স্তরের জন্য ক্ষতিপূরণের তাঁর ব্যাখ্যার বিস্তারিত বিবরণের কোন দলিল নেই। এসব নির্ধারণ করার দায়িত্ব সার্বজনীন বিচারালয়ের উপর ন্যস্ত ।

82. সত্য সত্যই, তোমাদিগকে প্রতিমাসে একবার ভোজ প্রদানের আদেশ দেওয়া হইয়াছে ¶57
এই আদেশ মাসিক বাহা’ই উৎসব অনুষ্ঠানের ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে এবং এইভাবে ঊনবিংশ দিবস ভোজের দৃষ্টান্ত গঠন করেছে। আরবী বায়ানে বা’ব আতিথেয়তা ও সাহচর্য প্রদর্শন করার জন্য প্রতি ঊনিশ দিনে একবার তাঁর অনুসারীদের একত্রিত হতে আহ্বান করেন। বাহা’উল্লাহ এখানে ইহাকে সমর্থন ও অনুমোদন করেন এবং এইরূপ উপলক্ষসমূহের ঐক্যসাধনকারী ভূমিকা লিপিবদ্ধ করেন।
  বাহা’উল্লাহর পর, আব্দুল বাহা ও শৌগী এফেন্দী এই আদেশের প্রাতিষ্ঠানিক তাৎপর্য পর্যায়ক্রমে উদ্ঘাটিত করেছিলেন। আব্দুল-বাহা এই সমাবেশগুলির আধ্যাত্মিক ও ভক্তিমূলক বৈশিষ্ট্যের গুরুত্বের উপর জোর দেন। শৌগী এফেন্দী ভোজ উৎসবটির ভক্তিমূলক ও সামাজিক দিকসমূহের আরও বিস্তৃতিসাধন ছাড়াও, এইরূপ সমাবেশসমূহের প্রশাসনিক উপাদানকে বিকশিত করেছেন, এবং পদ্ধতিগতভাবে ভোজ উৎসবটিকে প্রতিষ্ঠা করতঃ, সংবাদ ও বাণীসমূহের আদান-প্রদানসহ বাহা’ই সমাজের বিষয়াদি সম্বন্ধে পরামর্শ গ্রহণের একটি ব্যাপ্তিকাল যোগ করেছেন।
  এই আদেশ বাধ্যতামূলক কি-না এ সম্বন্ধে একটি প্রশ্নের উত্তরে বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেছিলেন যে, ইহা বাধ্যতামূলক নয় (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 48)। শৌগী এফেন্দী তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত একটি পত্রে আরও মন্তব্য করেন ঃ
  ঊনবিংশ দিবসের ভোজ উৎসবে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক নয়, তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এইরূপ উপলক্ষসমূহে উপস্থিত হওয়াকে একটি কর্তব্য ও সুযোগরূপে প্রত্যেক বিশ্বাসীর বিবেচনা করা উচিত।

83. যদি তোমরা শিকারি পশু অথবা পক্ষীসমূহের সাহায্যে শিকার কর, তাহা হইলে যখন তোমরা সেইগুলিকে তাহাদের শিকারের পশ্চাদ্ধাবনের জন্য প্রেরণ করিবে, তখন তোমরা ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ করিবে: তাহা হইলে উহারা যাহা-কিছু শিকার করুক না কেন, তাহা তোমাদের জন্য বৈধ হইবে, এমনকি যদি তোমরা তাহা মৃত দেখিতে পাও। ¶60
এই আইনের দ্বারা, বাহা’উল্লাহ শিকার সম্পর্কে অতীতের প্রচলিত রীতি ও ধর্মীয় নিয়ম-বিধিসমূহকে বহুলাংশে সহজ করেছেন। তিনি আরও বিবৃত করেছেন যে, তীর ও ধনুক, বন্দুক ও অনুরূপ অস্ত্র দ্বারা শিকারকরণ এই আদেশের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু ফাঁদে অথবা জালে পাওয়া মৃত শিকারের মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 24)।

84. মাত্রাতিরিক্ত শিকার না কর ¶60
যদিও শিকারকরণ বাহা’উল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়নি, তবুও অতিরিক্ত শিকারের বিরুদ্ধে তিনি সতর্ক করেছেন। যথোপযুক্ত সময়ে, সার্বজনীন বিচারালয় নির্ণয় করবেন কোন্ মাত্রা “অতিরিক্ত” শিকার বলে গণ্য হবে।

85. তিনি তাহাদিগকে অন্যের স¤পত্তি ভোগের অধিকার প্রদান করেন নাই ¶61
বাহা’উল্লাহর আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের আদেশটি অন্যের সম্পত্তিতে তাদের একটি অংশ প্রদানের আদেশ দান করে না। এই আদেশটি শিয়া মুসলিম রীতির বিপরীত - যে রীতিতে মুহম্মদের সরাসরি বংশধরেরা একটি নির্দিষ্ট করের একটি অংশ লাভের অধিকারী।

86. কেহ ইচ্ছাপূর্বক অগ্নিসংযোগে কোন আবাসগৃহ বিনাশ করিলে, তাহাকেও তোমরা অগ্নিসংযোগে পোড়াইয়া দিবে; কেহ উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপরের জীবন হনন করিলে, তাহাকেও তোমরা মারিয়া ফেলিবে ¶62
তাঁর ফলকলিপিসমূহে, আব্দুল-বাহা প্রতিশোধ ও শাস্তির মধ্যে পার্থক্যের ব্যাখ্যা করেন। তিনি দৃঢ়রূপে বলেন যে, ব্যক্তিদের প্রতিশোধ গ্রহণ করার কোন অধিকার নেই, প্রতিশোধ গ্রহণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ঘৃণিত, এবং শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যটি প্রতিশোধ নয়, বরং ইহা কৃত অপরাধের জন্য দ- নির্ধারণ করা। কতিপয় প্রশ্নের উত্তরে, তিনি নিশ্চিত করেন যে, সমাজের অধিকার হচ্ছে ইহার সদস্যদের রক্ষা করার ও ইহার অস্তিত্বের নিরাপত্তা বিধানের উদ্দেশ্যে অপরাধীদের উপর শাস্তি প্রয়োগ করা।
  এই অনুবিধি সম্বন্ধে শৌগী এফেন্দী তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত একটি পত্রে নি¤œলিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন ঃ
কিতাব-ই-আক্বদাস-এ বাহা’উল্লাহ খুনের জন্য শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদ- দেন। কিন্তু, তিনি ইহার বিকল্পস্বরূপ যাবজ্জীবন কারাদ- অনুমোদন করেছেন। উভয় প্রথাই তাঁর আইনানুসারে প্রচলিত থাকবে। আমাদের মধ্যে অনেকে এই আলোচ্য বিষয়টির বিজ্ঞতা অনুধাবন করতে না-ও সক্ষম হতে পারে যখন এটি আমাদের নিজেদের সীমাবদ্ধ পরিজ্ঞানের সঙ্গে মেলে না, তবুও তাঁর বিজ্ঞতা, তাঁর করুণা এবং সমস্ত জগৎবাসীর মুক্তির লক্ষ্যে তাঁর ন্যায়বিচার নির্ভুল - ইহা জেনে আমাদেরকে এই বিধান অবশ্যই মেনে নিতে হবে। যদি একজন লোককে মিথ্যাভাবে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে কি আমরা বিশ্বাস করতে পারি না যে, পরজগতে এই মানবীয় অবিচারের জন্য ঈশ্বর তাকে বহুগুণ প্রতিদান দেবেন? তুমি একটি হিতকর আইন বাদ দিতে পার না, কেবল এই কারণে যে কখনো কখনো নিরপরাধ ব্যক্তি শাস্তিপ্রাপ্ত হতে পারে।
খুন ও গৃহে অগ্নিসংযোগের জন্য শাস্তির বাহা’ই আইন সমাজের একটি ভবিষ্যৎ অবস্থার প্রেক্ষাপটে পরিকল্পিত একটি আইন, তার পুঙ্খানুুপুঙ্খ ও সবিশেষ বর্ণনা, বাহা’উল্লাহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেননি। আইনটির বিভিন্নমুখী দিকের পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সবিশেষ বর্ণনা - যথা অপরাধের গুরুত্ব, মাত্রাসমূহ, অপরাধের গুরুত্ব লাঘব করে এমন অবস্থা বিবেচনা করা হবে কি-না, এবং শাস্তি দুইটির মধ্যে কোন্টি আদর্শস্বরূপ হবে - তা যখন আইনটি কার্যকর করা হবে তখন বিদ্যমান অবস্থার আলোকে স্থির করার দায়িত্ব সার্বজনীন বিচারালয়ের উপর ন্যস্ত হয়েছে। গৃহে অগ্নিসংযোগ বিষয়ে, এটা নির্ভর করে কি “গৃহ” ভস্ম করা হয়েছে। যে ব্যক্তি একটি শূন্য গুদামঘর পুড়িয়ে ভস্ম করে এবং একজন যে শিশুদের দ্বারা পূর্ণ একটি বিদ্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে - এই দুইজনের অপরাধের পর্যায় ও মাত্রায় সুস্পষ্টভাবে ভীষণ পার্থক্য রয়েছে।

87. তোমরা অগ্নিসংযোগকারী ও খুনীকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিলেও তাহা এই ধর্মগ্রন্থের আইনের ধারা মোতাবেক অনুমোদনীয় হইবে ¶62
কিতাব-ই-আক্বদাস-এর এই শ্লোকটি সম্বন্ধে একটি প্রশ্নের উত্তরে শৌগী এফেন্দী দৃঢ়রূপে বলেন যে, যদিও মৃত্যুদ-ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, একটি বিকল্প “যাবজ্জীবন কারাদ-ের”- বিধান দেওয়া হয়েছে “যদ্বারা এইরূপ একটি দ-ের কঠোরতা গুরুতররূপে প্রশমিত করা যাইতে পারে”। তিনি বিবৃত করেন যে, “বাহা’উল্লাহ আমাদেরকে বেছে নেয়ার অধিকার দিয়েছেন, সুতরাং তিনি তাঁর আইন দ্বারা আরোপিত সীমার মধ্যে আমাদের নিজেদের বিচক্ষণতা প্রয়োগ করার স্বাধীনতা দিয়েছেন”। বাহা’ই আইনের এই দিকটার প্রয়োগ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশ না থাকায় এ বিষয়ে ভবিষ্যতে সার্বজনীন বিচারালয়ের আইন প্রণয়ন করার প্রয়োজন হবে।

88. ঈশ্বর তোমাদের প্রতি বিবাহের বিধান দিয়াছেন ¶63
বাহা’উল্লাহ্, তাঁর ফলকলিপির একটিতে, বিবৃত করেন যে, ঈশ্বর এই আইন প্রতিষ্ঠার দ্বারা বিবাহকে “মঙ্গল ও মুক্তির একটি দুর্গে” পরিণত করেছেন।
  সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সংহিতা, অধ্যায় 4.গ.1.ক-ণ, বিবাহ এবং যে শর্তাবলীতে বিবাহ করতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে কিতাব-ই-আক্বদাস-এ অনুবিধিগুলিকে সংক্ষেপে উপস্থাপিত ও সমন্বয় করেছে (প্রশ্ন ও উত্তর 3,13,46,50,84, এবং 92), বিবাহের বাগ্দান আইন (প্রশ্ন ও উত্তর 43), পণ প্রদান (প্রশ্ন ও উত্তর 12, 26, 39, 47,87, এবং 88), দীর্ঘকাল স্বামী বা স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে যে ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে (প্রশ্ন ও উত্তর 4 এবং 27), এবং কতিপয় অন্য অবস্থা (প্রশ্ন ও উত্তর 12 এবং 47) (টীকা 89 টীকা 90 টীকা 91 টীকা 92 টীকা 93 টীকা 94 টীকা 95 টীকা 96 টীকা 97 টীকা 98 টীকা 99 দ্রষ্টব্য)।
 প্রশ্ন-উত্তর 3 প্রশ্ন-উত্তর 4 প্রশ্ন-উত্তর 12 প্রশ্ন-উত্তর 13 প্রশ্ন-উত্তর 26 প্রশ্ন-উত্তর 27 প্রশ্ন-উত্তর 39 প্রশ্ন-উত্তর 43 প্রশ্ন-উত্তর 46 প্রশ্ন-উত্তর 47 প্রশ্ন-উত্তর 50 প্রশ্ন-উত্তর 84 প্রশ্ন-উত্তর 87 প্রশ্ন-উত্তর 88 প্রশ্ন-উত্তর 92

89. সতর্ক হও, যেন তোমরা দুই-এর অধিক স্ত্রী গ্রহণ না কর। যে কেহ ঈশ্বরের সেবিকাদের মধ্য হইতে একজন সঙ্গী লইয়া নিজেকে সন্তুষ্ট করে, সেই ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই শান্তিতে জীবনযাপন করিবে ¶63
যদিও কিতাব-ই-আক্বদাস-এর মূল ভাষ্য দুই বিবাহের অনুমতি দান করছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, বাহা’উল্লাহ উপদেশ দিচ্ছেন যে, সুখ ও পরিতৃপ্তি এক বিবাহ থেকে উদ্ভূত হয়। অন্য একটি ফলকলিপিতে তিনি কোন ব্যক্তির “নিজের ও তাহার জীবনসঙ্গিনীর জন্য স্বস্তি সৃষ্টি করিতে” এইরূপ পথ অবলম্বনের গুরুত্বের উপর জোর দেন। বাহা’ই লিখনাবলীর অধিকারপ্রাপ্ত ব্যাখ্যাকারী আব্দুল-বাহা দৃঢ়ভাবে বলেন যে, আক্বদাস-এর মূল পাঠে কার্যতঃ এক-বিবাহেরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিম্নলিখিত বিষয়সহ, তিনি এই মূল বিষয়বস্তুটিকে কয়েকটি ফলকলিপিতে বিশদ করেন ঃ
তোমরা জনিয়া রাখ যে, ঈশ্বরের আইনে বহুবিবাহের অনুমতি দেওয়া হয় নাই, কারণ এক স্ত্রীতে পরিতৃপ্ত থাকা সুস্পষ্টভাবে শর্তযুক্ত হইয়াছে। দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ, দুইটি স্ত্রীর মধ্যে সর্বাবস্থায় সমতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখিবার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দুই স্ত্রীর প্রতি সমতা ও ন্যায়পরায়ণতা পালন করা সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব। দ্বি-বিবাহের বিষয়টি যে একটি অসম্ভব শর্তের উপর নির্ভরশীল করা হইয়াছে তাহা ইহার সন্দেহাতীত নিষেধের সুস্পষ্ট প্রমাণ। এমতাবস্থায় একজন লোকের পক্ষে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করা অনুমোদনীয় নহে।
বহুবিবাহ, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানবজাতির মধ্যে, একটি অতি প্রাচীন প্রথা। এক-বিবাহের প্রচলন ঈশ্বরের বার্তবাহকদের দ্বারা কেবল ক্রমে ক্রমে সম্পাদিত হয়েছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ, যিশুখ্রিষ্ট বহুবিবাহ নিষেধ করেন নাই, কিন্তু ব্যভিচারের ক্ষেত্র ব্যতীত তালাক প্রথা তুলে দেন; মুহম্মদ স্ত্রীর সংখ্যা চার-এ সীমাবদ্ধ করেন, কিন্তু একাধিক স্ত্রী গ্রহণকে ন্যায়বিচারের সাথে শর্তযুক্ত করেন, এবং তালাকের অনুমতি পুনঃপ্রচলন করেন; বাহা’উল্লাহ যিনি একটি মুসলমান সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে তাঁর ধর্মীয় শিক্ষাদীক্ষা প্রদান করছিলেন, তিনি বিজ্ঞতা ও তাঁর উদ্দেশ্যের প্রগতিশীল নীতিমালা অনুসারে এক বিবাহের প্রসঙ্গভুক্ত বিষয়টি ক্রমে ক্রমে উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি যে তাঁর অনুসারীদেরকে তাঁর প্রকাশিত লিখনাবলীর এক নির্ভুল ব্যাখ্যাকারীর কাছে রেখে গিয়েছিলেন এই সত্যটিই তাঁকে কিতাব-ই-আক্বদাস-এ বাহ্যিকভাবে দুই স্ত্রীর অনুমতি দিতে সমর্থ করেছিল, কিন্তু একটি শর্ত তিনি তুলে ধরেছিলেন যা আব্দুল বাহা’কে পরবর্তীকালে বিশদ ব্যাখ্যা করতে সমর্থ করে সে আইনটির উদ্দেশ্য ছিল এক-বিবাহ বলবৎ করা।

90. যেই ব্যক্তি তাহার সেবায় একজন পরিচারিকা নিয়োগ করিতে চাহে, সে তাহা শোভনতা সহকারে করিতে পারে ¶63
বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেন যে, একজন লোক তার পারিবারিক সেবার জন্য একজন কুমারী মেয়েকে নিযুক্ত করতে পারে। ইহা শিয়া মুসলিম প্রথাধীনে অনুমোদনীয় ছিল না - যদি না গৃহকর্তা তার সঙ্গে একটি বিবাহের চুক্তিতে আবদ্ধ হতো। বাহা’উল্লাহ জোর দিয়ে বলেন যে, এই শ্লোকে উল্লেখিত “সেবাটি” হচ্ছে শুধুমাত্র “এইরূপ যা বেতনের বিনিময়ে অন্য যে কোন শ্রেণীর ভৃত্য দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাই তারা তরুণী বা বৃদ্ধা হোক না কেন” (প্রশ্ন ও উত্তর 30)। একজন মালিকের তার পরিচারিকার উপর কোন যৌন অধিকার নেই। সে (পরিচারিকা) “যে কোন সময় তার ইচ্ছানুযায়ী একজন স্বামী বেছে নিতে স্বাধীন”, কারণ নারী ক্রয় নিষিদ্ধ (প্রশ্ন ও উত্তর 30)।

91. তোমাদের প্রতি ইহা-ই আমার আদেশ; তোমাদের প্রতি একটি সহায়তাস্বরূপ ইহাতে দৃঢ়সংলগ্ন থাক ¶63
যদিও কিতাব-ই-আক্বদাস-এ বিবাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বাহা’উল্লাহ ব্যাখ্যা করেছেন যে, ইহা বাধ্যতামূলক নয় (প্রশ্ন ও উত্তর 46)। শৌগী এফেন্দীও তাঁর পক্ষ হতে লিখিত একটি পত্রে ঘোষণা করেন যে “বিবাহ কোন মতেই বাধ্যতামূলক নয়”, এবং তিনি দৃঢ়রূপে বলেন যে, “শেষ উপায় হিসেবে ইহা ব্যক্তিটির স্থির করার বিষয় যে, সে পারিবারিক জীবনযাপন করতে ইচ্ছা করে, না কৌমার্যের অবস্থায় জীবনযাপন করতে ইচ্ছা করে”। যদি একজনকে একটি স্বামী অথবা স্ত্রী খুঁজে পাওয়ার পূর্বে বেশ কিছুকাল অপেক্ষা করতে হয়, অথবা শেষ পর্যন্ত একাকী জীবনযাপন করতে হয়, তার অর্থ এই নয় যে এর ফলে ব্যক্তিটি তার জীবনের উদ্দেশ্য পূরণ করতে অসমর্থ হয়েছে, যা মূলতঃ আধ্যাত্মিক।

92. মাতা-পিতার অনুমতি আমরা শর্তমূলক করিয়াছি ¶65
তাঁর পক্ষ হতে লিখিত একটি পত্রে, শৌগী এফেন্দী আইনের এই শর্তটির উপর মন্তব্য করেছেন:
  বাহা’উল্লাহ সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেছেন একটি বাহা’ই বিবাহে জীবিত সকল পিতা-মাতার সম্মতি প্রয়োজন। পিতা-মাতা বাহা’ই হোক বা    অবাহা’ই, অনেক বছর পূর্বে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে থাকুক বা না থাকুক এটা প্রযোজ্য হবে। তিনি এই মহান আইন প্রদান করেছেন সামাজিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য, পারিবারিক জীবনের বন্ধনগুলিকে ঘনিষ্ঠতর করার জন্য, যারা তাদের জীবন দিয়েছে এবং তাদের স্রষ্টা অভিমুখে তাদের শ্বাশত যাত্রার উদ্দেশ্যে তাদের আত্মাগুলোকে অবমুক্ত করেছিল তাদের প্রতি সন্তানদের হৃদয়ে নির্দিষ্ট কিছু কৃতজ্ঞতা ও সম্মান স্থাপনের জন্য।

93. পণ প্রদান ব্যতীত কোন বিবাহের চুক্তি স¤পাদিত হইতে পারিবে না ¶66
সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সংহিতা, অধ্যায় 4.গ.1.ঞ.1-5 পণ বিষয়ক অনুবিধিগুলির সারাংশভাবে উপস্থাপিত করেছে। বায়ান-এ এই অনুবিধিসমূহের উদাহরণ রয়েছে।
বরকে এই পণ কনেকে দিতে হবে। এই পণ শহরে বাসিন্দাদের জন্য 19 মিশ্কাল খাঁটি স্বর্ণে, এবং গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য 19 মিশ্কাল রৌপ্যে স্থির করা হয়েছে (টীকা 94 দ্রষ্টব্য)। বাহা’উল্লাহ প্রকাশ করেছেন যে, যদি বিবাহের সময় বর এই পণ পূর্ণ পরিমাণে শোধ করতে অক্ষম হয়, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ে কনেকে অর্থ প্রত্যর্পণের একটি অঙ্গীকারপত্র দেওয়া অনুমোদনীয় (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 39)।
বাহা’উল্লাহর প্রত্যাদেশের সঙ্গে সঙ্গেই অনেক প্রচলিত মতবাদ ধ্যান-ধারণা, রীতি-নীতি, প্রথা এবং প্রতিষ্ঠান এসবের সংজ্ঞা পুনরায় নিরূপণ হয়েছে এবং নতুন অর্থ গ্রহণ করেছে। এগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে পণ। পণ-এর প্রতিষ্ঠানটি বহু সংস্কৃতিতে একটি অতি প্রাচীন প্রথা এবং এটা নানা আকারে। কোন কোন দেশে কনের পিতা-মাতারা এটা বরকে প্রদান করে থাকে; আবার অনেক দেশে এটি “কনের মূল্য” নামে পরিচিত। এটা বর কনের পিতা-মাতাকে প্রদান করে থাকে। উভয় ক্ষেত্রে পরিমাণটি বেশ অধিক হয়। বাহা’উল্লাহর আইন এইরূপ সব বিভিন্নতা তুলে দিয়ে পণটিকে একটি প্রতীকী আইনে পরিবর্তিত করেন, যদ্বারা বর একটি নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধ মূল্যের একটি উপহার কনেকে প্রদান করে।

94. শহরবাসীদের জন্য উনিশ মিশ্কাল খাঁটি স্বর্ণ এবং গ্রামবাসীদের জন্য ঐ একই পরিমাণ রৌপ্য ¶66
বাহা’উল্লাহ সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন যে, পণ প্রদান নির্ধারণের নির্ণায়ক হবে বরের স্থায়ী আবাসস্থলের উপর, কন্যার নয় (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 87 প্রশ্ন-উত্তর 88)।

95. যে কেহ এই পরিমাণ বৃদ্ধি করিতে ইচ্ছা করে, তাহাকে পঁচানব্বই মিশ্কালের সীমা অতিক্রম করিতে নিষেধ করা হইয়াছে।.....তবে সে যদি সর্বনিু পরিমাণ পণ প্রদানে সন্তুষ্ট হয়, তাহা হইলে গ্রন্থানুযায়ী ইহাই তাহার জন্য উত্তম হইবে ¶66
পণ সম্বন্ধে একটি প্রশ্নের উত্তরে, বাহা’উল্লাহ দৃঢ়ভাবে বলেছেন : শহরে ও গ্রামে বসবাসকারীদের সম্বন্ধে বায়ান-এ যা কিছু প্রকাশিত হয়েছে তা অনুমোদিত হয়েছে এবং তা পালন করতে হবে। অধিকন্তু, কিতাব-ই আক্বদাস-এ নিুতম পরিমাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বায়ান-এ গ্রামবাসীদের জন্য 19 মিশ্কাল রৌপ্য সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে। ঈশ্বরের কাছে ইহাই অধিকতর প্রীতিকর - যদি উভয় পক্ষ রাজি হয়। উদ্দেশ্য হচ্ছে সকলের স্বাচ্ছন্দ্য বিধান করা এবং লোকদের মধ্যে মিল ও ঐক্য ঘটানো। অতএব, এই বিষয়ে যত মহত্তর বিবেচনা প্রদর্শন করা হবে, ততই উত্তম হবে...। বাহা’র জনমন্ডলীকে অবশ্যই একে অন্যের সাথে মেলামেশা করতে হবে এবং অত্যধিক প্রীতি ও আন্তরিকতার সাথে আচার-আচরণ করতে হবে। তাদেরকে সকলের স্বার্থের প্রতি মনোযোগী হতে হবে - বিশেষ করে ঈশ্বরের বন্ধুদের প্রতি।
  আব্দুল-বাহা তাঁর ফলকলিপির একটিতে পণ-এর পরিমাণ নির্ধারণের অনুবিধিগুলির কয়েকটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন। নিম্নে বর্ণিত, উদ্ধৃতাংশে উল্লেখিত মাত্রা হচ্ছে “ওয়াহিদ”। এক “ওয়াহিদ” ঊনিশ মিশ্কালের সমান। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন:
  শহরবাসীদেরকে স্বর্ণে এবং গ্রামবাসীদেরকে অবশ্যই রৌপ্যে পরিশোধ করতে হবে। এটা বরের সম্পূর্ণ অধিকারে আর্থিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। যদি সে দরিদ্র হয় তাহলে তাকে এক ওয়াহিদ দিতে হবে; যদি সে মধ্যবিত্ত হয় তাহলে দুই ওয়াহিদ, যদি সে সচ্ছল হয় তাহলে তিন ওয়াহিদ, যদি সে সম্পদশালী হয় তাহলে চার ওয়াহিদ, এবং যদি খুব ধনী হয় তাহলে তাকে 5 ওয়াহিদ দিতে হবে। প্রকৃতপক্ষে এটি বর, কনে এবং তাদের পিতামাতার মধ্যে ঐকমত্যের ব্যাপার। যে ঐকমত্যে পৌঁছানো যাবে, সেটা পালন করতে হবে।
  এই একই ফলকলিপিতে আব্দুল-বাহা বিশ্বাসীদেরকে সার্বজনীন বিচারালয়ের কাছে এই আইনের প্রয়োগ সম্বন্ধে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করেছেন। সার্বজনীন বিচারালয়ের “আইন প্রণয়ন করার অধিকার রয়েছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই সেই সংস্থা যা আইন প্রণয়ন করে এবং গৌণ বিষয়সমূহের উপর আইন প্রণয়ন করবে যেসব বিষয় পবিত্র গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে নেই”।

96. তাঁহার ভৃত্যদের মধ্যে যে কেহ ভ্রমণে যাইবার ইচ্ছা করিলে, সে অবশ্যই তাহার স্ত্রীর জন্য একটি সময় নির্ধারণ করিবে যখন সে গৃহে প্রত্যাবর্তন করিবে ¶67
যদি স্বামী তার স্ত্রীকে তার প্রত্যাবর্তনের তারিখটি না জানিয়ে চলে যায়, এবং তার কোন সংবাদ স্ত্রীর কাছে না পৌঁছায়, এবং তার আর কোন খোঁজ পাওয়া না যায়, তাহলে বাহা’উল্লাহ বলেছেন যে, যদি ঐ স্বামী কিতাব-ই-আক্বদাস-এর বিধিবদ্ধ আইনটি সম্বন্ধে অবগত হয়ে থাকে, তাহলে স্ত্রীটি একটি পূর্ণ বছর অপেক্ষা করার পর পুনরায় বিবাহ করতে পারে। কিন্তু যদি স্বামীটি আইনটি সম্বন্ধে জ্ঞাত না হয়ে থাকে, তাহলে তার স্বামীর সংবাদ তার কাছে না পৌঁছানো পর্যন্ত তাকে অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 4)।

97. স্ত্রীর উচিত হইবে নয় মাস যাবৎ অপেক্ষা করা, ইহার পর তাহার পক্ষে অন্য স্বামী গ্রহণ করিতে আর কোন বাধা থাকিবে না ¶67
নির্দিষ্ট করে দেওয়া সময়ের ব্যাপ্তি শেষে স্বামীটি প্রত্যাবর্তন করতে ব্যর্থ হলে, অথবা বিলম্বের কথা তার স্ত্রীর গোচরীভূত না করলে স্ত্রীকে অবশ্যই নয় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, তারপর সে পুনর্বিবাহ করায় স্বাধীন, যদিও আরও বিলম্ব করা তার পক্ষে বাঞ্ছনীয় (বাহা’ই পঞ্জিকার জন্য টীকা 147 দ্রষ্টব্য)।
  বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেছেন যে, এমতাবস্থায় যদি “তার স্বামীর মৃত্যু অথবা খুন” হওয়ার সংবাদ তার কাছে পৌঁছায়, পুনর্বিবাহের পূর্বে তাকে আরও নয় মাস অপেক্ষা করতে হবে (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 27)। একটি ফলকলিপিতে আব্দুল-বাহা আরও স্পষ্ট করেছেন যে, মৃত্যু সংবাদের পর, নয় মাসের অপেক্ষাকাল প্রযোজ্য হবে শুধুমাত্র স্বামীটি যদি তার মৃত্যুর সময় দূূরবর্তী স্থানে থেকে থাকে, গৃহে থাকাকালীন যদি মারা যায় তাহলে নয়।

98. তাহার সেই পন্থাই বাছিয়া লওয়া উচিত যাহা প্রশংসনীয় ¶67
বাহা’উল্লাহ “প্রশংসনীয় পথ বলিতে” উক্তিটির ব্যাখ্যা করেছেন “ধৈর্যের অনুশীলন” রূপে (প্রশ্ন ও উত্তর 4)।

99. দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ¶67
বাহা’উল্লাহ সাক্ষীদের “ন্যায়পরায়ণতার মানদ-” সম্বন্ধে “লোকদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম” রূপে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বিবৃত করেন যে, ইহা অত্যাবশ্যক নয় যে, সাক্ষীরা সব বাহা’ই হবে, কারণ “ঈশ্বরের সমস্ত ভৃত্যদের সাক্ষ্য, যে কোন ধর্মের বা মতের হোক না কেন, তাঁর সিংহাসনের সম্মুখে গ্রহণযোগ্য” (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 79)।

100. স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিরক্তি ও বিদ্বেষের উদ্ভব হইলে, স্বামী তাহাকে তালাক না দিয়া পূর্ণ এক বৎসর যাবৎ ধৈর্য সহকারে প্রতীক্ষায় থাকিবে ¶68
বাহা’ই শিক্ষাবলীতে বিবাহবিচ্ছেদ কঠোরভাবে নিন্দিত হয়েছে। তবে যদি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিরক্তি ও বিদ্বেষ বৃদ্ধি পায় তাহলে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর বিবাহবিচ্ছেদ অনুমোদনযোগ্য। ধৈর্য ধারণের এই বৎসরব্যাপী, স্বামীটিকে তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদেরকে, আর্থিক সাহায্য দান করতে হবে, এবং দম্পতিটিকে তাদের মতভেদসমূহের মীমাংসা করার জন্য কঠোর চেষ্টা করতে জোরালোভাবে আহ্বান করা হয়েছে। শৌগী এফেন্দী দৃঢ়রূপে বলেন যে, “স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই বিবাহবিচ্ছেদ দাবি করার সমান অধিকার রয়েছে” যখনই যে কোন সঙ্গী “এইরূপ করা সম্পূর্ণরূপে অপরিহার্য মনে করিলে”।
  প্রশ্ন ও উত্তরসমূহে, বাহা’উল্লাহ ধৈর্যের বছর সংক্রান্ত কিছুসংখ্যক বিষয় বিশদভাবে উল্লেখ করেন। ইহার নিয়ম-বিধি পালন (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 12), ইহার আরম্ভের তারিখ নির্দিষ্টকরণ (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 19 প্রশ্ন-উত্তর 40), পুনর্মিলনের শর্তাবলী (প্রশ্ন ও উত্তর 38 ) এবং সাক্ষীদের ভূমিকা ও স্থানীয় বিচারালয় (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 73 প্রশ্ন-উত্তর 98)। সাক্ষীদের সম্পর্কে, সার্বজনীন বিচারালয় স্পষ্ট ব্যাখ্যা করেছেন যে, বর্তমান সময়ে বিবাহ-বিচ্ছেদ বিষয়ে সাক্ষীদের কর্তব্যসমূহ আধ্যাত্মিক পরিষদসমূহের দ্বারা সম্পাদিত হয়। 
  বিবাহ-বিচ্ছেদ সম্বন্ধে বাহা’ই আইনসমূহের বিস্তারিত অনুবিধিসমূহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সংহিতায়, 4.গ.2.ক-ঝ. অধ্যায়ে সংক্ষেপে উপস্থাপিত হয়েছে।

101. পরম প্রভু .....নিষিদ্ধ করিয়াছেন - যাহা ইতিপূর্বে তোমরা একজন স্ত্রীকে তিনবার তালাক দেওয়ার পর অবলম্বন করিতে ¶68
এই প্রসঙ্গটি কোরআন-এ বর্ণিত ইসলাম ধর্মের একটি আইনের বর্ণনা করছে। কোরআন বিধান দিয়েছিল যে, নির্দিষ্ট অবস্থাধীনে, একজন লোক তার তালাক দেওয়া স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহ করতে পারবে না, যদি না সে অন্য একজনকে বিবাহ করে এবং তালাকপ্রাপ্তা না হয়। বাহা’উল্লাহ দৃঢ়রূপে বলেছেন, এইটিই সেই প্রথা যা কিতাব-ই-আক্বদাস-এ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 31)।

102. যে স্বামী তাহার স্ত্রীকে তালাক দিয়াছে, সে প্রতি অতিক্রান্ত মাসের পরে, যদি পারস্পরিক অনুরাগ ও সম্মতি থাকে, তাহাকে পুনরায় বিবাহ করিতে পারে যে পর্যন্ত না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করিয়াছে...... যদি না তাহার অবস্থা সুস্পষ্টরূপে পরিবর্তিত হয় ¶68
শৌগী এফেন্দী, তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত একটি পত্রে বিবৃত করেন যে, “প্রতি অতিক্রান্ত মাসের” উদ্দেশ্য কোন সীমা আরোপ করা নয় এবং একটি তালাকপ্রাপ্ত দম্পতির পক্ষে তাদের তালাকের পর যে কোন সময় পুনরায় বিবাহ করা সম্ভব  যে পর্যন্ত না কোন এক পক্ষ অন্য কারো সঙ্গে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকে।

103. শুক্র অপবিত্র নহে ¶74
কিছুসংখ্যক ধর্মীয় হাদিস এবং শিয়া মুসলিমদের প্রথা অনুযায়ী শুক্র অপবিত্র ঘোষিত হয়েছে। বাহা’উল্লাহ এই ধারণা রহিত করেছেন (নি¤েœ টীকা 106 টীকা দ্রষ্টব্য)।

104. তোমরা বিশুদ্ধতার রজ্জুর প্রতি এইরূপ সংলগ্ন হও ¶74
আব্দুল-বাহা “মানুষের অন্তরতম সত্তার বিকাশ” এবং “মানবীয় অবস্থার” উন্নয়নে “বিশুদ্ধতা এবং পবিত্রতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শিষ্টাচারের” প্রভাবের উল্লেখ করেন। তিনি বিবৃত করেনঃ “একটি পবিত্র ও নিষ্কলুষ দেহ লাভের প্রকৃত অবস্থা মানুষের আত্মার উপর প্রভাব বিস্তার করে” (টীকা 74 দ্রষ্টব্য)।

105. প্রতিটি অপরিষ্কার বস্তু তোমরা এইরূপ জল দ্বারা ধৌত কর যাহার তিনটি বৈশিষ্ট্যের কোনটি পরিবর্তিত হয় নাই ¶74
এই শ্লোকে উল্লেখিত “তিনটি বৈশিষ্ট্য” হচ্ছে জলের বর্ণ, স্বাদ অথবা ঘ্রাণে পরিবর্তন। বাহা’উল্লাহ বিশুদ্ধ জল এবং যে পর্যায়ে এটা ব্যবহারের অযোগ্য বলে বিবেচিত হয় তার বৈশিষ্ট্যসূচক লক্ষণের বিষয়ে আরও উপদেশ দিয়েছেন (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 91)।

106. ঈশ্বর.....“অপবিত্রতার’’ ধারণা রহিত করিয়াছেন যাহা দ্বারা নানাপ্রকার বস্তু ও সম্প্রদায়কে অপবিত্র বলিয়া ধারণা করা হইত ¶75
প্রথাগত “অপবিত্রতার” ধারণা, কিছু উপজাতীয় সমাজে ও পূর্ববর্তী কোন কোন ঐশ্বরিক বিধানের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত ধারণা ও অনুশীলনকে বাহা’উল্লাহ রহিত করেছেন। তিনি বিবৃত করেন যে, তাঁর প্রত্যাদেশের মাধ্যমে “সমস্ত সৃষ্টবস্তুকে শোধনের সাগরে নিমজ্জিত করা হইয়াছিল”। (টীকা 12, টীকা 20, এবং টীকা 103 দ্রষ্টব্য)

107. রিজওয়ানের সেই প্রথম দিনে ¶75
এটি বাগ্দাদ শহরের বাইরে নজিবিয়াহ্ উদ্যানে বাহা’উল্লাহ ও তাঁর সঙ্গীদের আগমনের একটি প্রসঙ্গ, পরবর্তীকালে বাহা’ইদের দ্বারা রিজওয়ানের উদ্যানরূপে উল্লেখিত হয়। এই ঘটনাটি, যা নওরোজের 31 দিন পরে 1863 সালের এপ্রিল মাসে সংঘটিত হয়েছিল, উহা সময়ের শুরুকে চিহ্নিত করেছিল, যে সময় বাহা’উল্লাহ তাঁর সঙ্গীদের কাছে তাঁর দৌত্যের কথা ঘোষণা করেছিলেন। একটি ফলকলিপিতে তিনি তাঁর ঘোষণাটিকে “সর্বোৎকৃষ্ট আনন্দের দিন” রূপে উল্লেখ করেন, এবং তিনি রিজওয়ানের উদ্যানটিকে “সেই স্থান রূপে বর্ণনা করেন, যে স্থান থেকে তিনি পরম করুণাময় তাঁর নামের দীপ্তি সমগ্র বিশ্বব্রহ্মা-ের উপর বর্ষণ করেছিলেন”। বাহা’উল্লাহ ইস্তাম্বুলের উদ্দেশ্যে প্রস্থান করার পূর্বে 12 দিন এই উদ্যানে অতিবাহিত করেন। ইস্তাম্বুলে বাহা’উল্লাহ্কে নির্বাসিত করা হয়েছিল। বাহা’উল্লাহর ঘোষণা দিবসটি প্রতি বৎসর দ্বাদশ দিবসব্যাপী রিজওয়ান উৎসবরূপে উদ্যাপিত হয়। শৌগী এফেন্দী এটিকে “সকল বাহা’ই উৎসবের মধ্যে পবিত্রতম ও সর্বাপেক্ষা তাৎপর্যপূর্ণ” রূপে বর্ণনা করেছেন (টীকা 138 ও 140 দ্রষ্টব্য)।

108. বায়ান ¶77
বা’বী প্রত্যাদেশের মাতৃগ্রন্থ বায়ান, বা’ব কর্তৃক দুই ভাগে অবতীর্ণ হয়েছিল একটি ফারসী, অন্যটি আরবী। ইহা বা’বী প্রত্যাদেশের আইনকানুন ও নীতি শিক্ষার ভান্ডার এবং “তাহাকে ঈশ্বর যাহাকে প্রকাশ করিবেন”(বাহা’উল্লাহ) , যার আগমন বার্তা তিনি ঘোষণা করেছিলেন তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অধিকাংশ উল্লেখ ইহা সযতেœ ধারণ করছে। গড পাসেস বাই গ্রন্থে শৌগী এফেন্দী প্রকাশ করেন যে, বায়ানকে “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী পথপ্রদর্শনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত আইনসমূহের একটি সংহিতা ও অধ্যাদেশ রূপে বিবেচনা না করে মূলতঃ প্রতিশ্রুত মহাপুরুষের উচ্চপ্রশংসাসূচক গ্রন্থরূপে” বিবেচনা করতে হবে।
আব্দুল-বাহা লিখেছেন: “কিতাব-ই-আক্বদাস দ্বারা বায়ান রহিত হয়েছে, এইরূপ আইনসমূহ ব্যতীত, যেগুলি কিতাব-ই-আক্বদাসে অনুমোদিত ও উল্লেখিত হয়েছে”।

109. পুস্তকসমূহের ধ্বংস সাধন ¶77
বা’ব তাঁর ধর্মীয় বিধান পালনের অনুপ্রেরণাধীনে বায়ান-এর আইনসমূহ রচনা করেছিলেন, এই বাস্তবতার উল্লেখ করে বাহা’উল্লাহ ইশ্রাকাৎ-এর ফলকলিপিতে বিবৃত করেন যে, তিনি বা’ব-এর কিছু কিছু আইন বলবৎ রেখেছেন “সেগুলিকে কিতাব-ই-আক্বদাসে বিভিন্ন ভাষ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন”, পক্ষান্তরে অন্যগুলিকে রহিত করেন। পুস্তকসমূহের বিনাশ সাধন সম্বন্ধে, যেসব পুস্তক ঈশ্বরের উদ্দেশ্য ও ধর্মের সমর্থনে লিখিত হয়েছিল, সেগুলি ছাড়া আর সব বইপুস্তক ধ্বংস করার জন্য বায়ান, বা’ব-এর অনুসারীদেরকে আদেশ দিয়েছিল। বাহা’উল্লাহ বায়ান-এর এই নির্দিষ্ট আইনটিকে রহিত করেন।
  বায়ান-এর আইনগুলির বৈশিষ্ট্য ও কঠোরতা সম্বন্ধে শৌগী এফেন্দী তাঁর পক্ষে লিখিত একটি পত্রে নিুলিখিত মন্তব্য করেন:
বা’ব কর্তৃক প্রকাশিত কঠোর আইনগুলি ও নির্দেশগুলির বৈশিষ্ট্য কেবল তখনই যথাযথভাবে অনুধাবন করা ও জ্ঞাত হওয়া যাবে যখন তাঁর নিজের ধর্মবিধানের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে তাঁর নিজ বিবৃতিসমূহের আলোকে ব্যাখ্যা করা হবে। যেহেতু এই বিবৃতিগুলি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে যে, বা’ব-এর ধর্মবিধানগুলি অত্যাবশ্যকীয়ভাবে একটি ধর্মীয় এবং বস্তুতঃ সামাজিক বিপ্লবের বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ছিল, এবং এইজন্য ইহার ব্যাপ্তিকাল হতে হয়েছিল সংক্ষিপ্ত, তবে তা বিষাদময়, বিস্তীর্ণ ও কঠোর সংস্কারসমূহের ঘটনাবলীতে পরিপূর্ণ ছিল। বা’ব এবং তাঁর অনুসারীদের দ্বারা প্রবর্তিত ঐ সব কঠোর ব্যবস্থা শিয়াদের গোঁড়ামির প্রকৃত ভিতসমূহকে উপড়ে ফেলার এবং এইভাবে বাহা’উল্লাহর আগমনের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছিল। নতুন ধর্মবিধানের স্বাতন্ত্র্য সুনিশ্চিত করার জন্য, এবং অধিকন্তু বাহা’উল্লাহর আসন্ন প্রত্যাদেশের ভিত্তি প্রস্তুত করার জন্য বা’বকে অত্যন্ত কঠোর আইনসমূহ প্রকাশ করতে হয়েছিল, যদিও সেই আইনগুলির অধিকাংশ কখনও প্রবর্তিত হয়নি। কিন্তু যে অবিমিশ্র বাস্তবতায় তিনি সেগুলি প্রকাশ করেছিলেন তার মধ্যেই তাঁর ধর্মবিধানের স্বাধীন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের একটি প্রমাণ ছিল এবং এইরূপ ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট ছিল, এবং ধর্মোপদেষ্টাদের দিক থেকে বিরোধিতা উস্-কিয়ে দেওয়ার জন্যও যথেষ্ট ছিল যা তাঁর চূড়ান্ত আত্মবলিদানে তাদেরকে প্ররোচিত করেছিল।

110. আমরা তোমাদিগকে এইরূপ বিজ্ঞানসমূহ অধ্যয়নের অনুমতি দিয়াছি যাহা তোমাদের জন্য লাভজনক। এইরূপ নহে, যাহা অসার বাদানুবাদে শেষ হয় ¶77 
বাহা’ই লিখনাবলী জ্ঞান অর্জনের এবং কলা ও বিজ্ঞানসমূহের চর্চার নির্দেশ দেয়। বাহা’ইদেরকে জ্ঞানী ও গুণী লোকদের শ্রদ্ধা করতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে, এবং ঐ সব পুস্তকের পাঠাভ্যাসের পশ্চাদ্ধাবন না করতে সতর্ক করা হয়েছে যা কেবল তুচ্ছ বিবাদ-বিত-ার উৎপাদক।
  তাঁর ফলকলিপিসমূহে বাহা’উল্লাহ বিশ্বাসীদের এইরূপ বিজ্ঞানসমূহ ও শিল্পকলা অধ্যয়নের উপদেশ দিয়েছেন যেগুলো “উপকারী” এবং সমাজের “উন্নতি ও অগ্রগতিকে” এগিয়ে নিয়ে যাবে, এবং তিনি ঐ সকল বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন যা “বাক্যাবলী দিয়ে শুরু হয় এবং বাক্যাবলী দিয়ে শেষ হয়”, যার পশ্চাদ্ধাবন “অসার বাদানুবাদের” দিকে নিয়ে যায়। শৌগী এফেন্দী তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত একটি পত্রে এইরূপ বিজ্ঞানসমূহকে যা “বাক্যাবলী দিয়ে শুরু হয় এবং বাক্যাবলী দিয়ে শেষ হয়”কে “দর্শন শাস্ত্রীয় বিষয়ক নিষ্ফল অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের চুল-চেরা বিশ্লেষণ”-এর সাথে তুলনা করেন এবং অপর একটি পত্রে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বাহা’উল্লাহ এইরূপ “বিজ্ঞানসমূহ বলতে মূলতঃ যা বুঝাতে চেয়েছিলেন, তা হচ্ছে ঐ সমস্ত ধর্মতাত্ত্বিক প্রবন্ধসমূহ ও ভাষ্যসমূহ যা মানব মনকে সত্য লাভ করতে সাহায্য করা অপেক্ষা বরং বিভ্রান্ত করে।”

111. তিনি, যিনি ঈশ্বরের সহিত কথোপকথন করিয়াছিলেন ¶80
ইহা ইহুদী ও ইসলামী হাদিসে মুসার একটি খেতাব। বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেন যে, তাঁর প্রত্যাদেশ ধর্মের আগমনের দ্বারা “মানুষের কর্ণসমূহ তাহা শ্রবণ করিতে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হইয়াছে, যাহা তিনি, যিনি ঈশ্বরের সহিত কথোপকথন করিয়াছিলেন, সিনাই পর্বতের উপর শ্রবণ করিয়াছিলেন”।

112. সিনাই ¶80
সেই পর্বত যেখানে মুসার কাছে ঈশ্বর আইন অবতীর্ণ করেছিলেন।

113. ঈশ্বরের আত্মা ¶80
ইহা ইসলামী ও বাহা’ই লিখনাবলীতে ব্যবহৃত যিশুখ্রিষ্টের খেতাবসমূহের মধ্যে একটি।

114. কার্মেল.... জিওন ¶80
“ঈশ্বরের দ্রাক্ষাক্ষেত্র”, কার্মেল হচ্ছে পবিত্রভূমিতে ঐ পর্বতটি যেখানে বা’ব-এর সমাধিমন্দির এবং ধর্মের বিশ্ব-প্রশাসনিক কেন্দ্রের আসন অবস্থিত।
  জাইয়ন হচ্ছে জেরুজালেমে অবস্থিত একটি পাহাড়, রাজা দাউদের ঐতিহ্যগত সমাধিস্থল এবং একটি পবিত্র নগর রূপে জেরুজালেমের প্রতীকস্বরূপ।

115. লোহিত তরী ¶84
“লোহিত তরী ” বাহা’উল্লাহর ধর্মকে নির্দেশ করছে। তাঁর অনুসারীগণ “লোহিত তরীর সঙ্গীগণ” রূপে আখ্যায়িত হয়েছে, ক্বাইয়্যূমুল্-আস্মায় বা’ব কর্তৃক উচ্চপ্রশংসিত হয়েছে।

116. হে অস্ট্রিয়ার সম্রাট! তিনি, যিনি ঈশ্বরের আলোর প্রভাত আক্কার কারাগারে বাস করিতেছিলেন, যখন তুমি আক্ব্সা মসজিদ পরিদর্শন করিবার জন্য যাত্রা করিয়াছিলে ¶85
ফ্রান্সিস যোশেফ (ফ্রান্জ জোসেফ, 1830-1916) অস্ট্রিয়ার সম্রাট এবং হাঙ্গেরীর রাজা 1869 সালে জেরুজালেমে তীর্থযাত্রা করেছিলেন। পবিত্রভূমিতে অবস্থানকালে তিনি বাহা’উল্লাহর সম্বন্ধে খোঁজখবর লওয়ার সুযোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছিলেন যিনি ঐ সময় আক্কায় একজন কারাবন্দী ছিলেন। 
  আক্সা মসজিদটি, আক্ষরিকভাবে “সর্বাপেক্ষা দূরবর্তী” মসজিদরূপে কোরআনে উল্লেখিত হয়েছে, এবং জেরুজালেমের পর্বত-মন্দির-এর সাথে অবিচ্ছেদ্যরূপে সনাক্ত হয়েছে।

117. হে বার্লিনের রাজা ¶86
প্রুশিয়ার সপ্তম রাজা প্রথম কাইজার উইলিয়াম 1 (উইলহেম ফ্রেডারিক লুডউইগ, 1797-1888), ফ্রাঙ্কো-প্রুশিয়ার যুদ্ধে ফ্রান্সের উপর জার্মানীর বিজয়লাভের পর ভার্সাইসে 1871 সালের জানুয়ারিতে জার্মানীর প্রথম সম্রাটরূপে অভিনন্দিত হয়েছিলেন।

118. যাহার শক্তি তোমার শক্তিকে অতিক্রম করিয়াছিল এবং যাহার পদমর্যাদা তোমার পদমর্যাদা হইতে উৎকৃষ্টতর ছিল ¶86
এটি ফরাসীদের সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়ন (1804-1873) সম্বন্ধে একটি উক্তি, যিনি বহু ঐতিহাসিক দ্বারা, তাঁর সময়ে, পাশ্চাত্যের সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত সম্রাট রূপে পরিগণিত হয়েছিলেন। 
  বাহা’উল্লাহ এই তৃতীয় নেপোলিয়নকে সম্বোধন করে দুইটি ফলকলিপি প্রেরণ করেছিলেন যার দ্বিতীয়টিতে তিনি সুস্পষ্টরূপে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, নেপোলিয়নের রাজ্য “বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থায় নিক্ষিপ্ত হবে”, আরও বলেছিলেন যে, তাঁর হাত থেকে তাঁর “সাম্রাজ্য চলে যাবে”, এবং তাঁর জনমন্ডলী প্রচ- “হাঙ্গামায়” পড়বে।
  এক বৎসরের মধ্যেই, 1870 সালে সিডানের যুদ্ধে, প্রথম কাইজার উইলিয়ামের হাতে তৃতীয় নেপোলিয়ন আলোড়ন সৃষ্টিকারী পরাজয় বরণ করেন। তাঁকে ইংল্যা-ে নির্বাসিত করা হয়, তিন বৎসর পর সেখানেই মারা যান।

119. হে কন্সট্যান্টিনোপল -এর অধিবাসীগণ ¶89
“কন্সট্যান্টিনোপল ” রূপে এখানে অনূদিত শব্দটি হচ্ছে মূলতঃ “আর-রুম” অথবা “রোম”। এই শব্দটি মধ্যপ্রাচ্যে সাধারণতঃ কন্সট্যান্টিনোপল ও প্রাচ্যের রোম সাম্রাজ্য, অতঃপর বাইজানটিয়ামের শহরটিকে ও ইহার সাম্রাজ্যকে, এবং পরবর্তীকালে তুরস্ক সাম্রাজ্যকে নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত হতো।

120. দুই সমুদ্রের তীরে অবস্থিত হে ভূখ- ¶89
এইটি বর্তমানে ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত কন্সট্যান্টিনোপল সম্বন্ধে একটি উদ্ধৃতি। বস্ফোরাসে অবস্থিত প্রায় 31 কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রণালী যা কৃষ্ণসাগর ও মারমারা সাগরকে যুক্ত করেছে  এটি তুরস্কের বৃহত্তম শহর ও সামুদ্রিক বন্দর। কন্সট্যান্টিনোপল 1453 সাল থেকে 1922 সাল পর্যন্ত তুরস্ক সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। এই শহরে বাহা’উল্লাহর স্বল্পকালীন অবস্থানকালে অত্যাচারী নৃশংস সুলতান আব্দুল আজিজ সিংহাসন অধিকার করেন। তুরস্কের সুলতানগণ খলিফাও ছিলেন, অর্থাৎ সুন্নী ইসলামের প্রধান ছিলেন। বাহা’উল্লাহ পূর্বাহ্ণেই এই খিলাফতের পতন অনুমান করেছিলেন যা 1924 সালে বিলুপ্ত হয়।

121. হে রাইন নদীর তীরসমূহ ¶90
আব্দুল-বাহা ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (1914-1918) পূর্বে তাঁর লিখিত ফলকলিপিসমূহের একটিতে “জমাটবাঁধা রক্তে আবৃত” দেখা রাইন নদীর তীরগুলি সম্বন্ধে বাহা’উল্লাহর উল্লেখ ফ্রাঙ্কো-প্রুশিয়ার যুদ্ধ (1870-1871)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং আরও দুঃখ-দুর্ভোগ সামনে অপেক্ষা করছিল।
  “গড পাসেস বাই” গ্রন্থে শৌগী এফেন্দী বিবৃত করেন যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানীর পরাজয়ের পর জার্মানীর উপর “নিপীড়নমূলকভাবে কঠোর সন্ধি” চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, উহা “বার্লিনের আর্তনাদের উদ্রেক করেছিল” যে বিষয়ে অর্ধশতাব্দী পূর্বে, অমঙ্গলসূচক ভাবেই ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল।

122. হে ত্বা*-এর ভূমি ¶91
“ত্বা” হচ্ছে তিহরান শব্দের প্রথম অক্ষর, যা ইরানের রাজধানী। বাহা’উল্লাহ প্রায়ই নির্দিষ্ট স্থানের নামসমূহকে তাদের প্রথম অক্ষরের উল্লেখ দ্বারা উপস্থাপন করতেন। গণনার আব্জাদ পদ্ধতি অনুসারে ত্বা-এর সংখ্যাসূচক মান হচ্ছে “নয়”, যা “বাহা” নামের সংখ্যাসূচক মানের সমান।

123. তোমার মধ্যেই তাঁহার জ্যোতির প্রকাশ জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন ¶92
এটি 1817 সালের 12ই নভেম্বর তেহ্রানে বাহা’উল্লাহর জন্মের একটি উদ্ধৃতি।

124. হে খাক্স-এর ভূমি ¶94
খুরাসান ও সন্নিহিত এলাকাসমূহের একটি উল্লেখ যে এলাকা ইশ্কাবাদের (আশ্কাবাদ) শহরকে অন্তর্ভুক্ত করছে।

125. কেহ যদি একশত মিশ্কাল স্বর্ণের অধিকারী হয়, তন্মধ্যে উনিশ মিশ্কাল ঈশ্বরের, এবং উহা তাঁহাকে প্রদান করিতে হইবে ¶97
এই শ্লোকটি বিশ্বাসীদের অধিকারভুক্ত সম্পত্তির মূল্যের একটি স্থিরীকৃত অংশ প্রদান, ঈশ্বরের অধিকার, হুকুকুল্লাহ্ প্রতিষ্ঠা করে। এই প্রদান ঈশ্বরের প্রকাশরূপে বাহাউল্লাহকে দেওয়া হয়েছিল, এবং পরে, তাঁর স্বর্গারোহণের পর, চুক্তিপত্রের কেন্দ্রবিন্দুস্বরূপ আব্দুল-বাহা’কে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ইষ্টিপত্রে, আব্দুল-বাহা, বিধান দেন যে, হুকুকুল্লাহ্ “ঈশ্বরের ধর্মের অভিভাবকের মাধ্যমে প্রদান করিতে হইবে”। এখন অভিভাবক না থাকায়, হুকুকুল্লাহ্ ধর্মের প্রধানস্বরূপ সার্বজনীন বিচারালয়ের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে। এই অর্থ তহবিল ঈশ্বরের ধর্মের উন্নতিবিধান ও ইহার স্বার্থ সংরক্ষণ ছাড়াও বিভিন্ন লোকহিতকর উদ্দেশ্য সাধনে ব্যবহৃত হয়। হুকুকুল্লাহ্ প্রদান একটি আধ্যাত্মিক কর্তব্য  যার সংসাধন প্রতিটি বাহা’ইয়ের বিবেকের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। যখন সম্প্রদায়টিকে হুকুকুল্লাহ্র আইনটির শর্তাবলী সম্বন্ধে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন কোন বিশ্বাসীর নিকট গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ইহা শোধ করার কথা বলতে হবে না।
প্রশ্ন ও উত্তরসমূহের কয়েকটিতে এই আইনটির আরও বিশদ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। হুকুকুল্লাহ্র টাকা প্রদান ব্যক্তির অধিকারভুক্ত সম্পত্তির মূল্যের হিসাবের উপর ভিত্তিশীল। যদি একজন লোকের কমপক্ষে 19 মিশ্কাল স্বর্ণমূল্যের সমান সম্পত্তি থাকে (প্রশ্ন ও উত্তর 8), তাহলে মোট পরিমাণের শতকরা 19 ভাগ হুকুকুল্লাহ্ স্বরূপ মাত্র একবার প্রদান করা একটি আধ্যাত্মিক কর্তব্য (প্রশ্ন ও উত্তর 89)। অতঃপর, সমস্ত ব্যয় নির্বাহের পর, যখনই কারো আয় তার সম্পত্তির মূল্য কমপক্ষে 19 মিশ্কাল স্বর্ণের পরিমাণে বৃদ্ধি পায়, তাহলে তার এই বৃদ্ধির উপর শতকরা 19 ভাগ হুকুকুল্লাহ্ পরিশোধ করতে হবে, এবং অতঃপর আরও বৃদ্ধিতে এইভাবে দিতে হবে (প্রশ্ন ও উত্তর 8, 90)।
  নির্দিষ্ট শ্রেণীর সম্পত্তি, যথা কারো বাসভবন, হুকুকুল্লাহ্ পরিশোধ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত (প্রশ্ন ও উত্তর 8, 42,95), এবং আর্থিক ক্ষতি পূরণ করার জন্য বিষয়ে নির্দিষ্ট অনুবিধিসমূহের ব্যাখ্যা করা হয়েছে (প্রশ্ন ও উত্তর 44,45), মুনাফা উৎপাদনে অর্থ বিনিয়োগের ব্যর্থতা (প্রশ্ন ও উত্তর 102) এবং লোকটির মৃত্যু হলে হুকুকুল্লাহ্ প্রদানের জন্য (প্রশ্ন ও উত্তর 9; 69, 80)। এই শেষোক্তটির ব্যাপারে, টীকা 47 দ্রষ্টব্য।
  ফলকলিপিসমূহ, প্রশ্ন ও উত্তরসমূহ, এবং হুকুকুল্লাহ্র আধ্যাত্মিক তাৎপর্য সম্বন্ধে অন্যান্য লিখনাবলী থেকে ব্যাপক উদ্ধৃতি এবং ইহার প্রয়োগের বিস্তারিত বিবরণসমূহ, হুকুকুল্লাহ্ নামক একটি সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রশ্ন-উত্তর 8 প্রশ্ন-উত্তর 9 প্রশ্ন-উত্তর 42 প্রশ্ন-উত্তর 45 প্রশ্ন-উত্তর 69 প্রশ্ন-উত্তর 80 প্রশ্ন-উত্তর 89 প্রশ্ন-উত্তর 90 প্রশ্ন-উত্তর 95 প্রশ্ন-উত্তর 102

126. ঈশ্বরের আইনসমূহ স¤পর্কে বিশ্বাসীগণের নিকট হইতে আমাদের সিংহাসনের সম্মুখে বিবিধ আবেদন আসিয়াছে। ফলস্বরূপ আমরা এই পবিত্র ফলকলিপি প্রকাশ করিয়াছি এবং ইহাকে তাঁহার আইনের পোশাকে সজ্জিত করিয়াছি এইজন্য যেন লোকেরা তাহাদের পরম প্রভুর আদেশাবলী পালন করিতে পারে ¶98
বাহা’উল্লাহ তাঁর একটি ফলকলিপিতে বিবৃত করেন যে, “কয়েক বছর ধরে ঈশ্বরের আইনসমূহ প্রেরণের আবেদন জানিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে পরম পবিত্র সত্তার কাছে অবেদনপত্রসমূহ পৌঁছেছিল, কিন্তু নির্ধারিত সময় না হওয়া পর্যন্ত আমরা লেখনীটিকে সংযত করেছিলাম”। তেহ্রানের সিয়াহ্চালে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ দৌত্যের জন্ম থেকে বিশ বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই বাহা’উল্লাহ তাঁর ধর্মবিধানের আইনসমূহের ভান্ডার কিতাব-ই-আক্বদাস প্রকাশ করেন। আক্বদাস-এর প্রকাশের পরেও, পারস্যের বন্ধুদের কাছে প্রেরণের পূর্বে কিছুকাল বাহা’উল্লাহ আক্বদাস নিজের কাছে রাখেন। এই যুগের জন্য ঈশ্বরের মৌলিক আইনসমূহের প্রকাশে এই দৈবভাবে উদ্দেশ্যমূলক বিলম্ব এবং পরবর্তীকালে এই আইনগুলির অনুবিধিসমূহের ধীর ও ক্রমান্বয়িক প্রয়োগ সেই প্রগতিশীল প্রত্যাদেশের মূলনীতিসমূহকে বিশদ করে যা প্রত্যেক বার্তাবাহকের সেবাকালের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

127. লোহিত স্থান ¶100
এই প্রসঙ্গটি আক্কার কারা শহরের একটি উল্লেখ। বাহা’ই রচনাবলীতে “লোহিত” শব্দটি কতিপয় রূপক ও প্রতীকমূলক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে (টীকা 115 দ্রষ্টব্য)।

128. ছিদ্রাতুল মুনতাহা ¶100
আক্ষরিক অর্থে “সর্বাপেক্ষা দূরবর্তী লোত-বৃক্ষটি” শৌগী এফেন্দী কর্তৃক অনূদিত হয়েছে “ঐ বৃক্ষটি, যার সীমা অতিক্রম করা যায় না ”। উক্তিটি ইসলাম ধর্মে একটি প্রতীকরূপে ব্যবহৃত হয়েছে, দৃষ্টান্তস্বরূপ, মুহম্মদের নৈশ ভ্রমণের বিবরণের নভোমন্ডলে সেই সীমাকে চিহ্নিত করার জন্য, যে সীমা অতিক্রম করে মানুষেরা বা দেবদূতেরা ঈশ্বরের সান্নিধ্যে যেতে পারে না, এবং এইরূপে মানুষের কাছে প্রকাশিত ঐশীজ্ঞানের সীমা নির্দেশ করা হয়েছে। এই কারণে স্বয়ং ঈশ্বরের প্রকাশকে নির্দেশ করার জন্য এটি বাহা’ই রচনাবলীতে প্রায়-ই ব্যবহৃত হয়েছে (টীকা 164 দ্রষ্টব্য)।

129. মাতৃগ্রন্থটি ¶103
“মাতৃগ্রন্থ” শব্দটি সাধারণতঃ একটি ধর্মীয় বিধানের মূল গ্রন্থটিকে নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। কোরআন ও ইসলামের হাদিসে শব্দটি কোরআনকেই নির্দিষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। বা’ব-এর ধর্মবিধানে বায়ান হচ্ছে মাতৃগ্রন্থ এবং বাহা’উল্লাহর ধর্মবিধানের মাতৃগ্রন্থ হচ্ছে কিতাব-ই-আক্বদাস। অধিকন্তু, শৌগী এফেন্দী তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত একটি পত্রে বিবৃত করেন যে “বাহা’উল্লাহর প্রকাশিত শিক্ষাসমূহের একটি সমষ্টিবাচক পদ” রূপেও এই ধারণা প্রয়োগ করা যেতে পারে। এই পদ প্রত্যাদেশ ধর্মের ঐশী ভান্ডারকে সূচিত করার জন্য এক ব্যাপকতর অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

130. প্রত্যাদেশের স্বর্গ হইতে যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে, যে কেহ তাহার সুস্পষ্ট অর্থ পরিবর্তন করে ¶105
তাঁর কয়েকটি ফলকলিপিতে, বাহা’উল্লাহ্, রূপক আকারে বর্ণিত শ্লোকসমূহ, যেগুলির ব্যাখ্যাদান সংবেদনশীল হয়, এবং ঐ শ্লোকগুলি যা আইনসমূহ ও অধ্যাদেশাবলী, উপাসনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহ পালনের সাথে সম্পর্কিত, যার অর্থগুলি সুস্পষ্ট এবং যেগুলি বিশ্বাসীদের পক্ষ থেকে প্রতিপালন দাবি করে, এতদুভয়ের মধ্যে দৃঢ়রূপে পার্থক্য নির্ণয় করেন।
টীকা 145 এবং টীকা 184 টীকাসমূহে বর্ণিত মতে, বাহা’উল্লাহর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র আব্দুল-বাহা’কে তাঁর উত্তরসূরি ও তাঁর শিক্ষাবলীর ব্যাখ্যাকাররূপে নিযুক্ত করেছিলেন। আব্দুল-বাহা তাঁর সময়ে, ধর্মের অভিভাবক ও পবিত্র গ্রন্থের ব্যাখ্যাকাররূপে তাঁর জ্যেষ্ঠ দৌহিত্র শৌগী এফেন্দীকে নিযুক্ত করেন। আব্দুল বাহা’র ও শৌগী এফেন্দীর ব্যাখ্যাসমূহ ঐশী নির্দেশিত বলে বিবেচিত হয় এবং বাহা’ইদের পক্ষে মেনে নেওয়া বাধ্যতামূলক।
প্রামাণিক ব্যাখ্যাসমূহের এই বিদ্যমানতা ব্যক্তিকে বাহা’ই শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের অধ্যয়নে রত হতে এবং তদ্বারা একটি ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা বা ধারণায় উপনীত হতে বাধা দেয় না। তবে, প্রামাণিক ব্যাখ্যা এবং শিক্ষাবলীর অধ্যয়ন থেকে প্রত্যেক ব্যক্তি যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, এতদুভয়ের মধ্যে বাহা’ই লিখনাবলীতে সুস্পষ্ট পার্থক্যের রেখা টানা হয়েছে। শিক্ষাবলীর ধারণার উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যাসমূহ ব্যক্তিটির বুদ্ধিগত শক্তির ফল উৎপাদন করে এবং ধর্মের একটি বৃহত্তর উপলব্ধিতে উত্তম অবদান রাখতে পারে। তা সত্ত্বেও, এইরূপ মতামতসমূহের প্রামাণ্যতা থাকে না। লোকদের ব্যক্তিগত ধারণাসমূহের উপস্থাপনায় প্রকাশিত উক্তিসমূহের প্রামাণিক গুরুত্ব রহিত না করতে, প্রামাণ্য ব্যাখ্যাকে প্রত্যাখ্যান না করতে এবং মতবিরোধে রত না হতে, তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, বরং তাদের মতামতগুলি কেবলমাত্র তাদের নিজেদের, এটা সুস্পষ্ট করে, তাদের সুচিন্তিত মতামতগুলো জ্ঞানের ক্ষেত্রে অবদানস্বরূপ উৎসর্গ করা উচিত।

131. তোমরা যেন পারস্যের সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ¯œানাগারের জলাধারসমূহে গমন না কর ¶106
বাহা’উল্লাহ পারস্যদেশীয় ঐতিহ্যগত জনসাধারণের ¯œানাগারে অবস্থিত জলাশয়সমূহ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। এইসব ¯œানাগারে বহু লোকের ¯œান করার প্রচলন ছিল, এর ফলে জল পরিবর্তনের কাজটি অনিয়মিত হত। ফলস্বরূপ জল বিবর্ণ, মলিন, কলুষিত এবং অস্বাস্থ্যকর হয়ে যেত, এবং অত্যন্ত ক্ষতিকর দুর্গন্ধময় হয়ে পড়ত।

132. অনুরূপভাবে তোমরা পারস্যবাসীদের বাড়ির আঙ্গিনার দুর্গন্ধযুক্ত জলাধারগুলি পরিহার করিও ¶106
পারস্যে অধিকাংশ বাড়িতে তাদের উঠানে একটি জলাশয় থাকত। এই জলাশয় জিনিসপত্র পরিষ্কার করা, স্নান করা, ও পারিবারিক অন্যান্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জলের আধাররূপে কাজ করত। যেহেতু এই জলাশয়ের জল ছিল বদ্ধ এবং সাধারণতঃ সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে একবারও পরিবর্তন করা হত না, তাই ইহা অত্যন্ত অপ্রীতিকর গন্ধের বিকাশ ঘটাত।

133. তোমাদিগকে তোমাদের পিতার পত্নীগণকে বিবাহ করিতে নিষেধ করা হইয়াছে ¶107
বিমাতার সাথে কারো বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে এখানে সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধ সৎপিতার ক্ষেত্রেও সুস্পষ্টভাবে প্রযোজ্য। যখন বাহা’উল্লাহ একটি পুরুষ ও একটি নারীর মধ্যে একটি আইন প্রকাশ করেছেন তখন ইহা একটি নারী ও একটি পুরুষের মধ্যে মুতাতিস মুতানদিস প্রয়োগ করে যদি না প্রসঙ্গটি এই বিষয়টিকে অসম্ভব না করে।
আব্দুল-বাহা ও শৌগী এফেন্দী দৃঢ়তার সাথে প্রতিপন্ন করেছিলেন যে, যখন এই ভাষ্যে আত্মীয় শ্রেণীর মধ্যে কেবল বিমাতাদের উল্লেখ করা হয়েছে তখন এর অর্থ এই নয় যে একই পরিবারের মধ্যে অন্যান্য বিয়ে অনুমোদনীয়। বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেন যে, “কারো আত্মীয়কে বিবাহ করার বৈধতা সম্বন্ধে” আইন প্রণয়ন করার দায়িত্ব বিচারালয়ের উপর বর্তায় (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 50)। আব্দুল-বাহা লিখেছেন যে, দম্পতিটির মধ্যে রক্ত সম্পর্ক যত দূরবর্তী হবে, ততই উত্তম, কারণ এইরূপ বিবাহসমূহ মানবজাতির পার্থিব মঙ্গলের ভিত্তি প্রদান করে এবং মানবজাতির মধ্যে সাহচর্যের পক্ষে হিতকর।

134. বালকদের বিষয়টি ¶107
এখানে “বালকদের” রূপে অনূদিত শব্দটির এই প্রসঙ্গে আরবী মূল ফলকলিপিতে বালকদের সঙ্গে পুরুষের যৌন সংসর্গের সংশ্লেষ রয়েছে। শৌগী এফেন্দী সমস্ত সমকামমূলক সম্পর্কের উপর একটি নিষেধ রূপে এই প্রসঙ্গটির ব্যাখ্যা করেছেন। 
 যৌননীতি সম্বন্ধে বাহা’ই শিক্ষাসমূহ সমগ্র মানব সমাজ কাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তররূপে বিবাহ ও পরিবারকে কেন্দ্রীভূত করেছে এবং এই শিক্ষাসমূহ বিবাহের স্বর্গীয় প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা ও শক্তিশালী করার জন্য পরিকল্পিত। এইভাবে বাহা’ই আইন অনুমোদনীয় যৌনমিলন ঐরূপ একজন পুরুষ এবং একজন নারীর মধ্যে সীমিত করে, যাকে সে বিবাহ করেছে। 
শৌগী এফেন্দীর পক্ষ থেকে লিখিত একটি পত্রে বিবৃত করা হয়েছে ঃ
একই লিঙ্গের লোকদের মধ্যে প্রেম যতই গভীর ও চমৎকার হোক না কেন, যৌন কর্মের দ্বারা এর প্রকাশ অন্যায়। এটিকে কোন মতেই আদর্শ কাজ বলা চলে না। বাহা’উল্লাহ যে কোন ধরনের নীতিহীন কর্মকা-কে প্রকৃতপক্ষেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন, এবং সমকামমূলক সম্পর্ককে প্রকৃতি-বিরুদ্ধ বলে মনে করেন। একজন বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন লোকের পক্ষে এতে আক্রান্ত হওয়া অত্যন্ত পীড়াদায়ক। তবে ডাক্তারদের উপদেশ ও সাহায্যের মাধ্যমে, একটি প্রচ- ও দৃঢ়সংকল্প প্রচেষ্টায় এবং প্রার্থনার মাধ্যমে একজন লোক এই বাধাসমূহ অতিক্রম ও জয় করতে পারে।
বাহা’উল্লাহ অপরাধের মাত্রা অনুসারে ব্যভিচার ও পায়ুকামের শাস্তি নির্ধারণের জন্য সার্বজনীন বিচারালয়ের উপর দায়িত্ব অর্পণ করেছেন (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 49)।

135. রাস্তা অথবা বাজারে বিচরণকালে জনসমক্ষে পবিত্র শ্লোকসমূহ বিড়বিড় করিয়া পাঠ করিবার অনুমতি কাহাকেও প্রদান করা হয়    নাই ¶108
ইহা পূর্ববর্তী ধর্মবিধানসমূহের নির্দিষ্ট কিছু যাজক ও ধর্মীয় নেতাদের অভ্যাসের প্রতি একটি পরোক্ষ উল্লেখ, যারা কপটতা ও ভন্ডামির মধ্য দিয়ে এবং তাদের অনুসারীদের প্রশংসা লাভের জন্য তাদের ধর্মনিষ্ঠার একটি প্রদর্শনীস্বরূপ জনসমাগম স্থলসমূহে পবিত্র শ্লোকসমূহ বিড়বিড় করে উচ্চারণ করত। বাহা’উল্লাহ এইরূপ আচরণ করতে নিষেধ করেছেন এবং ঈশ্বরে প্রতি বিনম্রতা ও অকপট ধর্মনিষ্ঠার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন।

136. একটি ইষ্টিপত্র লিপিবদ্ধ করিতে প্রত্যেকের প্রতি আদেশ দেওয়া হইয়াছে ¶109
বাহা’উল্লাহর শিক্ষাবলী অনুসারে প্রতিটি ব্যক্তির একটি ইষ্টিপত্র রচনা করার একটি কর্তব্য রয়েছে, এবং তার সম্পত্তি যেভাবে সে ইচ্ছা করে সেইভাবে হস্তান্তর করতে সে স্বাধীন (টীকা 38 দ্রষ্টব্য)।
বাহাউল্লাহ্ দৃঢ়রূপে বলেন যে, তার উইল রচনায় “একজন ব্যক্তির সম্পত্তির উপর তার পূর্ণ অধিকার রহিয়াছে”, কারণ ঈশ্বর প্রত্যেক ব্যক্তিকে অনুমতি দিয়েছেন, “যাহা কিছু তিনি তাহাকে প্রদান করিয়াছেন, সে তাহা তাহার ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোন প্রকারে ব্যবহার করিতে পারে” (প্রশ্ন ও উত্তর 69)। ইষ্টিপত্র সম্পাদন না করে মৃত্যুবরণ করলে উত্তরলব্ধির বণ্টনের অনুবিধিসমূহ কিতাব-ই-আক্বদাস-এ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। (টীকা 38 টীকা 39 টীকা 40 টীকা 41 টীকা 42 টীকা 43 টীকা 44 টীকা 45 টীকা 46 টীকা 47 টীকা 48) দ্রষ্টব্য।
প্রশ্ন-উত্তর 69

137. সর্বমহান নাম ¶109
টীকা 33 নং টীকায় যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ঈশ্বরের মহত্তম নাম বিভিন্ন আকার ধারণ করতে পারে, যেগুলির সবই “বাহা” শব্দের উপর ভিত্তিশীল। প্রাচ্যের বাহা’ইগণ তাদের ইষ্টিপত্রগুলির শিরোনামে “হে তুমি সর্বগৌরবময়ের গৌরব”, “সর্বগৌরবময় ঈশ্বরের নামে” অথবা “তিনি-ই সর্বগৌরবময়” অনুরূপ উক্তি লিপিবদ্ধ করে আক্বদাস-এর এই আদেশ কার্যকরী করেছে।

138. দুইটি সর্বমহান উৎসবের মধ্যে সমস্ত ভোজানুষ্ঠান এবং যমজ দিবসে সংঘটিত অপর দুইটি উৎসব উহাদের সম্পূর্ণতা লাভ করিয়াছে ¶110
এই অনুচ্ছেদ বাহা’ই বৎসরের 4টি মহান উৎসবকে প্রতিষ্ঠা করে। “দুইটি সর্বমহান উৎসব” রূপে যে দুইটিকে বাহা’উল্লাহ আখ্যায়িত করেছেন, তার প্রথমটি হচ্ছে, রিজওয়ানের উৎসব, যা বাহা’উল্লাহর 1863 সালের এপ্রিল/মে মাসে 12 দিন ব্যাপী বাগদাদে রিজওয়ানের উদ্যানে তাঁর ধর্মপ্রবর্তকীয় দৌত্যের ঘোষণার স্মৃতি রক্ষা করে, এবং এটাকে তিনি “উৎসবসমূহের রাজা” উল্লেখ করেন এবং দ্বিতীয়টি, বা’ব-এর ঘোষণা, যা 1844 সালের মে মাসে শিরাজে ঘটেছিল। রিজওয়ান উৎসবের প্রথম, নবম ও দ্বাদশ দিনগুলি পবিত্র দিবস (প্রশ্ন ও উত্তর 16), বা’ব-এর ঘোষণা দিবসটিও তদ্রƒপ।
“অপর দুইটি উৎসব” হচ্ছে বাহা’উল্লাহর ও বা’ব-এর জন্মবার্ষিকী। মুসলিম চান্দ্র পঞ্জিকায় এই দিনগুলির অবস্থান ধারাবাহিক, যথাক্রমে, বাহা’উল্লাহর জন্ম 1233 হিজরীর মুহররম মাসের দ্বিতীয় দিনে (12ই নভেম্বর 1817), এবং বা’ব-এর জন্ম একই মাসের প্রথম দিনে 1235 হিজরীর (1819 সালের 20 শে অক্টোবরের) । এরূপে, এগুলি “যমজ জন্মদিবস” রূপে উল্লেখিত হয়েছে, এবং বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেন যে, এই দুইটি দিন ঈশ্বরের দৃষ্টিতে একদিন রূপে গণ্য হয় (প্রশ্ন ও উত্তর 2)। তিনি বিবৃত করেন যে, এই দিনগুলি উপবাস মাসে পড়লে, ঐ দিনগুলিতে উপবাস আদেশ প্রযোজ্য হবে না (প্রশ্ন ও উত্তর 36)। বাহা’ই দিন পঞ্জিকা (টীকা 26 , টীকা 147 দ্রষ্টব্য) একটি সৌর পঞ্জিকারূপে স্বীকৃত, যমজ পবিত্র জন্মদিন দুইটি সৌর না-কি চান্দ্র ভিত্তিতে উদ্যাপিত হবে, তা সার্বজনীন বিচারালয় নির্ধারণ করবে।
প্রশ্ন-উত্তর 1 প্রশ্ন-উত্তর 2 প্রশ্ন-উত্তর 36

139. বাহা মাসের প্রথম দিবসটিতে ¶111
বাহা’ই পঞ্জিকায় বৎসরের প্রথম মাস এবং প্রত্যেক মাসের প্রথম দিনটিকে “বাহা” নাম দেওয়া হয়েছে। বাহা মাসের বাহা দিনটি তাই বাহা’ই নববর্ষ, নওরোজ, যা বা’ব একটি উৎসবরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, এবং এখানে বাহা’উল্লাহ এটি সমর্থন করেন (টীকা 26 , টীকা 147 দ্রষ্টব্য)।
কিতাব-ই-আক্বদাস-এর এই অনুচ্ছেদগুলিতে প্রতিষ্ঠিত সাতটি পবিত্র দিন ছাড়াও, বাহাউল্লাহ্র জীবদ্দশায় বা’ব-এর আত্মবলিদানের বার্ষিকীটি একটি পবিত্র দিন রূপে স্মৃতিস্বরূপ উদ্যাপিত হয়েছিল, এবং এই প্রতি একটি অনুসিদ্ধান্তস্বরূপ, আব্দুল-বাহা বাহা’উল্লাহর স্বর্গারোহণের স্মৃতিবার্ষিকী পালন যুক্ত করেন, ফলে সর্বমোট নয়টি পবিত্র দিন হল। অন্য আরও দুইটি বার্ষিকী  যা পালিত হয়ে থাকে  যে বার্ষিকীতে কাজকর্ম স্থগিত থাকে না, সেগুলি চুক্তিপত্রের দিবস ও আব্দুল বাহা’র মৃত্যুবার্ষিকী। “দি বাহা’ই ওয়ার্ল্ড” ভলিউম ঢঠওওও-এ বাহা’ই পঞ্জিকা অধ্যায়টি দেখুন।

140. সর্বমহান উৎসবটি যথার্থ-ই উৎসবসমূহের সম্রাট ¶112
“রিজওয়ান-উৎসবের একটি উদ্ধৃতি (উদ্ধৃতি (টীকা 107 ও টীকা 138)
)

141. ঈশ্বর ইতিপূর্বে বিশ্বাসীদের প্রত্যেকের উপর তাঁহার অধিকারভুক্ত বস্তুসমূহ হইতে আমাদের সিংহাসনের সমীপে অমূল্য নৈবেদ্য দানের কর্তব্য আরোপ করিয়াছিলেন। এখন....এই বাধ্যবাধকতা হইতে অব্যাহতি প্রদান করিয়াছি ¶114
এই অনুচ্ছেদটি বায়ানের একটি অনুবিধিকে রহিত করছে, যা আদেশ করেছিল যে, ঈশ্বর যাকে প্রকাশ করবেন তাঁর আবির্ভাবে, ইহাদের বৈশিষ্ট্যে অতুলনীয় সমস্ত বস্তু তাঁর সমীপে পেশ করতে হবে। বা’ব বর্ণনা করেছিলেন যে, যেহেতু ঈশ্বরের প্রকাশ তুলনাতীত, তাই যা কিছু ইহার বৈশিষ্ট্যে অতুলনীয়, তা ন্যায়সংগতভাবে তাঁর জন্য সংরক্ষণ করতে হবে, যদি না তিনি ভিন্ন কোন আদেশ প্রদান করেন।

142. প্রভাতকালে ¶115
বাহা’ই উপাসনালয় মাশ্রিকুল আয্কারে প্রভাতকালীন যদিও ঈশ্বরের কিতাবে নির্ধারিত প্রকৃত সময় হচ্ছে যদিও ঈশ্বরের গ্রন্থে “ঊষালগ্নে” শব্দগুলি ব্যবহৃত হয়েছে, “দিনের সবচেয়ে শুরুতে, প্রভাত ও সূর্যোদয়ের মধ্যেবর্তী সময়ে, অথবা সূর্যোদয়ের দুই ঘণ্টা পর পর্যন্ত ” হলেও ঈশ্বরের কাছে গ্রহণযোগ্য। (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 15)।

143. এই ফলকলিপিগুলি তাঁহারই সীলমোহর দ্বারা সু-শোভিত করা হইয়াছে, যিনি প্রভাতের আবির্ভাব ঘটান, যিনি তাঁহার কন্ঠস্বর স্বর্গসমূহ এবং মর্ত্যরে মধ্যে উত্তোলন করেন ¶117।
বাহা’উল্লাহ পুনঃ পুনঃ তাঁর লিখনাবলীসমূহের সম্পূর্ণ অখ-তাকে ঈশ্বরের বাণীস্বরূপ দৃঢ়রূপে ঘোষণা করেছেন। তাঁর কয়েকটি ফলকলিপি তাঁর সিলমোহরসমূহের মধ্যে একটি চিহ্নও বহন করছে। দি বাহা’ই ওয়ার্ল্ড, ভলিউম, চার পৃষ্ঠায়, বাহা’উল্লাহর কয়েকটি সিলমোহরের একটি আলোকচিত্র রয়েছে।

144. ইহা গ্রহণযোগ্য নহে যে মানুষ, যাহাকে বিচারবুদ্ধি প্রদান করা হইয়াছে সে, এমন কিছু ব্যবহার করে যাহা ইহাকে নিঃশেষ করে ¶119
বাহা’ই লিখনাবলীতে অনেক উল্লেখ রয়েছে যা মদের ব্যবহার ও অন্যান্য উত্তেজনাকারী পানীয়সমূহের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে এবং যা উল্লেখ করে যে, এইরূপ উত্তেজক দ্রব্যসমূহ ব্যক্তির উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে।
তাঁর ফলকলিপিসমূহের একটিতে বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেন যে:
সতর্ক হও যেন তোমরা ঈশ্বরের মদিরাকে তোমাদের নিজেদের মদিরার সহিত বিনিময় না কর, কারণ ইহা তোমাদের মনকে হতবুদ্ধি করিবে, এবং সর্বগৌরবময়, অতুলনীয়, অনধিগম্য ঈশ্বরের মুখমন্ডল হইতে তোমাদের মুখমন্ডলসমূহকে অন্যদিকে ফিরাইয়া দিবে। ইহার নিকটবর্তী হইও না, কারণ, মহিমান্বিত, সর্বশক্তিমান, ঈশ্বরের আদেশে ইহা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হইয়াছে।
আব্দুল-বাহা ব্যাখ্যা করেন যে, আক্বদাস “হালকা ও কড়া উভয় পানীয়কেই” নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, এবং তিনি বিবৃত করেন যে, সুরাসার ঘটিত পানীয়সমূহের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কারণ হচ্ছে “সুরাসার মনকে বিপথে পরিচালনা করে এবং দেহকে দুর্বলতর করে”।
শৌগী এফেন্দী, তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত একটি পত্রে বিবৃত করেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র মদের ব্যবহারকেই অন্তর্ভুক্ত করে না, বরং “প্রতিটি বস্তু যা মনকে বুদ্ধিভ্রংশ করে” এবং তিনি বিশদ করেন যে, সুরাসারের ব্যবহার অনুমোদনীয় শুধু যখন এটি একটি ডাক্তারি চিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত হয়, যা “একজন সুযোগ্য ও বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন চিকিৎসকের উপদেশ অনুযায়ী প্রয়োগ করা হয়, যাকে কোন বিশেষ পীড়া নিরাময়ের জন্য ব্যবস্থাপত্র দিতে হয়”।

145. তোমাদের মুখমন্ডল তাহার দিকে ফিরাইবে, যাহাকে ঈশ্বর অভিপ্রেত করিয়াছেন, যে এই প্রাচীন মূল হইতে শাখা বিস্তার করিয়াছে ¶121
বাহা’উল্লাহ এখানে তাঁর উত্তরাধিকারীরূপে আব্দুল বাহা’র সম্বন্ধে পরোক্ষভাবে উল্লেখ করছেন এবং বিশ্বাসীদেরকে তাঁর প্রতি মুখ ফিরাতে আহ্বান করছেন। চুক্তিপত্রের গ্রন্থ, তাঁর ইষ্টিপত্রে, বাহা’উল্লাহ এই শ্লোকের উদ্দেশ্য প্রকাশ করেন। তিনি বিবৃত করেন : “এই পবিত্র শ্লোকের লক্ষ্য মহাশক্তিশালী শাখা ব্যতীত আর কেউ নয়”। “মহাশক্তিশালী শাখা”, বাহা’উল্লাহ কর্তৃক আব্দুল-বাহা’কে প্রদত্ত খেতাবগুলির একটি (টীকা 66 ও টীকা 184 ও দেখুন)।

146. বায়ান গ্রন্থে আমাদের কাছে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতে তোমাদিগকে নিষেধ করা হইয়াছিল ¶126
ঈশ্বর যাকে প্রকাশ করবেন (বাহা’উল্লাহ্) তাঁর কাছে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে বা’ব তাঁর অনুসারীদের নিষেধ করেছিলেন, যদি না তাদের প্রশ্নগুলি লিখিতভাবে উপস্থাপিত হয় এবং সেগুলির বিষয়বস্তু তাঁর অত্যুচ্চ মর্যাদার উপযুক্ত হয়। বা’ব-এর লিখনাবলী থেকে সংকলন দেখুন।
বাহা’উল্লাহ বা’ব-এর এই নিষেধাজ্ঞা অপসারণ করেছেন, তিনি বিশ্বাসীদের এইরূপ প্রশ্ন করতে বলেছেন যা তাদের “জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন” এবং তিনি তাদেরকে এইরূপ “অসার প্রশ্নসমূহ” থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেন যেগুলি “পূর্ববর্তী সময়ের লোকদের” মনকে সম্পূর্ণরূপে আচ্ছন্ন করে রাখত।

147. ঈশ্বরের গ্রন্থে এক বৎসরে মাসগুলির সংখ্যা উনিশ নির্ধারিত হইয়াছে। ইহাদের মধ্যে প্রথমটি এই নামের দ্বারা অলংকৃত হইয়াছে ¶127
বা’দী পঞ্জিকা অনুসারে বাহা’ই বৎসর প্রত্যেক 19 দিনের 19 মাস নিয়ে গঠিত, সৌরবর্ষের সহিত পঞ্জিকাটিকে সুবিন্যস্ত করার জন্য অষ্টাদশ ও ঊনবিংশতম মাসের মধ্যে নির্দিষ্ট মলমাসের দিনগুলি (সাধারণ বর্ষে চার এবং অধিবর্ষে 5 দিন) সংযোজনসহ প্রত্যেক 19 দিনের 19 মাস নিয়ে গঠিত। বা’ব ঈশ্বরের নির্দিষ্ট গুণাবলী অনুসারে মাসগুলির নামকরণ করেছিলেন। বাহা’ই নববর্ষ, নওরোজ মার্চের মহাবিষুবের সহিত সমকালে সংঘটিত জ্যোতির্বিদ্যা অনুযায়ী স্থিরীকৃত (টীকা 26 দেখুন)। সপ্তাহের দিনগুলির এবং মাসগুলির নামসহ, আরও বিস্তারিত বিবরণের জন্য, বাহা’ই ওয়ার্ল্ড, ভলিউম ঢঠওওও-এ বাহা’ই দিনপঞ্জিকা অধ্যায়টি দেখুন।

148. যাহা সমগ্র সৃজনকুলকে ছায়ায় আবৃত করিয়াছে ¶127
(ফারসী বায়ান-এ বা’ব বৎসরের প্রথম মাসটির নাম “বাহা” রেখেছিলেন। (টীকা 139 দেখুন)।

149. পরম প্রভু আদেশ করিয়াছেন যে মৃতদের.....শবাধারে করিয়া সমাধিস্থ করিতে হইবে ¶128
বায়ান-এ বা’ব বিধান দিয়েছিলেন যে, মৃত ব্যক্তিটিকে স্ফটিক অথবা মসৃণ পাথর দ্বারা নির্মিত কফিনে সমাধিস্থ করতে হবে। শৌগী এফেন্দী তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত একটি পত্রে ব্যাখ্যা করেন যে, এই শর্তের তাৎপর্য ছিল মানবদেহের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা যা “একদা মানুষের অমর আত্মা দ্বারা মহিমান্বিত করা হয়েছিল”।
সংক্ষেপে, মৃতদেহটির কবরস্থকরণের বাহা’ই আইনটি বিবৃত করছে যে, মৃত্যুর স্থান থেকে মৃতদেহটিকে এক ঘণ্টার রাস্তার বেশি বয়ে নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ; দেহটিকে সিল্ক অথবা কার্পাস বস্ত্রের আচ্ছাদনে মোড়াতে হবে, এবং এর আঙ্গুলে একটি আংটি পরাতে হবে এর উপর উৎকীর্ণ লিপি থাকবে এই অর্থে “আমি ঈশ্বরের নিকট হইতে আসিয়াছিলাম এবং তিনি ব্যতীত আর সব কিছু হইতে বিছিন্ন হইয়া করুণাময়, সহানুভূতিশীল তাঁহার নামের প্রতি দৃঢ়সংলগ্ন হইয়া তাঁহার কাছে প্রত্যাবর্তন করিতেছি।’’; এবং কফিনটি স্ফটিকের, পাথরের অথবা শক্ত উত্তম কাঠের হবে। সমাধিস্থকরণের পূর্বে মৃতদের জন্য আদিষ্ট একটি নির্দিষ্ট প্রার্থনা পড়তে হবে (টীকা 10 দেখুন)। আব্দুল-বাহা ও অভিভাবকের দৃঢ়রূপে কথিত মতে, এই আইন শবদাহ নিবারণ করছে। আনুষ্ঠানিক প্রার্থনা ও আংটি ব্যবহার প্রযোজ্য হবে তাদের জন্য যারা বয়ঃপ্রাপ্ত 15 বৎসর বয়স্ক (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 70)।
কফিনটি যে বস্তু দ্বারা নির্মিত হবে সে সম্পর্কিত আইনটির অর্থ হচ্ছে যে কফিনগুলি যথাসম্ভব টেকসই বস্তু দ্বারা নির্মাণ করতে হবে। এই প্রসঙ্গে, সার্বজনীন বিচারালয় ব্যাখ্যা করেছেন যে, আক্বদাস-এ নির্দিষ্ট করে দেওয়া দ্রব্যাদি ছাড়াও, শবাধারটির জন্য প্রাপ্ত সর্বাপেক্ষা শক্ত কাঠ বা সিমেন্ট, বালি ও নুড়ির মিশ্রণে ঢালাই দ্বারা প্রস্তুত হলেও বাধ নেই। আপাততঃ এই বিষয়ে বাহা’ইগণ তাদের নিজেদের পছন্দে স্বাধীন।

150. বায়ানের কেন্দ্রবিন্দু ¶129
বায়ান-এর বিন্দু হচ্ছে উপাধিসমূহের মধ্যে একটি, যদ্বারা বা’ব নিজেকে উল্লেখ করেছেন।

151. মৃতদের পাঁচ খ- রেশম বা সুতি বস্ত্রে জড়াইতে হবে ¶130
বায়ান-এ, বা’ব নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, মৃতব্যক্তির দেহটি রেশম অথবা সুতি বস্ত্রের পাঁচটি চাদরে আবৃত করতে হবে। বাহা’উল্লাহ এই অনুবিধি সমর্থন ও অনুমোদন করেছেন এবং এই শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তাদের জন্য “যাহাদের সংগতি সীমাবদ্ধ তাহাদের জন্য দুই প্রকারের বস্ত্রের যে কোন একটির একটিমাত্র চাদর যথেষ্ট হইবে”।
আইনে উল্লেখিত “5টি চাদর” প্রসঙ্গে “পাঁচটি পূর্ণ-দৈর্ঘ্য আচ্ছাদন” অথবা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়ে আসা পাঁচ খ- বস্ত্র” সম্বন্ধে এতদুভয়ের মধ্যে কোনটি জিজ্ঞাসা করা হলে, বাহা’উল্লাহ উত্তর দেন যে, “5টি বস্ত্রের ব্যবহার” অভিপ্রেত (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 56)। 
যে প্রক্রিয়ায় দেহটি মোড়ানো সে প্রসঙ্গে, কিভাবে দেহটিকে মোড়াতে হবে, যখন “5টি বস্ত্র” ব্যবহৃত হবে অথবা মাত্র “একটি চাদর” ব্যবহৃত হবে এ বিষয়ে বাহা’ই লিখনাবলীতে কোন ব্যাখ্যা নেই আপাততঃ এই বিষয়ে বাহা’ইগণ তাদের নিজেদের পছন্দে স্বাধীন।

152. মৃতদেহ শহর হইতে এক ঘণ্টার অধিকতর দূরত্বে পরিবহন করিতে তোমাদের নিষেধ করা হইয়াছে ¶130
এই আদেশটির উদ্দেশ্য হচ্ছে, সমাধিস্থলে মৃতদেহটি বয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিবহন নির্বিশেষে সময়ের স্থিতিকালকে এক ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা। বাহা’উল্লাহ দৃঢ়রূপে বলেন যে, যত শীঘ্রই সমাধিস্থকরণ সম্পন্ন হয়, “তত বেশি উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য হবে” (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 16)।
যে স্থানে লোকটির মৃত্যু হয়েছে, যদি সেই শহর বা নগরটির সীমানা নিরূপণ করা যায়, তাহলে শহরটির সীমানা থেকে কবরস্থান পর্যন্ত এক ঘণ্টার যাত্রা হিসাব করা যেতে পারে। বাহা’উল্লাহর এই আইনটির মর্ম হচ্ছে মৃত লোকটি যেখানে মারা গেছে তার নিকটবর্তী স্থানে তাকে কবরস্থ করা।

153. ঈশ্বর বায়ানে আরোপিত ভ্রমণ বিষয়ক নিষেধসমূহ তুলিয়া লইয়াছেন ¶131
বা’ব ভ্রমণ সম্বন্ধে নির্দিষ্ট কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করেছিলেন যা বায়ান-এর প্রতিশ্রুত সত্তার আগমনকাল পর্যন্ত বলবৎ থাকার কথা, যে সময়ে বিশ্বাসীদেরকে এমনকি পদব্রজে হলেও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য বেরিয়ে পড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কারণ তাঁর উপস্থিতি লাভ করা ছিল তাদের অস্তিত্বের-ই ফল ও উদ্দেশ্য।

154. গড়িয়া তোল এবং মহিমান্বিত কর যমজ পবিত্রস্থানে অবস্থিত গৃহ দুইটিকে এবং অন্য স্থানসমূহকে, যেইখানে পরম করুণাময় তোমাদের প্রভুর সিংহাসন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে ¶133
বাহা’উল্লাহ “গৃহদ্বয়” রূপে বাগদাদে অবস্থিত তাঁর গৃহকে  যা তিনি “সর্ব মহান গৃহ” রূপে আখ্যায়িত করেছেন  এবং শিরাজে অবস্থিত বা’ব-এর গৃহকে সনাক্ত করেছেন, যার দুইটিকেই তিনি তীর্থস্থানরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছেন (প্রশ্ন-উত্তর 29, প্রশ্ন-উত্তর 32 এবং টীকা 54 দেখুন)।
শৌগী এফেন্দী ব্যাখ্যা করেছেন যে, “অন্য স্থানসমূহকে, যেখানে তোমাদের ....প্রভুর সিংহাসন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে” ঐ স্থানগুলিকে নির্দেশ করছে যেখানে ঐশী প্রকাশের ব্যক্তিসত্তা বসবাস করেছেন। বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেন যে, “যেখানে সেগুলি অবস্থিত - সেখানকার লোকেরা হয় প্রতিটি গৃহ, যেখানে সিংহাসনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছি ” যেখানে তিনি বসবাস করেছিলেন “অথবা উহাদের যে কোন একটিকে সংরক্ষণের জন্য মনোনীত করতে পারে” (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 32)। বাহা’ই প্রতিষ্ঠানসমূহ যমজ প্রকাশগণের সাথে সংযুক্ত কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থানকে সনাক্ত, দলিল দ্বারা প্রমাণ করেছে, এবং যেখানে সম্ভব হয়েছে, দখল নিয়েছে, এবং পুনঃস্থাপিত করেছে।
প্রশ্ন-উত্তর 29

155. মনোযোগী হও, যেন গ্রন্থে লিপিবদ্ধ কোন কিছু এই জীবন্ত গ্রন্থের শ্রবণ হইতে তোমাদিগকে বাধাগ্রস্ত না করে ¶134
“গ্রন্থ” হচ্ছে ঈশ্বরের প্রকাশগণের অবতীর্ণ বাণীর প্রমাণ-লিপি। “জীবন্ত গ্রন্থ” হচ্ছে ঐশী প্রকাশের ব্যক্তিসত্তার একটি উল্লেখ। 
“জীবন্ত গ্রন্থ” সম্বন্ধে ফারসী বায়ানে বা’ব-এর একটি বিবৃতির প্রতি এই শব্দাবলীর পরোক্ষ উল্লেখ রয়েছে, যেখানে তিনি তাঁহাকে ঈশ্বর যাহাকে প্রকাশ করিবেন রূপে সনাক্ত করছেন। তাঁর ফলকলিপিসমূহের একটিতে বাহা’উল্লাহ স্বয়ং বিবৃত করেন: “ঈশ্বরের গ্রন্থটি এই যুবকের দেহ কাঠামোতে অবতীর্ণ হইয়াছে।”
আক্বদাস-এর এই শ্লোকটিতে এবং পুনরায় আক্বদাস-এর 168 নং অনুচ্ছেদে, বাহা’উল্লাহ নিজেকে “জীবন্ত গ্রন্থ” রূপে উল্লেখ করেন। তিনি “জীবন্ত গ্রন্থ” উক্তিসমূহকে খ-ন করার জন্য “অন্য প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীগণ”কে “তাদের পবিত্র গ্রন্থসমূহে যুক্তিতর্ক” অনুসন্ধান না করার জন্য সতর্ক করেন। তাঁর মর্যাদা স্বীকার করতে এবং এই নতুন প্রত্যাদেশে যা রয়েছে তার প্রতি দৃঢ়সংলগ্ন হতে তাদেরকে বিরত করার জন্য “গ্রন্থে” যা লিপিবদ্ধ রয়েছে তা দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত না হওয়ার জন্য তিনি লোকদের উপদেশ দিয়েছেন।

156. এই প্রত্যাদেশের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলিস্বরূপ তাঁহার লেখনী হইতে প্রবাহিত হইয়াছিল যিনি ছিলেন আমার অগ্রদূত ¶135
এই অনুচ্ছেদে বাহা’উল্লাহ যে “শ্রদ্ধাঞ্জলি” উদ্ধৃত করছেন তা আরবী বায়ান থেকে গৃহীত।

157. প্রকৃতপক্ষে তিনিই কিব্লাহ্ যাহাকে ঈশ্বর প্রকাশ করিবেন, যখনই তিনি স্থানান্তরিত হইবেন, ইহা স্থানান্তরিত হইবে, যতক্ষণ না তিনি স্থির হইবেন ¶137
এই শ্লোক সম্বন্ধে আলোচনার জন্য টীকা 7 ও টীকা 8 দেখুন।

158. বায়ানে বিশ্বাসীর সঙ্গে ব্যতীত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া অবৈধ। যদি কোন বিবাহের কেবল একটি পক্ষ এই ধর্ম গ্রহণ করে , তাহা হইলে স্বামী অথবা স্ত্রীর অধিকারভুক্ত স¤পত্তি অপরজনের কাছে অবৈধ গণ্য হইবে ¶139
এখানে বাহা’উল্লাহ বায়ান-এর যে অনুচ্ছেদটি উদ্ধৃত করেছেন তা “তাঁহাকে ঈশ্বর যাহাকে প্রকাশ করিবেন” তাঁর আগমনের আসন্নতার প্রতি বিশ্বাসীদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। একজন অ-বা’বীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার উপর ইহার নিষেধাজ্ঞা এবং ইহার অনুবিধি যে একজন স্বামী অথবা স্ত্রী যে এই ধর্ম গ্রহণ করেছে তার সম্পত্তি আইনসংগতভাবে অ-বাবী স্বামী বা স্ত্রীকে হস্তান্তর করা যাবে না তা বা’ব কর্তৃক সুস্পষ্টভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল, এবং পরবর্তীকালে এই অনুবিধি কার্যকর হওয়ার পূর্বে বাহা’উল্লাহ কর্তৃক রদ হয়েছিল। এই আইনটির উদ্ধৃতি দ্বারা বাহা’উল্লাহ ঐ বাস্তবতার আভাস দেন যে, এই প্রকাশ কালে বা’ব সুস্পষ্টভাবে অনুমান করেছিলেন যে, বাহা’উল্লাহর ধর্ম স্বয়ং বা’ব-এর ধর্মাপেক্ষা প্রসিদ্ধি লাভ করবে।
গড পাসেস বাই গ্রন্থে শৌগী এফেন্দী উল্লেখ করেন যে, বায়ানকে “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী পথপ্রদর্শনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত আইনসমূহের একটি সংহিতা ও অধ্যাদেশরূপে বিবেচনা না করে মূলতঃ প্রতিশ্রুত মহাপুরুষের উচ্চপ্রশংসাসূচক গ্রন্থরূপে” বিবেচনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “ইহার আরোপিত নিয়ম-কানুনগুলি পরিকল্পিতভাবে কঠোর, ইহার সঞ্চারিত নীতিসমূহ বৈপ্লবিক, ধর্মোপদেষ্টা ও লোকদেরকে তাদের বহু যুগের পুরাতন অসাড়তা থেকে জাগ্রত করার জন্য পূর্ব থেকে নিরূপিত, এবং সেকেলে ও নীতিহীন প্রতিষ্ঠানসমূহে একটি আকস্মিক ও মারাত্মক আঘাত হানতে ইহার কঠোর অনুবিধিগুলির মাধ্যমে সেই প্রত্যাশিত দিনটির আগমন বার্তার ঘোষণা করে, যখন “আহ্বানকারী একটি কঠিন বিষয়ের প্রতি আহ্বান করবেন, যখন তিনি “ যা কিছু তাঁর সম্মুখে রয়েছে তা ধ্বংস করবেন, এমন কি তাদের পথসমূহকে ধ্বংসসাধনকারী ঈশ্বরের বার্তাবাহকের মত যারা তাঁর পূববর্তী হয়েছিল”। (টীকা 109 দেখুন)

159. বায়ানের কেন্দ্রবিন্দু ¶140
বা’ব-এর খেতাবসমূহের একটি।

160. “সত্য সত্যই, আমি ব্যতীত আর কোন ঈশ্বর নাই।’’ ¶143
বাহা’ই লিখনাবলীতে অনেক অনুচ্ছেদ রয়েছে যেগুলি ঐশী প্রকাশ ও ঈশ্বরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করে। বাহা’উল্লাহ ঐশ্বরের অনুপম ও অজ্ঞেয় প্রকৃতির উপর অত্যধিক গুরুত্ব প্রদান করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, “যেহেতু একক সত্য ঈশ্বরের সাথে তাঁর সৃষ্টির সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের জন্য কোন বন্ধনসূত্র থাকিতে পারে না,” ঈশ্বর আদেশ করেছেন যে, “প্রত্যেক যুগে ও ধর্মবিধানে একটি পবিত্র ও নিষ্কলুষ আত্মাকে মর্ত্য ও স্বর্গের রাজ্যসমূহে প্রকাশ করা হইবে”। এই “নিগূঢ় ও স্বর্গীয় সত্তা”, ঈশ্বরের প্রকাশ, এর একটি মানবীয় প্রকৃতি রয়েছে যা “জড়জগতের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত”, এবং একটি আধ্যাত্মিক প্রকৃতি রয়েছে যা “স্বয়ং ঈশ্বরের সত্তা থেকে জাত”। এ ছাড়াও তিনি এক “দৈত মর্যাদায়” ভূষিত।
প্রথম অবস্থাটি, যা তাঁর অন্তরতম সত্তার সহিত সম্বন্ধযুক্ত, তাঁকে সেই সত্তার কণ্ঠস্বর রূপে উপস্থাপন যা স্বয়ং ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর... দ্বিতীয় অবস্থাটি হচ্ছে মানবীয় মর্যাদা, নিুলিখিত শ্লোকগুলি উদাহরণ দ্বারা ব্যাখ্যা করছে : “আমি তোমাদের মত একজন মানুষ ব্যতীত আর কেহ নহি”। “বল প্রশংসা আমার পরম প্রভুর!” আমি একজন মানুষ, একজন বার্তাবাহক হইতে অধিক কিছু ?
এ ছাড়াও বাহা’উল্লাহ দৃঢ়রূপে বলেন যে, আধ্যাত্মিক রাজ্যে ঈশ্বরের সমস্ত বার্তাবাহকগণের মধ্যে এক “অপরিহার্য একত্ব” বিদ্যমান রয়েছে। তাঁরা সবাই “ঈশ্বরের সুষমা” প্রকাশ করেন, তাঁর নামাবলী ও গুণাবলী প্রকাশ করেন, এবং তাঁর প্রত্যাদেশ ধর্মের বাণী উচ্চারণ করেন। এই বিষয় তিনি বিবৃত করেন:
যদি ঈশ্বরের সর্বপরিবষ্টনকারী প্রকাশগণের কেহ ঘোষণা করেন: “আমি-ই ঈশ্বর”, সত্য সত্যই তিনি সত্য কথাই বলেন, এবং এতে কোন সন্দেহ নাই। কারণ বারংবার প্রদর্শিত করা হয়েছে যে, তাঁদের প্রকাশ, তাঁদের নামাবলী ও তাঁদের গুণাবলী প্রকাশের মাধ্যমেই, ঈশ্বরের প্রকাশ, তাঁর নামাবলী এবং তাঁর গুণাবলী প্রকাশ করা হয়.....।
যদিও ঐশী প্রকাশগণ ঈশ্বরের নামাবলী ও গুণাবলী প্রকাশ করেন এবং মাধ্যমসমূহ যা দ্বারা মানব জাতি ঈশ্বর ও তাঁর প্রত্যাদেশ ধর্মের জ্ঞান লাভ করে , তা সত্ত্বেও শৌগী এফেন্দী বিবৃত করেন যে, ঐশী প্রকাশগণ “কখনও স্বয়ং ঈশ্বরের সারাৎসার, ঐ অদৃশ্য সত্তার সাথে অভিন্নরূপে গণ্য হবেন না”। বাহা’উল্লাহর সাথে সম্পর্ক সম্বন্ধে শৌগী এফেন্দী লিখেছিলেন যে, “যে মানব মন্দির এইরূপ একটি অতীব শক্তিশালী প্রত্যাদেশের মাধ্যমে হয়েছে,” তা ঈশ্বরের “সত্তার” সাথে অভিন্নরূপে গণ্য হবে না।
বাহা’উল্লাহর অবস্থার অনুপমতা এবং তাঁর প্রত্যাদেশের মহত্ত্ব সম্বন্ধে শৌগী এফেন্দী দৃঢ়রূপে বলেন যে, বাহা’উল্লাহর আগমনের দ্বারা অতীত প্রত্যাদেশসমূহের পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহে দৃষ্ট “ঈশ্বরের দিবস” সম্বন্ধে ভবিষদ্বাণীগুলি পূর্ণ হয়েছে :
তিনি ইসরাইলের প্রতি “চিরস্থায়ী পিতা”র অবতার, “দশ সহস্র ধার্মিক ব্যাক্তিসহ” অবতরণকারী “সেনাদলের পরম প্রভু” অপেক্ষা কোন অবস্থায় কম ছিলেন না; খ্রিষ্টীয় জগতে “পিতার জ্যোতিতে” প্রত্যাবর্তনকারী যিশুখ্রিষ্ট; শিয়া ইসলামে ইমাম হুসাইন-এর প্রত্যাবর্তন; সুন্নী ইসলামে “ঈশ্বরের আত্মা” যিশুখ্রিষ্টের অবতরণ; জোরোস্টারিয়ানদের প্রতি প্রতিশ্রুত শাহ্-বাহরাম; হিন্দুদের প্রতি কৃষ্ণের পুনঃঅবতরণ; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রতি পঞ্চম বুদ্ধ।
ঈশ্বরের সমস্ত প্রকাশগণের সাথে তিনি যার অংশীদার সেই “ঈশ্বরত্ব ” অবস্থার যে বর্ণনা বাহা’উল্লাহ করেন তা হচ্ছে
...যে অবস্থায় কেহ তার নিজের কাছে মৃত্যুবরণ করে এবং ঈশ্বরের মধ্যে জীবিত থাকে। ঈশ্বরত্ব, যখনই আমি ইহার উল্লেখ করি, উহা আমার সম্পূর্ণ ও সুনিশ্চিত আত্মবিলোপ প্রকাশ করে। ইহা সেই অবস্থা যাহার মধ্যে আমার নিজের সুখ বা দুঃখের উপর, অথবা আমার জীবনের উপর, অথবা আমার পুনরুত্থানের উপর কোনই নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
এবং ঈশ্বরের সহিত তাঁর নিজের সম্পর্ক সম্বন্ধে, তিনি সাক্ষ্য দিচ্ছেন:
হে আমার ঈশ্বর, যখন আমি ঐ সম্পর্ক সম্বন্ধে গভীরভাবে চিন্তা করি যাহা আমাকে তোমার সহিত সংযুক্ত করে, তখন আমি সমস্ত সৃষ্ট বস্তুর কাছে ঘোষণা করিতে অনুপ্রাণিত হই “সত্য সত্যই আমি ঈশ্বর”; এবং যখন আমি আমার নিজ সত্তা বিবেচনা করি, দেখ, আমি ইহাকে কর্দম অপেক্ষা নিকৃষ্টতর দেখিতে পাই।

161. যাকাত পরিশোধ ¶146 
কোরআন-এ মুসলমানদের উপর অবশ্যপালনীয় একটি নিয়মিত দাতব্যরূপে যাকাত উল্লেখিত হয়েছে । সময়ের সাথে সাথে ধারণাটি একটি ভিক্ষাদান কর-এ পরিণত হয় যা সুনির্দিষ্ট সীমাসমূহকে ছাড়িয়ে, নির্দিষ্ট শ্রেণীর আয়সমূহ থেকে একটি নির্ধারিত অংশ গরীবদের ত্রাণকার্যের জন্য, বিভিন্ন দাতব্য উদ্দেশ্যে, এবং ঈশ্বরের ধর্মের সাহায্যার্থে প্রদান অবশ্যপালনীয় রূপে আরোপ করেছিল। বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে অব্যাহতির সীমা বিভিন্ন হতো এবং করযোগ্য অংশের উপর দেয় শতকরা হারও বিভিন্ন হতো। 
বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেন যে, যাকাতের আইন “কোরআন-এ যাহা প্রকাশিত হইয়াছে” তা অনুসরণ করবে ”(প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 107)। যেহেতু এইরূপ বিচার্য বিষয়সমূহ যেমন অব্যাহতির সীমা নির্ধারণসমূহ, সংশ্লিষ্ট আয়ের শ্রেণী, কতবার প্রদান করতে হবে, এবং বিভিন্ন শ্রেণীর যাকাতের মাত্রা সম্বন্ধে কোরআন-এ উল্লেখ করা হয় নাই, এই বিষয়গুলি ভবিষ্যতে সার্বজনীন বিচারালয়কে নির্ধারণ করতে হবে। শৌগী এফেন্দী উল্লেখ করেছেন যে, এইরূপ আইন প্রণীত হওয়া পর্যন্ত বিশ্বাসীগণ তাদের উপায় ও সম্ভাব্যতা অনুসারে বাহা’ই অর্থভান্ডারে নিয়মিত দান করবে।

162. ভিক্ষা করা অবৈধ এবং যে ভিক্ষা করে তাহাকে ভিক্ষা দেওয়া নিষিদ্ধ ¶147
একটি ফলকলিপিতে আব্দুল-বাহা এই শ্লোকটির অর্থ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বিবৃত করেন যে, “ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ এবং যে সমস্ত লোক ভিক্ষা করাকে তাহাদের পেশারূপে গ্রহণ করিয়াছে, তাহাদেরকে ভিক্ষা দান করা নিষিদ্ধ”। একই ফলকলিপিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “লক্ষ্য হচ্ছে ভিক্ষাবৃত্তির সমূলে উৎপাটন করা। তা সত্ত্বেও যদি একজন লোক জীবিকা অর্জনে অসমর্থ হয়, নিদারুণ দারিদ্র্যে পীড়িত হয় অথবা অসহায় হয়ে পড়ে, তাহলে ধনবানদের অথবা প্রতিনিধিদের অপরিহার্য কর্তব্য হচ্ছে এই লোকের জীবন-ধারণের জন্য একটি মাসিক ভাতা বরাদ্দ করা.. “প্রতিনিধিদের” দ্বারা লোকদের প্রতিনিধি বোঝাচ্ছে, অর্থাৎ বিচারালয়ের সদস্যদের বোঝাচ্ছে।”
যারা ভিক্ষা করে, তাদের ভিক্ষা দেওয়া নিষেধ, উক্তিটি ব্যক্তিবর্গ এবং আধ্যাত্মিক পরিষদগুলিকে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদেরকে আর্থিক সাহায্য দান অথবা তাদেরকে এইরূপ কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগ প্রদানে বাধা দান করে না যা তাদেরকে জীবিকা অর্জনে সমর্থ করবে (টীকা 56 দেখুন)।

163. অতীতে যে কেহ অন্যের দুঃখের কারণ হইত, তাহার জন্য ...জরিমানার ... নির্ধারিত হইয়াছিল ¶148
কারো দ্বারা তার প্রতিবেশীর দুঃখ ঘটানোর কারণে একটি জরিমানা প্রদান বিষয়ক ফারসী বায়ানের আইনটি বাহা’উল্লাহ রদ করেন।

164. পবিত্র লোত-বৃক্ষ ¶148
“পবিত্র লোত-বৃক্ষ”টি সাদরাতুল মুন্তাহা’র প্রতি একটি উল্লেখ “ঐ বৃক্ষটি, যার সীমা অতিক্রম করা যায় না” (টীকা 128 দেখুন); এখানে ইহা প্রতীকস্বরূপ বাহা’উল্লাহ্কে নির্দেশ ব্যবহার করা হয়েছে।

165. তোমরা ঈশ্বরের শ্লোকসমূহ সকাল এবং সন্ধ্যায় আবৃত্তি কর ¶149
বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেন যে, “ঈশ্বরের শ্লোকসমূহ” আবৃত্তি করার জন্য অপরিহার্য “প্রয়োজন” হচ্ছে “ঈশ্বরের বাণী পাঠ করার” জন্য বিশ্বাসীদের “আগ্রহ ও প্রেমানুভূতি” (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 68)।
“ঈশ্বরের শ্লোকসমূহের” সংজ্ঞা সম্বন্ধে বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেন যে, ইহাা “যাহা কিছু বাক্যোচ্চারণের স্বর্গ হইতে অবতারিত হইয়াছে” তা নির্দেশ করে। প্রাচ্যের বিশ্বাসীদের একজনের প্রতি লিখিত একটি পত্রে শৌগী এফেন্দী বিশদ করেছেন যে, “ঈশ্বরের শ্লোকসমূহ” আব্দুল বাহা’র লিখনাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে না ; তিনি অনুরূপভাবে বিবৃত করেছেন, এই উক্তি তাঁর নিজের লিখনাবলীর প্রতিও প্রযোজ্য নয়।

166. তোমাদিগকে প্রতি উনিশ বছর অতিবাহিত হইবার পর, তোমাদের গৃহের আসবাব-পত্রাদি নবায়নের নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে ¶151
নবায়ন সম্বন্ধে আরবী বায়ান-এর এই আদেশ বাহা’উল্লাহ সমর্থন করেন, যদি কোন ব্যক্তি প্রতি 19 বৎসর অন্তর তার গৃহের আসবাব-পত্রাদি নবায়ন করতে সমর্থ হয়। আব্দুল-বাহা এই আদেশকে সুরুচি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উন্নতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এই আইনটির উদ্দেশ্য হচ্ছে, যে কোন ব্যক্তির উচিত তার ঐ সকল আসবাব-পত্র পরিবর্তন করা যেগুলি পুরাতন হয়ে গেছে, যেগুলির ঔজ্জ্বল্য নষ্ট হয়েছে এবং বিরক্তিকর হয়েছে। এই আইন ঐরূপ সব বস্তুর উপর প্রযোজ্য নয় যেগুলি বিরল অথবা সংরক্ষিত সঞ্চিত সম্পদ, প্রাচীন নিদর্শন অথবা স্বর্ণালঙ্কার।

167. তোমাদের পদসমূহ ধৌত করিবে ¶152
কিতাব-ই-আক্বদাস-এ বিশ্বাসীগণকে নিয়মিতভাবে øান করতে, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরতে এবং সাধারণতঃ পরিচ্ছন্ন ও সুরুচির নির্যাস হতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে। আইন ও অধ্যাদেশসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সংহিতা অধ্যায় 4.ঘ.3. ভ.1-7, প্রাসঙ্গিক অনুবিধিগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে পদ ধৌতকরণ সম্বন্ধে বাহা’উল্লাহ বিবৃত করেছেন যে, এক্ষেত্রে উষ্ণ জল ব্যবহার করাই অধিকতর বাঞ্ছনীয়; যদিও শীতল জলে ধৌত করা অনুমোদনীয় (প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন-উত্তর 97)।

168. তোমাদিগকে প্রচারবেদি ব্যবহার করিতে নিষেধ করা হইয়াছে। যে কেহ তাহার প্রভুর শ্লোকসমূহ তোমাদিগকে আবৃত্তি করিয়া শোনাইতে ইচ্ছা করে, সে মঞ্চের উপর একটি চেয়ারে উপবেশন করুক ¶154
ফারসী বায়ান-এ এই অনুবিধিগুলির পূর্ববর্তী ঘটনা রয়েছে। বা’ব ধর্মোপদেশ প্রদান ও ধর্মগ্রন্থ পাঠ করার জন্য বেদির ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিলেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ইহার পরিবর্তে, ঈশ্বরের বাণী স্পষ্টরূপে শ্রবণে সকলকে সমর্থ করার নিমিত্তে বক্তার জন্য মঞ্চের উপর একখানা চেয়ার রাখতে হবে।
এই আইনের মন্তব্য প্রসঙ্গে আব্দুল-বাহা এবং শৌগী এফেন্দী এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মাশ্রিকুল আয্কার (যেখানে ধর্মোপদেশ প্রদান নিষিদ্ধ, কেবল পবিত্র ধর্মগ্রন্থের বাণী পাঠ করা যেতে পারে), এখানে পাঠক দাঁড়াতে বা বসতে পারে। কিন্তু যদি স্পষ্টতরভাবে শ্রবণের জন্য প্রয়োজন হয় তাহলে একটি অল্প উচ্চতাবিশিষ্ট অস্থায়ী মঞ্চ ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু বেদি অনুমোদনীয় নয়। তাঁর ফলকলিপিসমূহের একটিতে যে কোন স্থানে বেদির ব্যবহার নিষেধ সম্পর্কে বারংবার উল্লেখ করেছেন, আব্দুল-বাহা জোর দিয়ে বলেন যে, বাহা’ইরা যখন জনসমাবেশসমূহে তাদের বক্তব্য প্রদান করবে, তখন তাদেরকে তা একটি অত্যন্ত বিনম্র ও আত্মত্যাগী মনোভাব সহকারে করতে হবে ।

169. জুয়াখেলা ¶155
এই নিষেধাজ্ঞায় যেসব কার্যকলাপকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা বাহা’উল্লাহর লিখনাবলীতে ব্যাখ্যা করা হয় নাই। আব্দুল-বাহা ও শৌগী এফেন্দী উভয়েই যেরূপ উল্লেখ করেছেন  এই বিস্তারিত নির্দিষ্টকরণের দায়িত্ব সার্বজনীন বিচারালয়কে দেওয়া হয়েছে। লটারিসমূহ, ঘোড়-দৌড় এবং ফুটবল খেলা, বিংগো এবং অনুরূপ কিছুর দফার উপর বাজী ধরা জুয়াখেলার নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত কি-না এই প্রশ্নের উত্তরে সার্বজনীন বিচারালয় প্রকাশ করেছেন যে, ইহা এইরূপ একটি বিষয় যা ভবিষ্যতে বিস্তারিতভাবে বিবেচিত হবে। ইতোমধ্যে এই বিষয়গুলি নিয়ে একটি সমস্যা সৃষ্টি করার জন্য এবং এটা ব্যক্তি বিশ্বাসীদের বিবেকের উপর ছেড়ে দিতে পরিষদসমূহকে ও ব্যক্তিবর্গকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিচারালয় নির্দেশ দিয়েছেন যে, লটারিসমূহ, প্রতিযোগিতামূলক লটারিতে অংশগ্রহণ, ভাগ্যের খেলা ইত্যাদির মাধ্যমে ধর্মের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা উপযুক্ত নয়।

170. আফিম সেবন ....কোন দ্রব্যের ব্যবহার.... যাহা মানব মন্দিরে আলস্য ও অসাড়তা সৃষ্টি করে এবং দেহের ক্ষতিসাধন করে ¶155
বাহা’উল্লাহ কিতাব-ই-আক্বদাস-এর শেষ অনুচ্ছেদে আফিম ব্যবহারের এই নিষেধাজ্ঞা পুনঃ পুনঃ ব্যক্ত করেছেন। এই বিষয়ে শৌগী এফেন্দী বিবৃত করেন যে, “একটি সুরুচিসম্পন্ন ও পবিত্র জীবন”-এর জন্য অত্যাবশ্যক প্রয়োজনসমূহের মধ্যে একটি হচ্ছে “আফিম সেবন এবং অনুরূপ অভ্যাস গঠনকারী মাদকদ্রব্যসমূহ সম্পূর্ণরূপে বর্জন”। হিরোইন, হ্যাশিশ এবং অন্যান্য ক্যানাবিশ যেমন মারিযুয়ানা থেকে প্রাপ্ত দ্রব্যসমূহ, এছাড়াও মতিভ্রমকারী ভেষজ দ্রব্য যেমন খঝউ, পেইয়োটি এবং অনুরূপ দ্রব্যাদি এই নিষেধের অন্তর্ভুক্ত রূপে গণ্য।
আব্দুল-বাহা লিখেছেন:
আফিম সম্বন্ধে, ইহা নোংরা এবং অভিশপ্ত। ইহার ব্যবহারকারীকে ঈশ্বর যে শাস্তি প্রদান করেন তা থেকে ঈশ্বর আমাদিগকে রক্ষা করুন। পরম পবিত্র গ্রন্থের মূল ভাষ্যানুসারে ইহা নিষিদ্ধ, এবং ইহার ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিন্দিত। যুক্তি প্রমাণ করে যে, আফিম সেবন এক প্রকার উন্মাদনা, এবং অভিজ্ঞতা সাক্ষ্য প্রদান করে যে, ইহার সেবনকারী মানবীয় রাজ্য থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়। ঈশ্বর এইরূপ এক জঘন্য কার্যের সম্পাদন থেকে সকলকে রক্ষা করুন, একটি কাজ যা মানুষের একেবারে প্রকৃত ভিতকে ধ্বংস করে দেয় এবং সেবনকারীকে চিরকালের জন্য নিঃস্ব করে। কারণ “আফিম আত্মাকে আঁকড়ে ধরে, যার জন্য সেবনকারীর বিবেক মরে যায়, তার মন নষ্ট হয়ে যায়, তার অনুভূতিসমূহ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ইহা স্বাভাবিক উত্তাপ নির্বাপিত করে। আফিম যে ক্ষতি সাধন করে, তার অপেক্ষা অধিকতর কোন ক্ষতি কল্পনা করা যায় না। ভাগ্যবান তারা যারা এর নামও উচ্চারণ করে না, তাহলে চিন্তা কর ঐ সেবনকারী কত চরম দুর্দশাগ্রস্ত।
হে তোমরা ঈশ্বরের প্রেমিকগণ! সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের এই কালচক্রে উৎপীড়ন ও বল প্রয়োগ, বাধ্যকরণ ও অত্যাচার একযোগে নিন্দিত। তা সত্ত্বেও, এটা আদেশাত্মক যে, যে কোন উপায়ে আফিম সেবন নিবারণ করতে হবে, যাতে হয়তো মানব জাতি এই অত্যন্ত শক্তিশালী উপদ্রব থেকে মুক্ত হতে পারে। এবং অন্যথায় দুঃখ এবং যন্ত্রণা তারই উপর পতিত হবে যে তার প্রভুর প্রতি কর্তব্য পালনে অপারগ হবে।
তাঁর ফলকলিপিসমূহের একটিতে আব্দুল-বাহা আফিম সম্বন্ধে বিবৃত করেছেন: “ব্যবহারকারী, বিক্রেতা ও ক্রেতা সবাই ঈশ্বরের বদান্যতা ও করুণা থেকে বঞ্চিত”।
আরও একটি ফলকলিপিতে আব্দুল-বাহা লিখেছেন:
হ্যাশিশ সম্বন্ধে তুমি উল্লেখ করেছ যে অনেক পারস্যবাসী ইহার ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। করুণাময় ঈশ্বর। সমস্ত মাদকদ্রব্যের মধ্যে এটা সর্বাপেক্ষা খারাপ এবং সুস্পষ্টভাবে ইহার নিষেধাজ্ঞা প্রকাশ করা হয়েছে। এর ব্যবহার চিন্তাকে এলোমেলো করে দেয় এবং আত্মার সম্পূর্ণ অসাড়তা ঘটায়। কেমন করে একজন লোক নারকীয় বৃক্ষের ফল অনুসন্ধান করতে পারে, এবং এর অংশ গ্রহণপূর্বক একটি দানবের গুণাবলীর উদাহরণ হতে পারে ? কেমন করে একজন লোক এই নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ব্যবহার করতে পারে এবং এইরূপে পরম করুণাময়ের আশীর্বাদ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে পারে?
অ্যালকোহল মনকে আচ্ছন্ন করে এবং মানুষকে অসংগতিপূর্ণ কাজে লিপ্ত করে, কিন্তু এই আফিম, নারকীয় বৃক্ষে এই নোংরা ফল, এবং এই অনিষ্টকর হ্যাশিশ্ মনকে সম্পূর্ণ বিলোপ করে, চেতনাকে নিশ্চল করে, আত্মাকে পাষাণে পরিণত করে, দেহকে ধ্বংস করে এবং মানুষকে হতাশাগ্রস্ত ও মতিচ্ছন্ন করে।
মনে রাখতে হবে যে, নির্দিষ্ট শ্রেণীর মাদকদ্রব্য গ্রহণের উপরোক্ত নিষেধাজ্ঞা একটি ডাক্তারি চিকিৎসার অংশরূপে যোগ্য চিকিৎসকগণ কর্তৃক ব্যবস্থাপত্র অনুয়ায়ী ব্যবহারকে নিষিদ্ধ করে না।

171. “সার্বভৌমত্বের নিদর্শনে মহা উত্থান-পতনের রহস্যটি’’ ¶157
শেখ আহ্মদ-ই-আহসাই (1753-1831), যিনি ছিলেন শেখী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং “যমজ জ্যোতিষ্ক, যারা বা’ব-এর ধর্মের আগমন বার্তা ঘোষণা করেছিলেন” তাদের প্রথম, ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, প্রতিশ্রুত মহাপুরুষের আবির্ভাবে সব কিছুর অবস্থান পরিবর্তিত হবে, শেষটি প্রথমে হবে, প্রথমটি শেষে। বাহা’উল্লাহ তাঁর একটি ফলকলিপিতে “সার্বভৌমত্বের নিদর্শনে মহা উত্থান-পতনের রহস্যটি’’র “নিদর্শন ও পরোক্ষ উল্লেখ” উদ্ধৃত করেন। তিনি বিবৃত করেন: “এই উত্থান-পতনের মাধ্যমে তিনি মর্যাদাপূর্ণ জনকে হীনপদস্থ এবং হীনপদস্থ জনকে মর্যাদাপূর্ণ করেছেন”, এবং তিনি স্মরণ করেন যে, “যিশুখ্রিষ্টের সময়ে তাহারা যাহারা তাহাদের শিক্ষার জন্য বিখ্যাত ছিল, প-িত ও ধার্মিক ব্যক্তিগণ তাঁহাকে অস্বীকার করিয়াছিল, পক্ষান্তরে হীনপদস্থ মৎসজীবীরা স্বর্গরাজ্যে প্রবেশের জন্য দ্রুত অগ্রসর হইয়াছিল”। (টীকা 172 দেখুন)। শেখ আহমদ আহ্সাই সম্বন্ধে অতিরিক্ত তথ্যের জন্য দি ডন ব্রেকার অধ্যায় 1 এবং 10 দেখুন।

172. এই “খাড়া আলিফ’’-এর শক্তি দ্বারা উত্তোলিত “ছয়’’ ¶157
তাঁর লিখনাবলীতে শেখ আহমদ আহ্সাই আরবী অক্ষর “ওয়াও”-এর উপর অত্যধিক জোর দেন। ডন ব্রেকারে নাবিল বিবৃত করেন যে, এই অক্ষর “বা’ব-এর জন্য স্বর্গীয় প্রত্যাদেশের একটি নূতন কালচক্রের আগমন সংকেত দিয়েছিল, এবং সেই সময় থেকে বাহা’উল্লাহ কিতাব-ই-আক্বদাস এইরূপ অনুচ্ছেদসমূহে “মহা উত্থান-পতনের রহস্যটি’’ এবং “সার্বভৌমত্বের নিদর্শন” ইত্যাদি পরোক্ষভাবে উল্লেখ করে আসছেন।
“ওয়াও” অক্ষরের নামটি তিনটি অক্ষর নিয়ে গঠিত: ওয়াও, আলিফ, ওয়াও। আব্জদের গণনানুসারে, এই অক্ষরগুলির প্রতিটির সংখ্যাসূচক মান হচ্ছে, যথাক্রমে 6, 1 এবং 6 । শৌগী এফেন্দী তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত প্রাচ্যের বিশ্বাসীদের মধ্যে একজনের কাছে একটি পত্রে আক্বদাস-এর এই শ্লোকটির একটি ব্যাখ্যা দান করেন। তিনি বিবৃত করেন যে, “খাড়া আলিফ”টি বা’ব-এর আগমন নির্দেশ করে। আলিফের পূর্বে আগত প্রথম অক্ষরটির মান ছয়, যা আলিফ পূর্বে আসে, যা পূর্ববর্তী ধর্ম বিধানসমূহ ও প্রকাশগণের একটি নিদর্শন যা বা’ব-এর সময়ের পূর্ববর্তী সময়ের নির্দেশক, পক্ষান্তরে তৃতীয় শব্দটি, ইহারও একটি সংখ্যাসূচক মান ছয় রয়েছে, যা বাহা’উল্লাহর সর্বোৎকৃষ্ট প্রত্যাদেশের নিদর্শন প্রকাশ করছে, আলিফটির পর যা প্রকাশ করা হয়েছিল।

173. অত্যাবশ্যক না হইলে তোমাদিগকে অস্ত্র বহন করিতে নিষেধ করা হইয়াছে ¶159
বাহা’উল্লাহ বায়ান-এর একটি আদেশকে সমর্থন করেন যাতে অত্যাবশ্যক না হলে অস্ত্র বহন করা অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। যে পরিস্থিতিগুলিতে কোন লোকের পক্ষে অস্ত্র বহন করা “অত্যাবশ্যক” হবে, এ বিষয়ে আব্দুল-বাহা একজন বিশ্বাসীকে একটি বিপজ্জনক পরিবেশে আত্মরক্ষার জন্য অনুমতি দেন। শৌগী এফেন্দী তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত একটি পত্রে আরও প্রকাশ করেছেন যে, একটি জরুরী অবস্থায়, যখন সাহায্যের জন্য আবেদন করার মত কোন বৈধ শক্তি নেই তখন একজন বাহা’ই তার জীবন রক্ষার্থে অনুমতিপ্রাপ্ত। আরও অনেকগুলি পরিস্থিতি রয়েছে যখন অস্ত্র প্রয়োজন হয় এবং বৈধভাবে ব্যবহার করা যাবে ; দৃষ্টান্তস্বরূপ, যেসব দেশে লোকেরা তাদের খাদ্য ও পোশাকের জন্য শিকার করে, এবং ধনুর্বিদ্যা, লক্ষ্য ভেদে নৈপুণ্য ও তরবারি দ্বারা আক্রমণ ও প্রতিরোধ করার কৌশলের অর্জনের অনুরূপ খেলাগুলিতে প্রয়োজন হয়। 
সামাজিক পর্যায়ে বাহা’উল্লাহ কর্তৃক ঘোষিত সমষ্টিগত নিরাপত্তার নীতিটি (গ্লিনিংস ফ্রম দি রাইটিংস অব্ বাহা’উল্লাহ্, ঈঢঠওও দেখুন) এবং শৌগী এফেন্দী কর্তৃক ব্যাখ্যায় (দি ওয়ার্ল্ড অর্ডার অব্ বাহা’উল্লাহ্-য় অভিভাবকের পত্র দেখুন) শক্তি প্রয়োগের বিলোপ করা হয়নি, বরং নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে “একটি পদ্ধতিতে শক্তিকে ন্যায়বিচারের সেবক করা হয়েছে” এবং যা একটি আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষাকারী বাহিনীর অস্তিত্ব ব্যবস্থা করে যা “সমগ্র রাষ্ট্রমন্ডলের জৈবিক ঐক্যকে রক্ষা করবে”। বিশারাৎ-এর ফলকলিপিতে বাহা’উল্লাহ আশা প্রকাশ করেন যে, “বিশ্বের সর্বত্র যুদ্ধের অস্ত্রগুলিকে পুনর্গঠনের যন্ত্রে পরিবর্তিত করা যাইতে পারে এবং মানুষের মধ্য হইতে কলহ ও বিবাদ দূরীভূত করা যাইতে পারে”।
অন্য একটি ফলকলিপিতে বাহা’উল্লাহ সমস্ত ধর্মের অনুসারীদের সাথে সাহচর্যের গুরুত্বের উপর জোর দেন; তিনি আরও বিবৃত করেন যে, “গ্রন্থ হইতে ধর্মযুদ্ধের আইনটি মোচন করা হইয়াছে”।

174. রেশমী বস্ত্র পরিধান করিতে তোমাদিগকে অনুমতি দেওয়া হইয়াছে ¶159
ইসলামী প্রথানুসারে, ধর্মযুদ্ধের সময় ব্যতীত, সাধারণতঃ পুরুষদের রেশমী বস্ত্র পরিধান নিষিদ্ধ ছিল। এই নিষেধাজ্ঞা, কোরআন-এর শ্লোকসমূহের উপর ভিত্তিশীল ছিল না বিধায় বা’ব এটা রহিত করেন।

175. পরম প্রভু, ....পোশাক পরিধান ও দাড়ি কাটার উপর অতীতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাসমূহ হইতে অব্যাহতি দিয়াছেন ¶159
পৃথিবীর ধর্মসমূহের আইন ও ঐতিহ্যগত প্রথায় পোশাক সম্বন্ধে অনেক বিধি-নিষেধের উৎপত্তি হয়েছিল। দৃষ্টান্তস্বরূপ, শিয়া ধর্মোপদেষ্টাগণ নিজেদের জন্য একটি বৈশিষ্ট্যসূচক মস্তকাবরণ ও লম্বা ও ঢিলা বহির্বাস পরিধানকে গ্রহণ করেন এবং একসময়ে, লোকদেরকে ইউরোপীয় পোশাক পরতে নিষেধ করেন। পয়গম্বরের পোশাকের স্বরূপ হওয়ার আকাক্সক্ষায় মুসলিম প্রথাও গোঁফ ছাঁটার ও দাড়ির দৈর্ঘ্য সম্বন্ধে বেশ কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করে।
বাহা’উল্লাহ কোন লোকের পোশাক ও দাড়ির উপর এসব সীমাবদ্ধতা তুলে দেন। তিনি এসব বিষয় ব্যক্তির “বিচক্ষণতার” উপর ছেড়ে দেন এবং একই সময় বিশ্বাসীদেরকে শোভনতার সীমাসমূহ লঙ্ঘন না করতে এবং পোশাক সম্বন্ধে সকল বিষয়ে মধ্যপথ অবলম্বন করতে বলেন।

176. হে ‘ক্কাফ’ ও রা*-এর ভূমি ¶164
ক্কাফ এবং রা হচ্ছে কিরমানের প্রথম দুইটি ব্যঞ্জনবর্ণ  ইরানের একটি নগর ও প্রদেশের নাম।

177. যাহা তোমার নিকট হইতে গুপ্তভাবে ও চুপিসারে চতুর্দিকে পরিব্যাপ্ত হইতেছে, তাহা আমরা উপলব্ধি করিতেছি ¶164
এই অনুচ্ছেদটি কিরমান শহরের সাথে সম্পর্কিত, মির্জা ইয়াহিয়ার অনুসরণকারী আজালীদের একটি দলের ষড়যন্ত্রসমূহের একটি উল্লেখ (টীকা 190 দেখুন)। তাদের মধ্যে মুল্লা জাফর, তার পুত্র শেখ আহমদ-ই-রুহি এবং মির্জা আকা খান-ই-কিরমানি (উভয়েই মির্জা ইয়াহিয়ার জামাতা), অধিকন্তু মির্জা আহমদ-ই-কিরমানি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারা শুধুমাত্র গোপনে ধর্মের বিরুদ্ধ ষড়যন্ত্র-ই করেনি, তারা নিজেদেরকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেও বিজড়িত করেছিল যা নাসিরুদ্দিন শাহ্-এর গুপ্তহত্যার শেষ সীমায় পৌঁছায়।

178. তোমরা সেই শেখ-এর কথা স্মরণ কর, যাহার নাম ছিল মুহাম্মদ হাসান ¶166
শেখ মুহাম্মদ হাসান, শিয়া ইসলামের নেতৃস্থানীয় ব্যাখ্যাকারদের মধ্যে একজন, বা’বকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। শিয়া ব্যবহারতত্ত্বের বৃহদাকার রচনাবলীর গ্রন্থকার, তিনি 1850 সালের নিকটবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করেন বলে শোনা যায়।
দি ডন ব্রেকার্স গ্রন্থে নাবিল, জীবন্ত বর্ণমালার একজন, মুল্লা আলী-ই-বস্তামি এবং শেখ মুহম্মদ হাসানের মধ্যে নজফে অনুষ্ঠিত পরস্পরের মুখোমুখি সাক্ষাৎকারের বর্ণনা প্রদান করেন। মুল্লা আলি বা’ব-এর প্রকাশের ঘোষণা দেন এবং তাঁর প্রত্যাদেশের শক্তির উচ্চ প্রশংসা করেন। উক্ত শেখের প্ররোচনায় মুল্লা আলিকে তাৎক্ষণিকভাবে একজন বিধর্মী ঘোষণা করা হয় এবং পরিষদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিচার করা হয়েছিল, ইস্তাম্বুলে পাঠানো হয়, এবং কঠোর পরিশ্রমের দন্ডাদেশ প্রদান করা হয়।

179. গম ও যব পরিষ্কারকারী ¶166
ইস্পাহানের বা’ব-এর ধর্ম গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি মুল্লা মুহম্মদ জাফর গনদুম-পাক-কুন সম্বন্ধে এটি একটি পরোক্ষ উল্লেখ। ফারসী বায়ান-এ তিনি “শিষ্যত্বের পোশাক পরিধানকারী” একজন হিসাবে উল্লেখিত ও প্রশংসিত হয়েছেন। দি ডন ব্রেকার্সে, নাবিল এই “গম পরিষ্কারক” কর্তৃক ঐশ্বরিক বাণীর অকপট গ্রহণ সম্বন্ধে এবং নতুন প্রত্যাদেশের প্রতি তার অত্যন্ত আগ্রহশীল পক্ষ সমর্থনের বিবরণ দেন। তিনি শেখ তার্বাসির দুর্গে প্রতিরক্ষাকারীদের দলে যোগদান করেছিলেন এবং ঐ অবরোধকালে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

180. মনোযোগী হও, যেন “নবী”, শব্দটি তোমাদিগকে এই মহামহিম ঘোষণা হইতে বাধাগ্রস্ত না করে ¶167
বাহা’উল্লাহ “অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন” লোকদেরকে সতর্ক করেন যে, পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে তাদের ব্যাখ্যাগুলি যেন ঈশ্বরের প্রকাশকে মেনে নেওয়া থেকে তাদেরকে বিরত না করতে পারে। প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীগণকে তাদের ধর্মের প্রতিষ্ঠাতার প্রতি তাদের নিষ্ঠা তাঁর প্রত্যাদেশকে ঈশ্বরের সর্বশেষ বাণীরূপে হৃদয়ঙ্গম করতে এবং পরবর্তী কোন বার্তাবাহকের আবির্ভাবের সম্ভাবনাকে অস্বীকার করার প্রবণতা যুগিয়েছে। ইহুদী ধর্মের, খ্রিষ্ট ধর্মের ও ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ ছিল। বাহা’উল্লাহ অতীত ধর্মবিধানসমূহের ও তাঁর নিজেরটি - উভয়ের সম্পর্কে সর্বশেষের ধারণাটি অস্বীকার করেন। মুসলিমদের সম্বন্ধে তিনি কিতাব-ই-ইক্কান-এ লিখেছিলেন যে, “কোরআন-এর লোকেরা .... ‘নবীদের সিলমোহর’ শব্দগুলিকে তাহাদের চক্ষুসমূহকে আবৃত করিতে”, “তাহাদের ধীশক্তিকে ক্ষীণ ও ম্লান করিতে, এবং তাঁহার বহুবিধ অনুকম্পার কৃপা হইতে তাহাদিগকে বঞ্চিত করিতে দিয়াছে”। তিনি দৃঢ়রূপে বলেন যে, “এই প্রসঙ্গটি.... সমগ্র মানবজাতির প্রতি একটি কঠিন পরীক্ষাস্বরূপ হইয়াছে”, এবং তাদের ভাগ্যে বিলাপ করছে “যাহারা এই শব্দগুলির প্রতি দৃঢ়সংলগ্ন থাকিয়া তাঁহাকেই অবিশ্বাস করিয়াছে, যিনি তাহাদের প্রকৃত অবতরণকারী”। বা’ব এই একই প্রসঙ্গের উল্লেখ করেন যখন তিনি তাদের সতর্ক করেছিলেন: “নামাবলীকে একটি পর্দার মত তোমাদিগকে তাঁহার নিকট হইতে আড়াল করিতে দিও না যিনি তাহাদের পরম প্রভু, এমন কি নবী নামটিও নহে, কারণ এইরূপ একটি নাম তাঁহার উচ্চারণের একটি সৃষ্টি ব্যতীত অন্য কিছু নহে।”

181. “প্রতিনিধিত্বের’’ কোন উল্লেখ তোমাদিগকে তাঁহারই সর্বময় কর্তৃত্ব হইতে বঞ্চিত না করে, যিনি ঈশ্বরের প্রতিনিধি ¶167
এখানে অনূদিত “প্রতিনিধিত্ব” শব্দটি মূল আরবীতে হচ্ছে “বিলায়েত”, যার “প্রতিনিধিত্ব”, “অভিভাবকত্ব”, “তত্ত্বাবধায়কত্ব” ও “উত্তরাধিকারিত্ব” সহ আরও কয়েকটি অর্থ রয়েছে। ইহা স্বয়ং ঈশ্বর, তাঁর বার্তাবাহক অথবা ঐ সমস্ত লোকদের সম্পর্কে ব্যবহৃত হয়, যারা একজন বার্তাবাহকের নিযুক্ত উত্তরাধিকারী।
আক্বদাস-এর এই শ্লোকে, বাহা’উল্লাহ এইরূপ ধারণাসমূহকে   বাস্তবিক “ঈশ্বরের প্রতিনিধি”, এই নব ঐশী প্রকাশের “সার্বভৌম ক্ষমতার” ন্যায্যতা স্বীকারে বাধাগ্রস্ত করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।

182. তোমরা করিমের কথা স্মরণ কর ¶170
হাজী মির্জা মুহম্মদ করিম খাঁন-ই-কিরমানি (1810-সিরকা 1873) সৈয়দ কাজিম  যিনি শেখ আহমদ-ই-আহ্সাই-এর নিযুক্ত উত্তরাধিকারী ছিলেন (টীকা 171 এবং 172 দেখুন)  এর মৃত্যুর পর শেখী সম্প্রদায়ের স্ব-নিযুক্ত নেতা ছিলেন। তিনি শেখ আহমদের শিক্ষা-দীক্ষার উন্নতি বিধানের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। যেসব মত তিনি প্রকাশ করেছিলেন তা তাঁর সমর্থক ও বিপক্ষদের মধ্যে একইভাবে বাদানুবাদের বিষয়বস্তু হয়েছিল। 
তিনি তাঁর যুগে নেতৃস্থানীয় প-িত ও ফলপ্রসূ গ্রন্থকারদের মধ্যে অন্যতম হিসাবে গণ্য ছিলেন, তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসংখ্য পুস্তক ও পত্র রচনা করেছিলেন - যা ঐ সময়ে অধ্যয়ন করা হতো। তিনি সক্রিয়ভাবে বা’ব ও বাহা’উল্লাহ উভয়ের বিরোধিতা করতেন, এবং বা’বকে ও তাঁর শিক্ষা-দীক্ষাকে আক্রমণ করার জন্য তাঁর প্রবন্ধসমূহ ব্যবহার করতেন। কিতাব-ই ইক্কান, বাহা’উল্লাহ তার রচনাবলীর ভাব ও বিষয়বস্তুর নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং সেগুলির মধ্য থেকে একটিকে বেছে নেন যার মধ্যে বা’ব-এর প্রতি অস্বীকারসূচক পরোক্ষ উল্লেখ ছিল। শৌগী এফেন্দী তাঁকে “অপরিমিতরূপে উচ্চাভিলাষী ও কপটাচারী” রূপে বর্ণনা করেন, এবং বর্ণনা করেন কিভাবে তিনি “শাহ্-এর বিশেষ অনুরোধে নূতন ধর্মটি ও ইহার শিক্ষাবলীকে তাঁর একটি প্রবন্ধে বিদ্বেষপূর্ণভাবে আক্রমণ করেছিলেন”।

183. হে তোমরা বাহা’র বিজ্ঞজনেরা ¶173
বাহা’উল্লাহ তাঁর অনুসারীদের মধ্যে বিজ্ঞজনদের উচ্চ প্রশংসা করেন। তাঁর চুক্তিপত্রের গ্রন্থে, তিনি লিখেছিলেন: “বাহা’র জনমন্ডলীর মধ্যে শাসকবর্গ ও বিজ্ঞজনেরা আশীষপূতঃ”। এই বিবৃতি উল্লেখ করে শৌগী এফেন্দী লিখেছেন:
এই পবিত্র কালচক্রে “বিজ্ঞজনেরা” একদিকে ঈশ্বরের ধর্মবাহুগণ; এবং অন্যদিকে শিক্ষকগণ এবং তাঁর শিক্ষা-দীক্ষার বিস্তারকারীগণ এরা ধর্মবাহুর মর্যাদাসম্পন্ন নয়, কিন্তু এরা শিক্ষাদান কার্যে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে। “শাসকবর্গ” সম্বন্ধে, এদেরকে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের সদস্য বুঝাচ্ছে। এইসব মহান ব্যক্তিবর্গের করণীয় কর্তব্য ভবিষ্যতে নির্ধারিত হবে।
ঈশ্বরের ধর্মবাহুগণ বাহা’উল্লাহ কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁদের উপর বিভিন্ন দায়িত্ব ন্যস্ত, বিশেষভাবে তাঁর ধর্ম রক্ষার ও প্রচারের দায়িত্বসমূহ। “বিশ্বাসীগণের স্মরণে” নামক গ্রন্থে আব্দুল-বাহা অন্যান্য বিখ্যাত বিশ্বাসীগণকে ধর্মবাহু রূপে উল্লেখ করেছিলেন, এবং তাঁর ইষ্টিপত্রে তিনি ধর্মের অভিভাবককে তাঁর বিচক্ষণতায় ধর্মবাহু নিযুক্ত করার একটি অনুবিধি যুক্ত করেছিলেন। শৌগী এফেন্দী প্রথমে কিছুসংখ্যক বিশ্বাসীকে মরণোত্তর ধর্মবাহুর পদে উন্নীত করেছিলেন, এবং তাঁর জীবনের শেষ ভাগে সবগুলি মহাদেশ থেকে মোট 32 জন বিশ্বাসীকে এই পদে নিযুক্ত করেছিলেন। 1957 সালে শৌগী এফেন্দীর মৃত্যুর এবং 1963 সালে সার্বজনীন বিচারালয়ের নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়কালে, বাহা’উল্লাহর প্রাথমিক পর্যায়ের বিশ্ব রাষ্ট্রমন্ডলীর কান্ডারী হিসাবে ধর্মবাহুগণ তাঁদের যোগ্যতায় ধর্মের বিষয়াদি পরিচালনা করেন (টীকা 67 দেখুন)। 1964 সালের নভেম্বরে, সার্বজনীন বিচারালয় সিদ্ধান্তে আসেন যে, ইহা ধর্মবাহু নিযুক্ত করাকে সম্ভব করার জন্য আইন প্রণয়ন করতে পারে না। এর পরিবর্তে, 1968 সালে বিচারালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্মের রক্ষণ ও প্রচার সংক্রান্ত ধর্মবাহুদের করণীয় কার্যকলাপ মহাদেশীয় উপদেষ্টা বোর্ড গঠন এবং 1973 সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠার দ্বারা ভবিষ্যতে সম্প্রসারিত করা হয়েছিল, যার একটি আসন পবিত্রভূমিতে রয়েছে। 
সার্বজনীন বিচারালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্রের উপদেষ্টা সদস্য এবং মহাদেশীয় উপদেষ্টাদের নিয়োগ করেন। সাহায্যকারী বোর্ডের সদস্যগণ মহাদেশীয় উপদেষ্টাদের দ্বারা নিযুক্ত হন। এই সকল ব্যক্তি শৌগী এফেন্দী কর্তৃক উপর্যুক্ত উদ্ধৃতিতে “বিজ্ঞজন”-এর সংজ্ঞায় পড়েন।

184. গ্রন্থটির যাহা কিছু তোমাদিগের বোধগম্য নহে, তাহার জন্য তোমরা তাঁহারই শরণাপন্ন হইবে যিনি বৃক্ষের শক্তিশালী কা- হইতে শাখা বিস্তার করিয়াছেন ¶174
তাঁহার পবিত্র আদেশের ব্যাখ্যার অধিকার বাহাউল্লাহ্ আব্দুল বাহা’র উপর অর্পণ করিয়াছেন (145 নং টিকাও দেখুন)।

185. জ্ঞানাতীত একত্বের বিদ্যাপীঠ ¶175
এই শ্লোকে এবং ইহার অব্যবহিত পরেরগুলিতে বাহা’উল্লাহ যে সকল কারণে কিছু সংখ্যক বা’বী বায়ান-এর প্রতিশ্রুত পুরুষরূপে তাঁর দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল সেগুলির একটির সম্মুখীন হয়েছিলেন। তাদের প্রত্যাখ্যান বা’ব কর্তৃক “তাহাকে যাহাকে ঈশ্বর প্রকাশ করিবেন”-এর প্রতি লিখিত একটি ফলকলিপির ভাষ্যের উপর ভিত্তিশীল ছিল যার বিপরীত পার্শ্বে বা’ব লিখেছিলেন, “তাহার ক্ষণিক দৃষ্টি ঈশ্বর যাহাকে প্রকাশ করিবেন প্রাথমিক বিদ্যালয় এই পত্র আলোকিত করুক”। এই ফলকলিপি সিলেকশান্স ফ্রম দি রাইটিংস অব দি বা’ব গ্রন্থে প্রকাশিত।
   এই সকল বা’বী দৃঢ়তার সাথে বলেছিল যে, যেহেতু বাহা’উল্লাহ বা’ব অপেক্ষা দুই বৎসরের বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন, সেই হেতু “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে” এই ফলকলিপি তাঁর পক্ষে লাভ করা সম্ভব ছিল না।
এখানে বাহা’উল্লাহ ব্যাখ্যা করেন যে, এই উদ্ধৃতিটি এই অস্তিত্ব জগৎকে ছাড়িয়ে আধ্যাত্মিক জগৎসমূহে সংঘটিত ঘটনাবলীর অন্তর্ভুক্ত।

186. আমরা ঈশ্বরের শ্লোকসমূহ গ্রহণ করিয়াছিলাম, যাহা তিনি আমাদিগকে প্রদান করিয়াছিলেন ¶175
তাঁর প্রতি “তাহাকে যাহাকে প্রকাশ করিবেন” লিখিত ফলকলিপিতে বা’ব তাঁর পক্ষ থেকে বাহা’উল্লাহর প্রতি বায়ান’কে একটি নৈবেদ্যস্বরূপ আখ্যায়িত করেন। সিলেকশান্স ফ্রম দি রাইটিংস অব দি বা’ব দেখুন।

187. হে বায়ানের জনমন্ডলী ¶176
বা’ব-এর অনুসারীদের উল্লেখ।

188. ‘হ’ এবং ‘ও’ অক্ষরদ্বয় সংযুক্ত এবং একত্রে গ্রথিত ¶177
শৌগী এফেন্দী তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত পত্রসমূহে “হ এবং ও” অক্ষরের গূঢ় তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছেন। এগুলি “হও’ শব্দ গঠন করে, যা তিনি বিবৃত করেন, “ঈশ্বরের সৃজনী শক্তির অর্থ প্রকাশ করে যিনি তাঁর আদেশের মাধ্যমে সমস্ত বস্তুকে অস্তিত্বপ্রাপ্ত করেন”, এবং “ঈশ্বরের প্রকাশের শক্তি, তাঁর মহান আধ্যাত্মিক সৃজনী শক্তি”।
মূল আরবীতে আদেশব্যঞ্জক “হও” শব্দটি “ক্কাফ” এবং “নুন” অক্ষরদ্বয় দ্বারা গঠিত “কুন” শব্দ। সেগুলি শৌগী এফেন্দী কর্তৃক উপর্যুক্ত রীতিতে অনূদিত হয়েছে। এই শব্দটি সৃষ্টিকে অস্তিত্বপ্রাপ্ত হতে ঈশ্বরের আদেশের প্রতীক রূপে কোরআনে ব্যবহৃত হয়েছে।

189. এই নতুন বিশ্ব-নিয়মতন্ত্র ¶181
ফারসী বায়ান-এ বা’ব বিবৃত করেন : “মঙ্গল তাহারই, যে বাহা’উল্লাহর নিয়মতন্ত্রের উপর তাহার স্থিরদৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং তাহার পরম প্রভুর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে। কারণ, নিশ্চিতরূপে তাঁহাকে প্রকাশিত করা হইবে। ঈশ্বর বাস্তবিকই অপরিবর্তনীয়ভাবে বায়ান-এ ইহা প্রতিষ্ঠিত করিয়াছেন”। শৌগী এফেন্দী এই “নিয়মতন্ত্র”-কে আক্বদাস-এ বাহা’উল্লাহর মনশ্চক্ষে দৃষ্ট পদ্ধতির সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত করেন, যাতে তিনি মানব জীবনের উপর ইহার আমূল পরিবর্তনকারী ফলাফলের সাক্ষ্য প্রদান করেন এবং আইনসমূহ ও নীতিমালা প্রকাশ করেন যা ইহাকে কার্যসমূহ পরিচালনা করে।
“নতুন বিশ্ব-নিয়মতন্ত্রের” বৈশিষ্ট্য সমূহ বাহা’উল্লাহ ও আব্দুল বাহা’র লিখনাবলী এবং শৌগী এফেন্দী ও সার্বজনীন বিচারালয়ের পত্রসমূহে পুঙ্খনুপুঙ্খরূপে বর্ণিত হয়েছে। বর্তমান দিনের বাহা’ই প্রশাসনিক নিয়মতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলি যা বাহা’উল্লাহর বিশ্ব-নিয়মতন্ত্রের “কাঠামোগত ভিত্তি” গঠন করে, সেগুলি বর্ধিত হবে এবং বাহা’ই বিশ্ব রাষ্ট্র-মন্ডলীতে বিকশিত হবে। এই বিষয়ে শৌগী এফেন্দী দৃঢ়রূপে বলেন যে, যখন প্রশাসনিক নিয়মতন্ত্রে “ইহার সহায়ক অংশসমূহ, ইহার গঠনমূলক প্রতিষ্ঠানসমূহ, দক্ষতা ও উদ্দীপনা সহকারে কাজ করতে শুরু করবে, ইহার দাবি নিশ্চয়তার সাথে উপস্থাপন করবে এবং ইহার সামর্থ্য প্রদর্শন করবে কেবল মূল চালিকাশক্তিরূপে নয় - বরং সময়ের পূর্ণতায় সমগ্র মানব জাতিকে পরিবেষ্টন করার লক্ষ্যে নতুন বিশ্ব-নিয়মতন্ত্রের প্রকৃত দৃষ্টান্তরূপে গণ্য হবে”।
এই নতুন বিশ্ব-নিয়মতন্ত্রের ক্রমবিকাশ সম্বন্ধে অতিরিক্ত তথ্যের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ, বাহা’উল্লাহর বিশ্ব-নিয়মতন্ত্রে প্রকাশিত শৌগী এফেন্দীর পত্রগুলি দেখুন।

190. হে কু-প্রবৃত্তির উৎস ¶184
ইহা সুভ্-ই-আজল (অনন্তকালের প্রভাত) রূপে পরিচিত, বাহা’উল্লাহর এক কনিষ্ঠ বৈমাত্রেয় ভ্রাতা মির্জা ইয়াহিয়ার প্রতি একটি উল্লেখ, যিনি তাঁর বিরুদ্ধে উত্থিত হন এবং তাঁর ধর্মের বিরুদ্ধাচরণ করেন। আসন্ন প্রতিশ্রুত মহাপুরুষের প্রকাশ অবধি বা’বী সম্প্রদায়ের জন্য প্রধান নেতারূপে সেবাদানের জন্য মির্জা ইয়াহ্য়িা বা’ব কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। সৈয়দ মুহম্মদ-ই-ইস্ফাহানির প্ররোচনায় (টীকা 192 দেখুন), মির্জা ইয়াহিয়া বা’ব কর্তৃক ন্যস্ত দায়িত্বের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেন, এবং তাঁর উত্তরাধিকারী বলে দাবি করেন, এবং বাহা’উল্লাহ্্ বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন, এমন কি তাঁকে হত্যা করাতে চেষ্টা করেন। যখন বাহা’উল্লাহ আদ্রিয়ানাপোলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কাছে তাঁর দৌত্য ঘোষণা করেন তখন মির্জা ইয়াহিয়া একটি স্বাধীন প্রত্যাদেশের প্রাপক বলে নিজের দাবি তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁর প্রতি সাড়া দেন। অবশেষে অল্প কয়েকজন ব্যতীত সবাই তার মিথ্যা দাবি প্রত্যাখ্যান করে। যারা আজালিস্ রূপে পরিচিত হয়। (টীকা 177 দেখুন)। শৌগী এফেন্দী তাঁকে “বা’ব-এর চুক্তিপত্রের প্রধান ভঙ্গকারী” রূপে বর্ণনা করেন (গড পাসেস বাই, অধ্যায় 10 দেখুন)।

191. স্মরণ কর কিভাবে ধর্মের সেবার জন্য আমরা তোমাকে দিবা-রাত্র প্রতিপালন করিয়াছিলাম ¶184
গড পাসেস বাই গ্রন্থে, শৌগী এফেন্দী এই ঘটনাটি উল্লেখ করেন যে, বাহা’উল্লাহ্, যিনি মির্জা ইয়াহিয়ার চেয়ে তের বৎসরের বড় ছিলেন, তাঁকে উপদেশ দিয়েছিলেন এবং তাঁর শৈশব ও যৌবন কালে তাঁর তত্ত্বাবধান করেছিলেন।

192. ঈশ্বর তাহাকে করায়ত্ত করিয়াছেন, যে তোমাকে বিপথগামী করিয়াছে ¶184
এটি সৈয়দ মুহম্মদ-ই-ইস্ফাহানির প্রতি একটি উল্লেখ, শৌগী এফেন্দী তাঁকে “বাহা’ই প্রত্যাদেশের বিরোধী” রূপে বর্ণনা করেছেন। তিনি একজন নীতিহীন চরিত্রের এবং অত্যন্ত আত্ম-অভিলাষী লোক ছিলেন যিনি বাহা’উল্লাহর বিরোধিতা করতে ও নিজের জন্য বার্তাবাহকত্বের দাবি করার জন্য মির্জা ইয়াহিয়াকে প্ররোচিত করেছিলেন (টীকা 190 দেখুন)। যদিও তিনি ছিলেন মির্জা ইয়াহিয়ার একজন ভক্ত, তবুও সৈয়দ মুহম্মদকে বাহা’উল্লাহর সঙ্গে আক্কায় নির্বাসিত করা হয়েছিল। তিনি বাহা’উল্লাহর বিরুদ্ধে লোকদের উত্তেজিত ও ষড়যন্ত্র করা অব্যাহত রেখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতিসমূহের বর্ণনায় শৌগী এফেন্দী গড পাসেস বাই গ্রন্থে লিখেছেন:
“এক নতুন বিপদ এখন সুস্পষ্টরূপে বাহা’উল্লাহর জীবনের উপর ঘনিয়ে এলো। যদিও তিনি স্বয়ং বিভিন্ন উপলক্ষে, তাঁর অনুসারীদেরকে মৌখিক ও লিখিত উভয় প্রকারে তাদের উৎপীড়কদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন, এমন কি একজন দায়িত্বহীন আরব ধর্মান্তরিত ব্যক্তিকে বৈরুতে ফেরত পাঠিয়েছিলেন, যে তার প্রিয়তম প্রভু যেসব অত্যাচার বরদাস্ত করেছিলেন, তার প্রতিশোধ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছিল; সঙ্গীদের মধ্যে সাত জন গোপনে তাদের উৎপীড়কদের মধ্যে তিন জনকে খুঁজে বের করে হত্যা করেছিল, যাদের মধ্যে সৈয়দ মুহম্মদ এবং আকা’জান ছিল।”
একটি অত্যাচারিত সম্প্রদায় যে আতঙ্কগ্রস্ত হলো তা ছিল বর্ণনাতীত। বাহা’উল্লাহর ঘৃণামিশ্রিত ক্রোধের সীমা ছিল না। এই কাজ সংঘটিত হওয়ার অব্যবহিত পরে একটি প্রকাশিত ফলকলিপিতে তিনি এইভাবে তাঁর মনের আবেগ প্রকাশ করেন, “আমাদের উপর যাহা পতিত হইয়াছিল তাহা যদি আমরা উল্লেখ করি, আকাশসমূহ বিদীর্ণ হইবে এবং পর্বতসমূহ খ- খ- হইয়া ভাঙ্গিয়া পড়িবে”। তিনি আর এক উপলক্ষে লিখেছিলেন, “আমার বন্দীদশা আমার কোন ক্ষতি করিতে পারে না। যাহা কিছু আমার ক্ষতি করিতে পারে তাহা হইল তাহাদেরই আচরণ যাহারা আমাকে ভালবাসে, যাহারা আমার সহিত সম্পর্কযুক্ত বলিয়া দাবি করে এবং তথাপি এইরূপ অসৎকর্ম সম্পাদন করে যাহা আমার হৃদয়কে ও আমার লেখনীকে আর্তনাদ করায়।”

193. একটিমাত্র ভাষা বাছিয়া লও এবং অনুরূপভাবে তোমরা একটি অভিন্ন বর্ণমালা গ্রহণ কর। ¶189
বাহা’উল্লাহ একটি সার্বজনীন ভাষা ও বর্ণমালা প্রবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর লিখনসমূহ এই প্রক্রিয়ায় দুইটি পর্যায় বিবেচনা করে। প্রথম পর্যায়ের একটি বিদ্যমান ভাষার নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত করে অথবা একটি আবি®কৃত ভাষা যা মাতৃভাষাসমূহের একটি সহায়করূপে পৃথিবীর সমস্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষা দিতে হবে। বিশ্বের সরকারগুলিকে তাদের সংসদের মাধ্যমে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ আইনকে কার্যকরী করতে আহ্বান করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়টি হবে, সুদূর ভবিষ্যতে, পৃথিবীর সকলের জন্য একটি মাত্র ভাষা ও একটি সাধারণ বর্ণমালার সার্বজনীন প্রবর্তন।

194. আমরা মানবজাতির বয়ঃপ্রাপ্তির দুইটি সংকেতচিহ্ন ধার্য   করিয়াছি ¶189
বাহা’উল্লাহর লিখনাবলীতে উল্লেখিত মানবজাতির বয়ঃপ্রাপ্তির প্রথম লক্ষণ হচ্ছে একটি বিজ্ঞানের উদ্ভব যা “স্বর্গীয় দর্শন” রূপে বর্ণিত, যা পদার্থসমূহের রূপান্তরপ্রাপ্তির একটি মৌলিক রীতির আবিষ্কারকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এটি জ্ঞানের ভবিষ্যৎ বিস্ময়কর প্রসারণের দীপ্তিসমূহের একটি আভাস।
“দ্বিতীয়” লক্ষণটি সম্বন্ধে কিতাব-ই-আক্বদাস-এ প্রকাশিত করা হয়েছে বলে বাহা’উল্লাহ উল্লেখ করেন; শৌগী এফেন্দী বিবৃত করেন যে, বাহা’উল্লাহ “তাঁর পরমপবিত্র গ্রন্থে পৃথিবীতে বসবাসকারী সকলের জন্য মাত্র একটি ভাষা মনোনয়নের ও একটি সার্বজনীন বর্ণমালা প্রবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। ইহা এমন এক নির্দেশ, যখন ইহা পালিত হবে, সে সম্বন্ধে তিনি ঐ গ্রন্থে দৃঢ়রূপে বলেছেন, তা “মানবজাতির বয়ঃপ্রাপ্তির” নিদর্শনসমূহের একটি হবে। 
মানবজাতির বয়ঃপ্রাপ্তির এই প্রক্রিয়া এবং পূর্ণতা প্রাপ্তির অগ্রগমনের উপর আরও অন্তর্দৃষ্টি বাহা’উল্লাহর নিলখিত বিবৃতিতে প্রদান করা হয়েছে:
বিশ্বের পূর্ণতা প্রাপ্তির নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি হইল রাজার মর্যাদার গুরুদায়িত্ব কেহ গ্রহণ করিবে না। কাহারো নিকট রাজার মর্যাদা থাকিবে না যে ইহার গুরুদায়িত্ব একা বহন করিতে ইচ্ছুক। ঐ দিবস হইবে সেই দিবস যখন মানবজাতির মধ্যে বিজ্ঞতা সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হইবে।
মানবজাতির বয়ঃপ্রাপ্তিকে শৌগী এফেন্দী সমগ্র মানবজাতির ঐক্যসাধনের, একটি বিশ্ব রাষ্ট্রমন্ডলীর প্রতিষ্ঠার এবং “সমগ্র মানবজাতির বুদ্ধিবৃত্তিগত, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের” এক নজিরবিহীন উদ্দীপনার সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন।

